এআই গ্রহণে জি৭-এ নেতৃত্ব দিতে যুক্তরাজ্যের লক্ষ্য: রীভসের ২.৫ বিলিয়ন পাউন্ড প্রযুক্তি তহবিল ঘোষণা
সম্পাদনা করেছেন: Aleksandr Lytviak
যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর অফ দ্য এক্সচেকার রচেল রীভস তাঁর নতুন অর্থনৈতিক রূপরেখায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গ্রহণে জি৭ (G7) দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যকে দ্রুততম অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। এই কৌশলগত ঘোষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উন্নত কম্পিউটিং, বিশেষত কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের জন্য ২.৫ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি নতুন তহবিল প্যাকেজ। এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি জানুয়ারি ২০২৬-এ অপ্রত্যাশিতভাবে স্থবির (শূন্য প্রবৃদ্ধি) হয়েছিল।
চ্যান্সেলর রীভস সিটি অফ লন্ডনে তাঁর বার্ষিক মেইস বক্তৃতায় এই অর্থনৈতিক দর্শন তুলে ধরেন, যেখানে তিনি দশকের জন্য 'তিনটি বড় পছন্দ' নির্ধারণ করেন: ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক গভীর করা, এআই এবং উদ্ভাবনকে চ্যাম্পিয়ন করা, এবং ব্রিটেনের প্রতিটি অংশে বৃদ্ধি উৎসাহিত করা। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য, সরকার উন্নত প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। ঘোষিত ২.৫ বিলিয়ন পাউন্ডের প্যাকেজের মধ্যে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এর জন্য সর্বোচ্চ ১ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি ক্রয় কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত, যার লক্ষ্য বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত কোয়ান্টাম কম্পিউটারগুলির প্রোটোটাইপ তৈরি করা। উপরন্তু, এপ্রিল ২০২৬-এ প্রযুক্তি সংস্থা ওয়েভ (Wayve)-এ ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি 'সার্বভৌম এআই তহবিল' চালু করা হবে, যা ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোকে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা করার জন্য তহবিল ও সহায়তা দেবে।
যুক্তরাজ্যের বর্তমান এআই ব্যবহারের চিত্র উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিপরীতে একটি চ্যালেঞ্জিং বাস্তবতা তুলে ধরে। যদিও ফ্রান্স ৪৪% কর্মক্ষম জনসংখ্যার সাথে এগিয়ে আছে, যুক্তরাজ্যের কর্মক্ষম জনসংখ্যার প্রায় ৩৯% জেনারেটিভ এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করছে (২০২৫ সালের শেষ নাগাদ), যা যুক্তরাজ্যকে জি৭-এ দ্বিতীয় স্থানে রাখে। তবে, একটি উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে মাত্র ১৬% ব্রিটিশ ব্যবসা সক্রিয়ভাবে এআই মোতায়েন করছে এবং ৮০% ব্যবসার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।
কোয়ান্টাম বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, জাতীয় কোয়ান্টাম কম্পিউটিং সেন্টার (NQCC) একটি ১০ বছরের জন্য ৬৭০ মিলিয়ন পাউন্ডের অনুদান পাবে, যা ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রচলিত সুপারকম্পিউটারগুলিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে, অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটি (OBR)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ১.১%-এ দাঁড়াবে, যা ২০২১ সালের ১.৪% থেকে হ্রাস। এই দুর্বল অর্থনৈতিক পারফরম্যান্সের মুখে, ছায়া চ্যান্সেলর মেল স্ট্রাইড এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন যে রীভস অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার দায়ভার ব্রেক্সিটের উপর চাপাতে চাইছেন এবং ইইউ-এর সাথে ঘনিষ্ঠতার প্রতিশ্রুতি ব্রেক্সিট বাতিলের ইঙ্গিত দেয়।
এই কৌশলগত বিনিয়োগ আধুনিক শিল্প কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত, যা যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে এবং আগামী দশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একটি দৃঢ় পদক্ষেপ। কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মাধ্যমে দুই দশকে ১০০,০০০ কর্মসংস্থান এবং ২১২ বিলিয়ন পাউন্ডের অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
3 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Bloomberg Business
Daily Mail Online
Reuters
City AM
The Times
Relocate magazine
NQCC
Conservative Post
The National
NCS
Xinhua
The Independent
GOV.UK
Bracknell News
Capacity
Ebury
GOV.UK
Portfolio Adviser
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



