ইউরোপের আধিপত্যের মাঝে ইগলু ক্রুজের তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে সবুজ রাজধানী হিসেবে ওসলোর শীর্ষস্থান অর্জন

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

গবেষণা সংস্থা ইগলু ক্রুজ (Iglu Cruise) সম্প্রতি তাদের হালনাগাদ গ্লোবাল 'গ্রিন সিটি' ইনডেক্স বা বৈশ্বিক সবুজ শহর সূচক প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় নরওয়ের রাজধানী ওসলো বিশ্বের সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছে। বাতাসের গুণমান, সবুজায়নের সহজলভ্যতা এবং গাছপালায় আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ওসলো ১০০-এর মধ্যে ৭৭.৩ স্কোর অর্জন করেছে। মূলত উন্নত বায়ুমান এবং শহরের অভ্যন্তরে বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত পার্কগুলোর কারণেই ওসলো এই অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

ইগলু ক্রুজের এই সূচকে ইউরোপীয় শহরগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে, যা পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই অঞ্চলের সুশৃঙ্খল ও পদ্ধতিগত প্রচেষ্টাকেই ফুটিয়ে তোলে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভিলনিয়াস (৭২.৩ পয়েন্ট) এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে হেলসিংকি (৬০.৩ পয়েন্ট)। শীর্ষ দশের অন্যান্য শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিয়েনা, স্টকহোম, সিঙ্গাপুর এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি। তালিকার নবম স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যের রিডিং শহরটি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রকৃতি-ভিত্তিক পর্যটন ধারার সাথে তাল মিলিয়ে শহরটি তার মোট আয়তনের ৩৫ শতাংশ এলাকা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সবুজ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলেছে।

ওসলোর এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদী এবং সৃজনশীল কিছু পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। এর মধ্যে অন্যতম হলো ২০১৫ সালে চালু হওয়া 'বি হাইওয়ে' বা মৌমাছি মহাসড়ক। এটি মূলত পরাগায়নকারী পতঙ্গদের সহায়তার জন্য তৈরি করা ফুলের চারণভূমি, সবুজ ছাদ এবং বারান্দার বাগানগুলোর একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক। এছাড়া ওসলোর নগর পরিকল্পনায় প্রাক্তন পার্কিং লটগুলোর জায়গায় 'পকেট পার্ক' বা ছোট ছোট উদ্যান তৈরি করা হচ্ছে, যা যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ততার মাঝে প্রকৃতির ছোঁয়া ফিরিয়ে আনছে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বৈশ্বিক এই র‍্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর ভিলনিয়াসে ২০২৭ সালের 'ইউরোপীয় গ্রিন ক্যাপিটাল' পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ২০২৭ সালের জন্য এই মর্যাদাপূর্ণ খেতাবটি জয় করেছে জার্মানির হেইলব্রন (Heilbronn) শহর। পানির গুণমান রক্ষা, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং বৃত্তাকার অর্থনীতির ক্ষেত্রে হেইলব্রন অসামান্য পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। এই শহরটি তাদের 'ল্যান্ডস্কেপ প্ল্যান ২০৩০' সহ বিভিন্ন পরিবেশগত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৬০০,০০০ ইউরো অনুদান পাবে।

একই অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ডসের আসিন (Assen) এবং ইতালির সিয়েনা (Siena) ২০২৭ সালের 'ইউরোপীয় গ্রিন লিফ' পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে, যা মূলত ছোট শহরগুলোর পরিবেশগত প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেয়। এই শহর দুটি প্রত্যেকে ২০০,০০০ ইউরো করে অনুদান পাবে। বিশেষ করে সিয়েনা তাদের মিউনিসিপ্যাল বর্জ্যের ৬১.৪ শতাংশ পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিং করার জন্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এই পুরস্কারগুলো স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়নের মডেল হিসেবে কাজ করে এবং পরিবেশ রক্ষায় ছোট শহরগুলোর সক্ষমতা প্রমাণ করে।

২০২৫ সালের সবুজ রাজধানী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ভিলনিয়াস ২০২৬ সালে এই সম্মানজনক দায়িত্ব পর্তুগালের গুইমারেস (Guimarães) শহরের হাতে তুলে দেবে। ইগলু ক্রুজের গবেষণা পদ্ধতিতে মাথাপিছু কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের মতো গাণিতিক তথ্যের পাশাপাশি পরিবেশ নীতিমালার গুণগত মূল্যায়নকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে সবুজ অঞ্চলের সহজলভ্যতা এবং নির্মল বাতাসই হবে উন্নত নগর জীবনের প্রধান মানদণ্ড। ইউরোপীয় পুরস্কারগুলো নির্দিষ্ট সূচকের ওপর গুরুত্ব দিলেও বৈশ্বিক এই ইনডেক্সটি মূলত টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে শহরগুলোর প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে।

5 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Daily Mail Online

  • Reading Today Online

  • Time Out

  • EU Reporter

  • Mix Vale

  • vertexaisearch.cloud.google.com

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।