গুরুর নির্দেশ মেনে কি নির্বাণ লাভ করা সম্ভব?
❓প্রশ্ন:
নির্বাণ আসলে কী? এর কি আসলেই কোনো অস্তিত্ব আছে? আমি শুনেছি যে গুরুর (উৎস বা ঈশ্বর) পক্ষ থেকে কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশ থাকে, এবং সেগুলো মেনে চললেই নির্বাণ লাভ করা যায়। আর পথপ্রদর্শক হওয়া নাকি এক ধরনের ‘ঈশ্বর-ঈশ্বর’ খেলা। এই বিষয়ে আপনার মতামত কী তা জানতে চাই।
❗️lee-র উত্তর:
আমরা নির্বাণের বিষয়টি নিয়ে আগে অনেকবার আলোচনা করেছি। কিন্তু নির্বাণ লাভের জন্য অন্যের নির্দেশ পালন করতে হবে—এমন অদ্ভুত কথা আমি এই প্রথম শুনলাম। সত্যিই তো, এর চেয়ে অদ্ভুত উপায়ে বিষয়টিকে ঘুরিয়ে দেখার চেষ্টা আমি আর দেখিনি 😊
এর মধ্যে জকচেনের (Dzogchen) আঘ্রাণ পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে শুরুতে ‘বুদ্ধের শিক্ষার’ দোহাই দেওয়া হলেও পরে দাবি করা হয় যে বুদ্ধ যা বলেছিলেন তা ভুল ছিল এবং নির্বাণ কেবল গুরুর ইচ্ছা অনুযায়ী অর্জিত হয়। আর বলাই বাহুল্য, নির্বাণ কেবল সেই তথাকথিত ‘জকচেন গুরুদের’ মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব—তারা নিজেদের যে নামেই ডাকুক না কেন—যারা দাবি করেন যে তারা কোনো এক বিশেষ ‘শক্তি’ সঞ্চার করেন... অথবা তারা আসলে কী সঞ্চার করেন তা ঈশ্বরই জানেন, কারণ সেখানে প্রকৃত নির্বাণ পাওয়া মানুষের দেখা মেলা ভার হলেও তথাকথিত ‘মাস্টারদের’ পায়ে পড়ে থাকা মোহগ্রস্ত অনুসারীদের অভাব নেই।
নির্বাণ হলো ‘নিজের’ সাথে আপনার একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক। আর কারো সাথে নয়।
কৌশলগতভাবে দেখলে, আপনি যখন আপনার অহং বা ইগোর পর্দা সরিয়ে নিজের (উৎসের) চোখে ঘটনাপ্রবাহকে দেখেন, তখনই সরাসরি উপলব্ধি ঘটে। এটি ত্রিমাত্রিক জগতের জন্য হৃদয়ের একটি পর্যায়, যেখানে অহং গঠনের প্রাথমিক স্তরে থাকে। নির্বাণ কোনো কাজের পুরস্কার নয়, বরং এটি হলো অহং গঠনের বিবর্তনীয় সমাপ্তি। যখন এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়, তখন বিকাশের পরবর্তী ধাপ হলো বিশ্বের সাথে একাত্ম হওয়া। এর অর্থ হলো অহং তখন আর বাইরের জগতের সাথে কোনো বিভেদ তৈরি করে না এবং ব্যক্তির অস্তিত্ব বজায় রেখেই জগত ও ব্যক্তিত্ব এক হয়ে যায়।
তখন হৃদয়ের স্পন্দনই প্রধান হয়ে ওঠে (সরাসরি উপলব্ধি), আর মন কেবল তার নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করে—অর্থাৎ ভৌত জগতের পথচলা ও দিকনির্ণয় নিয়ন্ত্রণ করে।
পরবর্তীতে ‘আমি-আমরা-এক’ এই বোধের প্রসারের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে। অর্থাৎ এটি একটি বিকাশের পর্যায়, কোনো স্থবির মতবাদ নয়। তদুপরি, মনের গুরুত্ব তখন ‘কর্তা’ থেকে কমে একটি ‘যন্ত্রের’ পর্যায়ে নেমে আসে এবং বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে মন আরও বেশি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকরী হয়ে ওঠে।




