আগস্ট ২৯, ২০২৫ তারিখে, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ফ্রান্সের তোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। এই ২৫তম ফ্রাঙ্কো-জার্মান মন্ত্রী পরিষদের সভায় প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবিলায় আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ।
ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা খর্ব করার লক্ষ্যে, তৃতীয় দেশগুলো থেকে রাশিয়াকে সমর্থনকারী সংস্থাগুলির উপর দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে নেতারা একমত হয়েছেন। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় প্রয়োজনীয় বাহ্যিক সহায়তা বন্ধ করা। সাম্প্রতিক সময়ে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, যাতে অন্তত ২৩ জন নিহত এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, সেই বিষয়েও আলোচনা হয়। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায়, মার্জ এবং ম্যাক্রোঁ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এছাড়াও, ইউরোপের মধ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা কৌশল প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে নেতারা পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে একটি কৌশলগত সংলাপ শুরু করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে আসন্ন একটি বৈঠকের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে, তিনি সতর্ক করেন যে যদি পুতিন পরবর্তী সোমবারের মধ্যে আলোচনায় সম্মত না হন, তবে এটি শান্তি আলোচনার প্রতি তার অঙ্গীকারের অভাব নির্দেশ করবে।
এই ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে, ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা নেতারা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন বাড়ানো এবং রাশিয়ার উপর চাপ তীব্র করার অঙ্গীকার করেছেন। বর্তমানে বিবেচনাধীন পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে জব্দকৃত রাশিয়ার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং যুদ্ধের পরবর্তী নিরাপত্তা ও শান্তি পর্যবেক্ষণের জন্য ইউরোপীয় বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পদক্ষেপগুলি ইউক্রেনকে সমর্থন এবং রাশিয়ার কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অটল অঙ্গীকারের উপর জোর দেয়।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। নরওয়ে জার্মানির সাথে মিলে ইউক্রেনের জন্য প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার সরবরাহে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। প্রায় ৬৯০ মিলিয়ন ডলারের এই সহায়তা ইউক্রেনকে রাশিয়ার আকাশপথে হামলা থেকে আরও ভালোভাবে সুরক্ষা দেবে। এই উদ্যোগটি ইউরোপীয় সহযোগিতা এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।