সাম্প্রতিক রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পর, ফ্রান্স এবং জার্মানি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ২৯ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে তুলোঁতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎজ-এর মধ্যে এক বৈঠকের পর এই ঘোষণা আসে। উভয় দেশ ইউক্রেনকে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছে, যা রাশিয়ার আগ্রাসন এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তার উপর এর প্রভাবকে বিবেচনা করে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এই দুই প্রধান ইউরোপীয় শক্তি ইউক্রেনের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী ইউরোপীয় সামরিক সহায়তার তহবিল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দিয়েছে। তারা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও শিল্প ভিত্তি (EDTIB) শক্তিশালীকরণে দেশটির সক্রিয় ভূমিকার উপর গুরুত্বারোপ করেছে এবং এই কাঠামোর মধ্যে ইউক্রেনের দ্রুত একীকরণের প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে।
ইউরোপীয় নিরাপত্তার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে, ফ্রান্স এবং জার্মানি পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে একটি "কৌশলগত সংলাপ" শুরু করার পরিকল্পনা করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো অভিন্ন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের প্রতিরক্ষা কৌশল সমন্বয় করা এবং তাদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা উদ্দেশ্য ও কৌশলগুলিকে আরও সংযুক্ত করা।
এই ঘোষণাটি ২৮ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে কিয়েভে রাশিয়ার একটি বড় বিমান হামলার পর এসেছে, যেখানে শিশুসহ বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের ভবনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি কায়া কালাস জানিয়েছেন যে, ইইউ প্রতিরক্ষা মন্ত্রীরা যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনের অভ্যন্তরে প্রশিক্ষণের জন্য ইইউ সামরিক সহায়তা মিশন (EUMAM) ম্যান্ডেট সম্প্রসারণের বিষয়ে ব্যাপক সমর্থন প্রকাশ করেছেন। এই মিশনটি ইতিমধ্যেই ৮০,০০০ এর বেশি ইউক্রেনীয় সৈন্যকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং ইইউ এই সহায়তা বাড়াতে প্রস্তুত, যা ইউক্রেনীয় সামরিক একাডেমি ও প্রতিষ্ঠানে ইইউ প্রশিক্ষকদের মোতায়েনের মাধ্যমে হতে পারে। কালাস ইউরোপের জন্য ইউক্রেনের নিরাপত্তায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার পরিপ্রেক্ষিতে।
ইইউ প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের আলোচনায় ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়েও কথা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আগ্রাসন প্রতিরোধের জন্য শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়া উচিত। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্প এবং রাশিয়ার হাইব্রিড আক্রমণের বিরুদ্ধে দেশটির প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করার জন্য ইইউ-এর প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ফ্রান্স ও জার্মানির এই প্রতিশ্রুতি এবং ইইউ-এর বৃহত্তর নিরাপত্তা আলোচনা রাশিয়ার অব্যাহত আগ্রাসনের মুখে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য একটি সম্মিলিত ইউরোপীয় প্রচেষ্টাকে তুলে ধরেছে।