গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন দূতকে তলব: ডেনমার্কের তীব্র প্রতিক্রিয়া
সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush
সোমবার, ২২শে ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে, কোপেনহেগেনে অবস্থিত ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি আলোচনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায়। এই কূটনৈতিক পদক্ষেপটি ছিল সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া। ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে একজন বিশেষ দূত নিয়োগ করেছিলেন, যিনি প্রকাশ্যে এই স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চলটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন।
ডেনিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লিক্কে রাসমুসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেন হাওয়ারির সঙ্গে আলোচনা করেন। সূত্রমতে, মন্ত্রী রাসমুসেন গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি নিযুক্ত বিশেষ দূতের বক্তব্যকে 'সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য' আখ্যা দেন এবং ডেনমার্ক রাজ্যের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করার বিষয়টি যে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না, তা স্পষ্ট করে দেন। এই বিশেষ দূত হলেন লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রি, যিনি পূর্বে ঘোষণা করেছিলেন যে গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার লক্ষ্যে এই স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করতে পেরে তিনি 'গর্বিত'।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওয়াশিংটনের এই আগ্রহের পেছনে জাতীয় নিরাপত্তার দিকটি তুলে ধরেছিলেন। তিনি পূর্বেও তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য বলপ্রয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। অন্যদিকে, ডেনিশ কর্তৃপক্ষ গ্রিনল্যান্ডীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একযোগে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে একটি সার্বভৌম ভূখণ্ড দখল আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথভাবে নিশ্চিত করেছেন যে দ্বীপটির ভবিষ্যৎ কেবল এর জনগণের দ্বারাই নির্ধারিত হবে এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানো অপরিহার্য।
এই কূটনৈতিক সংঘাত এমন এক সময়ে ঘটছে যখন সুমেরু অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সম্পদশালী দ্বীপটির প্রতি আগ্রহ অনেক বাড়িয়েছে। গ্রিনল্যান্ড তার কৌশলগত অবস্থান এবং বিরল মৃত্তিকা ধাতুর মজুদের কারণে বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করছে। বরফ গলে নতুন সমুদ্রপথ উন্মুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই আগ্রহ আরও বেড়েছে। একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ডেনিশ গোয়েন্দা সংস্থা ডিডিআইএস তাদের ২০২২ সালের প্রতিবেদনে ট্রাম্পের নীতির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যদিও ডেনমার্ক ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র।
ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলার জবাবে, ডেনমার্ক সুমেরু অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে ২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করার ঘোষণা দিয়েছে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। এই আঞ্চলিক অখণ্ডতার নীতিকে ইউরোপীয় কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে, যা এই বিষয়টির আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে। এই ঘটনাটি ন্যাটোর দুই মিত্রের মধ্যে গুরুতর উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যা একতরফা আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার ফল। একইসাথে, এটি সুমেরুকে কৌশলগত প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
6 দৃশ্য
উৎসসমূহ
beritasatu.com
The Washington Post
Reuters
CNA
The Japan Times
ArcticToday
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
