কিয়েভে রুশ বিমান হামলায় হতাহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

সম্পাদনা করেছেন: undefined undefined

গত ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার এক ভয়াবহ বিমান হামলা শহরটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে পরিচালিত এই হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে, এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। আবাসিক ভবন ও সরকারি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন যে, শহরের সোয়াটোশিনস্কি এবং দারনিটস্কি জেলায় এই হামলা চালানো হয়। হামলায় আবাসিক ভবনগুলোতে আগুন ধরে যায় এবং ইউক্রেনের মন্ত্রিসভা ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনাটি গত দুই সপ্তাহের মধ্যে কিয়েভের উপর দ্বিতীয় বড় ধরনের বিমান হামলা।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এটিকে রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রাশিয়ার উপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র সরবরাহ এবং ভবিষ্যতে এমন আগ্রাসন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

এই হামলা চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং বেসামরিক জনগণের ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উপর এর সরাসরি প্রভাবকে তুলে ধরেছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য দেশটির কমান্ডার-ইন-চিফ আলেকজান্ডার সিরস্কি নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে ড্রোন-ইন্টারসেপ্টর ক্রুদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং উন্নত অস্ত্র ও রাডার সিস্টেম সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত। ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী রাশিয়ার ড্রোন মোকাবেলায় একটি স্তরযুক্ত ব্যবস্থা তৈরি করছে, যা দেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

এই হামলার প্রতিক্রিয়ায়, ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা রাশিয়ার জ্বালানি খাতের উপর হামলা জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইউক্রেনের ড্রোন হামলা রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিতে বিঘ্ন ঘটিয়েছে, যার ফলে দেশটিতে জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং দাম বেড়েছে। এই পরিস্থিতি রাশিয়ার অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে এবং যুদ্ধের অর্থায়নের ক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে কেবল মৌখিক প্রতিবাদ নয়, বরং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়ার উপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা বৃদ্ধি করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই হামলা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং রাশিয়ার উপর চাপ সৃষ্টির কৌশলকে আরও একবার সামনে এনেছে।

27 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Deutsche Welle

  • Associated Press

  • Reuters

  • Reuters

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।