আবুধাবিতে মার্কিন মধ্যস্থতায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে ৩১৪ জন যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের ঐতিহাসিক চুক্তি
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তিন দেশীয় শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। দীর্ঘ পাঁচ মাস পর ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে ৩১৪ জন যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের বিষয়ে একটি সমঝোতা অর্জিত হয়েছে। যদিও দুই দেশের মধ্যে গভীর রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতপার্থক্য এখনো বিদ্যমান, তবুও এই চুক্তিটি নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি বাস্তব ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম কোনো বড় ধরনের মানবিক পদক্ষেপ।
২০২৬ সালের ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে কাজ করার পর উভয় পক্ষ তাদের অবস্থানে একমত হয়। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন স্টিভেন উইটকফ, যিনি ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইউক্রেনের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের (এনএসডিসি) সচিব এবং প্রধান আলোচক রুস্তম উমেরভ। তিনি এই সংলাপকে 'সারগর্ভ এবং ফলপ্রসূ' বলে অভিহিত করেছেন।
রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন কিরিল দিমিত্রিভ, যিনি ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ভ্লাদিমির পুতিন কর্তৃক বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সাথে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। দিমিত্রিভ এই প্রক্রিয়াকে একটি 'ইতিবাচক অগ্রগতি' হিসেবে বর্ণনা করলেও উল্লেখ করেছেন যে, ইউরোপীয় দেশগুলোর হস্তক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে। এর আগে, সর্বশেষ বড় ধরনের বন্দি বিনিময় হয়েছিল ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর, যেখানে ১৮৫ জন সামরিক সদস্য এবং ২০ জন বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ২০৫ জন ইউক্রেনীয় নিজ দেশে ফিরেছিলেন।
স্টিভেন উইটকফ জোর দিয়ে বলেন যে, এই বিনিময়ের ফলাফল প্রমাণ করে যে টেকসই কূটনৈতিক যোগাযোগ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানোর প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করতে পারে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। উল্লেখ্য যে, আবুধাবিতে এটি ছিল আলোচনার দ্বিতীয় রাউন্ড; প্রথম রাউন্ডটি ২০২৬ সালের ২৩-২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল। এই আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাবেক সিনিয়র উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারও অংশগ্রহণ করেছিলেন, যা আলোচনার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
এই আলোচনার প্রেক্ষাপট বেশ জটিল, বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার কারণে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই হামলাকে মার্কিন প্রস্তাবিত 'জ্বালানি যুদ্ধবিরতি'র লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এই সংঘাতের মধ্যেই রাশিয়া অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার ফেডারেল বাজেটে তেল ও গ্যাস থেকে প্রাপ্ত আয় ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় অর্ধেক কমে ৩৯৩.৩ বিলিয়ন রুবেলে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২০ সালের আগস্টের পর সর্বনিম্ন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই আয়ে বার্ষিক ৪৬% পতনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা মস্কোকে মানবিক ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দিতে উৎসাহিত করতে পারে। তবে আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সীমানা সংক্রান্ত মূল রাজনৈতিক বিরোধগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে, যা ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে শান্তি প্রক্রিয়ার প্রধান বাধা। আবুধাবিতে শুরু হওয়া এই আলোচনা আগামী সপ্তাহগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা নির্দেশ করে যে গভীর মতভেদ সত্ত্বেও উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের পথ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।
4 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Südtirol News
Корреспондент.net
SRF News
The National
Al Arabiya
Chinadaily.com.cn
The Kyiv Independent
Wikipedia
The Express Tribune
The Kyiv Independent
The National News
Associated Press
The Guardian
Arab News
Euromaidan Press
Reuters
CGTN
CBS News
The Moscow Times
The National News
El Mundo America
Reuters
MEO
Anadolu Agency
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
