গত শনিবার, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীরা তাদের প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ অভিন্ন সীমান্তে অবিলম্বে সমস্ত সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ করার একটি চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় কম্বোডিয়ার পাইলিন প্রদেশ এবং থাইল্যান্ডের চানথাবুরি প্রদেশের সংযোগকারী সীমান্ত চৌকিতে। এই পদক্ষেপটি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র সীমান্ত সংঘর্ষের পরে এসেছিল।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা প্রধান থিয়া সেইহা এবং তার থাই প্রতিপক্ষ নাত্তাপহন নাকফানিট কর্তৃক স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই চুক্তিতে সামরিক কার্যকলাপের সম্পূর্ণ পরিসর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চুক্তির শর্তানুসারে, উভয় পক্ষকে অবিলম্বে সমস্ত ধরনের অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বেসামরিক স্থাপনা, অবকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ নিষিদ্ধ করা। এছাড়াও, উভয় পক্ষ তাদের বর্তমান সৈন্য অবস্থান বজায় রেখে সৈন্য বা টহল দলের যেকোনো ধরনের চলাচল স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে।
গত ৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সালে পুনরায় শুরু হওয়া উত্তেজনা ছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সামরিক সংঘাত। এই সংঘর্ষের মূল কারণ হলো ঔপনিবেশিক মানচিত্র ও চুক্তির ওপর ভিত্তি করে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধ, বিশেষত প্রাচীন প্রeah Vihear এবং Ta Muen Thom মন্দিরগুলোর সংলগ্ন এলাকায়। এই ভয়াবহ লড়াইয়ে উভয় পক্ষে কমপক্ষে ১০১ জন নিহত হন, যার মধ্যে সাধারণ মানুষও ছিল। এর ফলে সীমান্তের দুই পাশে পাঁচ লক্ষেরও বেশি বাসিন্দা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। থাই পক্ষ জানিয়েছে যে তাদের ২৬ জন সামরিক সদস্য এবং ৪৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, কম্বোডিয়া সরকার জানিয়েছে যে তাদের ৩০ জন সৈন্য নিহত এবং ৯৯ জন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন।
দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য একটি প্রধান শর্ত হলো জুলাই মাসের ঘটনার পর আটক হওয়া ১৮ জন কম্বোডিয়ান সৈন্যকে মুক্তি দেওয়া। তবে, এই মুক্তি তখনই কার্যকর হবে যখন যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি একটানা ৭২ ঘণ্টা নিখুঁতভাবে পালিত হবে। এই চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্ব আঞ্চলিক জোট আসিয়ান-এর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। আসিয়ান এর আগে গত ২২শে ডিসেম্বর কুয়ালালামপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বিশেষ বৈঠক করেছিল। নতুন এই চুক্তিতে বিতর্কিত সীমান্ত এলাকাগুলোর আনুষ্ঠানিক সীমানা নির্ধারণের প্রচেষ্টা পুনরায় শুরু করার বিধানও রাখা হয়েছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণকারী থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুথিন চানভীরাকুল এই যৌথ বিবৃতি অর্জনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সাফল্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় জুলাই মাসে যে সমঝোতা হয়েছিল, তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, যা বর্তমান যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতাকেই তুলে ধরে। থাইল্যান্ডের সামরিক নেতৃত্ব, বিশেষ করে জেনারেল নাত্তাপহন নাকফানিটের নেতৃত্বে, সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে কম্বোডিয়া যদি নির্ধারিত শর্তাবলী লঙ্ঘন করে, তবে পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত থাকবে।



