গণতন্ত্রের মশাল হাতে মারিয়া কোরিنا মাচাদো: ভেনেজুয়েলার নেত্রীর নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তি
সম্পাদনা করেছেন: gaya ❤️ one
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ২০২২ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ভেনেজুয়েলার প্রখ্যাত নেত্রী মারিয়া কোরিنا মাচাদোকে প্রদান করেছে। এই সম্মাননা তাঁকে ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণভাবে স্বৈরাচার থেকে গণতন্ত্রে রূপান্তরের জন্য তাঁর অদম্য সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো যখন বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন। মাচাদো, যিনি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর, বর্তমানে কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে চলছেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলিতে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তোলার পর তাঁর এই অনুপস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। নোবেল কমিটি তাঁকে "শান্তির জন্য এক সাহসী ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রক্ষক" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যিনি "ক্রমবর্ধমান অন্ধকারেও গণতন্ত্রের শিখা প্রজ্বলিত রেখেছেন"।
এই স্বীকৃতি কেবল একজন ব্যক্তির অর্জন নয়, বরং লাতিন আমেরিকার গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার এক শক্তিশালী প্রতিধ্বনি। মারিয়া কোরিنا মাচাদো প্যারিসকা, যিনি একজন শিল্প প্রকৌশলী এবং ভেন্তে ভেনেজুয়েলা (Vente Venezuela) রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা, দীর্ঘকাল ধরে নিকোলাস মাদুরোর শাসনের কট্টর সমালোচক। তিনি কেবল একজন বিরোধী নেত্রী নন, বরং বহু প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। পূর্বে ২০১৪ সালে তাঁকে জাতীয় পরিষদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, যা তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার একটি অংশ মাত্র। এই নিষেধাজ্ঞার পরেও তিনি তাঁর সংগ্রাম থামাননি, বরং আরও দৃঢ়তার সাথে গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর এই অবিচলতা এক গভীর বার্তা বহন করে যে, বাহ্যিক বাধাগুলি অভ্যন্তরীণ সংকল্পকে দুর্বল করতে পারে না। তাঁকে এই বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
এই পুরস্কার প্রাপ্তির প্রেক্ষাপটে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যান্য সম্ভাব্য বিজয়ীদের নিয়েও জল্পনা ছিল, যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও আলোচিত হয়েছিল। তবে কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি স্পষ্টতই মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে এক দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে। এই বছর মোট ৩৩৮ জন প্রার্থী ছিলেন, যার মধ্যে ২৪৪ জন ব্যক্তি এবং ৯৪টি সংস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল। মাচাদোর পূর্বে নেলসন ম্যান্ডেলা এবং আকিফ গুরবানোভ-এর মতো ব্যক্তিত্বরা এই সম্মান লাভ করেছেন। মাচাদোর এই সংগ্রামকে এক অসাধারণ নাগরিক সাহসিকতার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি ১৯৯২ সালে কারাকাসের পথশিশুদের কল্যাণে আতেনিয়া ফাউন্ডেশন (Atenea Foundation) প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে ২০০২ সালে সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে কাজ করা সুমাতে (Súmate) সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হন। তাঁর জীবনযাত্রা প্রমাণ করে যে, যখন কোনো ব্যবস্থার অন্ধকার গভীর হয়, তখন কিছু মানুষ আলোর উৎস হয়ে ওঠেন, যা অন্যদের পথ দেখায়। এই পুরস্কার ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য এক নতুন আশার সঞ্চার করলো, যা দেখায় যে জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছা এবং অবিচল সংকল্পের সামনে কোনো কর্তৃত্ববাদী শক্তি চিরস্থায়ী হতে পারে না। তাঁর এই অর্জন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গণতন্ত্রের মূল্যবোধকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার এক সুযোগ।
উৎসসমূহ
Clarin
Infobae
Euronews
Onda Cero Radio
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
