আবুধাবিতে ইউক্রেন-রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় আলোচনা সমাপ্ত: ডনবাস ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে অচলাবস্থা

সম্পাদনা করেছেন: gaya ❤️ one

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ইউক্রেন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে দুই দিনব্যাপী ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দফা সম্পন্ন হয়েছে। আলোচনাটি ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় এবং এর মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ সমাপ্তির সম্ভাব্য শর্তাবলী, বিশেষত ডনবাস অঞ্চলের ভূখণ্ডগত মর্যাদা ও ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তার কাঠামো নির্ধারণ করা। আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক ও গঠনমূলক হিসেবে বিবেচিত হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি; তবে পক্ষগুলো পরবর্তী সপ্তাহে পুনরায় আলোচনার জন্য সম্মত হয়েছে।

এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন সময়ে ঘটল যখন ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেনের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু ও অবকাঠামোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বৃদ্ধি পায়, যা ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। আলোচনার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে ডনবাস অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ এবং পশ্চিমা নিরাপত্তা গ্যারান্টি বাস্তবায়নের পদ্ধতি চিহ্নিত হয়েছে। রাশিয়া স্পষ্টভাবে দাবি করেছে যে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীকে ডনবাসের বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো ছেড়ে দিতে হবে, যা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রত্যাখ্যান করেছেন, কারণ তিনি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে রক্ষা করা ভূমি হস্তান্তর করতে প্রস্তুত নন।

ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের (NSDC) সচিব রুস্তেম উমেরভ, যিনি পূর্বে ডেভিড আরাখামিয়া এবং আন্দ্রি হ্নাতোভের সাথে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। রাশিয়ার নিরাপত্তা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধান সামরিক গোয়েন্দা প্রধান অ্যাডমিরাল ইগর কোস্তিউকভ, যিনি জিআরইউ প্রধান হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক আলোচনায় বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই আলোচনাগুলো প্রায় চার বছর ধরে চলা সংঘাতের সম্ভাব্য সমাপ্তির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ নির্দেশ করে, যা বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম পরিচিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক।

কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে সামরিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ছিল। ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে রাশিয়ার বিমান হামলায় কিয়েভের বিদ্যুৎ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং কিয়েভে অন্তত একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটশকো বাসিন্দাদের চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে প্রয়োজনীয় সরবরাহ মজুত রাখার পরামর্শ দেন। এছাড়াও, রাশিয়ার দখলে থাকা জাপোরিঝিয়া নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের (ZNPP) নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ ভাগাভাগি নিয়েও প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়েছে।

অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের দিকটিও আলোচনায় স্থান পায়। বিশ্বব্যাংক অনুমান করেছে যে ইউক্রেনের অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য আনুমানিক ৫২৪ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, যা পূর্ববর্তী অনুমান থেকে ৭ শতাংশ বেশি। এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মূলধনের পাশাপাশি ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ বেসরকারি খাত থেকে ১৪০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অবদান রাখার আশা করা হচ্ছে। তৃতীয় দফা আলোচনা ফেব্রুয়ারির শুরুতে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে সামরিক বাস্তবতা এবং জটিল রাজনৈতিক দাবির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

15 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Sputnik Србија

  • POLITICO

  • ЈМУ Радио-телевизија Војводине

  • interpressnews.ge

  • The Kyiv Independent

  • Reuters

  • The Guardian

  • AL-Monitor

  • Kyiv Post

  • The Guardian

  • Al Jazeera

  • Institute for the Study of War

  • AP News

  • Kyiv Post

  • Anadolu Ajansı

  • Informer

  • N1

  • Politika

  • NIN

  • CBC News

  • The Kyiv Independent

  • Al Jazeera

  • Institute for the Study of War

  • The Guardian

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।