দাভোস ফোরাম ২০২৬: গ্রিনল্যান্ড বিতর্ক ও ন্যাটোর উত্তেজনার মাঝে ইউক্রেন শান্তি আলোচনা

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনটি দুটি প্রধান কূটনৈতিক মেরুকরণের সাক্ষী হয়ে রইল। একদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে শান্তি আলোচনার অগ্রগতি এবং অন্যদিকে ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড ক্রয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ বিশ্ব নেতাদের মনোযোগের কেন্দ্রে ছিল। প্রায় চার বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের দেশগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

ইউক্রেন সংকট নিরসনে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি মস্কোতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, উদ্যোক্তা জ্যারেড কুশনার এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অংশ নেবেন। দাভোস সম্মেলনের ফাঁকে স্টিভ উইটকফ জানান যে, মস্কোর এই বৈঠকটি কূটনৈতিক সমাধানের পথে রাশিয়ার আগ্রহের একটি "উল্লেখযোগ্য বার্তা"। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০-দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার ৯০ শতাংশেরও বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যদিও আঞ্চলিক সীমানা সংক্রান্ত বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নিশ্চিত করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট পুতিনের সময়সূচীতে এই বৈঠকটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থান একটি বড় ধরনের ট্রান্স-আটলান্টিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। ২১ জানুয়ারি দাভোসে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন যে, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, দ্বীপটি অর্জনে তিনি শক্তি প্রয়োগ করবেন না, তবে তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলে বিষয়টি "স্মরণ রাখা হবে"। ডেনমার্ক এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকির মধ্যেই এই মন্তব্যটি এল। তবে ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয় এবং তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে ইচ্ছুক নয়।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের এই দাবির ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ইউরোপ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং ন্যাটোর বোঝা বহনে অক্ষম—ট্রাম্পের এমন মন্তব্যকে সরাসরি চাপ হিসেবে দেখছে ইউরোপ। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন মনে করেন, এই শুল্ক হুমকি ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এর জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং ইইউ আইনপ্রণেতারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই উত্তেজনার মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটোর "অপারেশন আর্কটিক এনডুরেন্স" (Operation Arctic Endurance) শুরু হয়েছে, যাকে অনেক ইউরোপীয় নেতা শুল্ক হুমকির পাল্টা জবাব হিসেবে দেখছেন। এদিকে পেন্টাগন ন্যাটো বাহিনীতে তাদের অংশগ্রহণ কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান ফাটলকেই স্পষ্ট করে।

দাভোস ফোরামের এই জটিল পরিস্থিতিতে একটি বড় সংকট দেখা দিয়েছে: গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিরোধের কারণে ইউক্রেনের জন্য প্রস্তাবিত ৮০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা পরিকল্পনাটি কার্যত আটকে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং ইউক্রেনের মধ্যে এই সহায়তা নিয়ে সমঝোতা হওয়ার কথা ছিল। একজন অজ্ঞাতনামা উচ্চপদস্থ ইইউ কূটনীতিক মন্তব্য করেছেন যে, "পরিস্থিতি বদলে গেছে" এবং "ট্রাম্প সীমা অতিক্রম করেছেন", যার ফলে ইউক্রেন ইস্যুটি কিছুটা আড়ালে পড়ে গেছে। এই আলোচনায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও অংশ নিয়েছিলেন, যাকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে "অকৃতজ্ঞ" বলে সমালোচনা করেন। পরিশেষে, ২০২৬ সালের দাভোস ফোরাম ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার সাথে আর্কটিক অঞ্চলে মার্কিন কৌশলগত স্বার্থের সংঘাতকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে, যা ইউরোপীয় অংশীদারদের সাথে বড় ধরনের কূটনৈতিক দূরত্বের সৃষ্টি করেছে।

21 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Online Khabar

  • Реальное время

  • Новини от Бургас

  • Al Jazeera

  • The Guardian

  • World Economic Forum Annual Meeting 2026

  • Onlinekhabar

  • Onlinekhabar

  • The Moscow Times

  • Reuters

  • The Washington Times

  • The Guardian

  • The Kyiv Independent

  • World Economic Forum

  • CBS News

  • Wikipedia

  • US-Denmark-Greenland: current state of play and future scenarios

  • Los Angeles Times

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।