লন্ডনের প্রতিবাদে গ্রেটা থুনবার্গ গ্রেপ্তার: নিষিদ্ধ ফিলিস্তিন অ্যাকশন গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থনের দায়
সম্পাদনা করেছেন: gaya ❤️ one
২০২৩ সালের ২৩শে ডিসেম্বর মঙ্গলবার, সুইডিশ পরিবেশ কর্মী গ্রেটা থুনবার্গকে মধ্য লন্ডনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ঘটে একটি প্রতিবাদ চলাকালীন, যেখানে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ফিলিস্তিন অ্যাকশনের অনশনরত সদস্যদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করছিলেন। সিটি অফ লন্ডন পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে এই গ্রেপ্তার সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০০ এর ১৩ ধারা অনুযায়ী করা হয়েছে, যা একটি নিষিদ্ধ সংগঠনকে সমর্থন করার অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
এই প্রতিবাদটি মূলত ফিলিস্তিন অ্যাকশন কর্মীদের সমর্থনে আয়োজিত হয়েছিল, যারা কারাগারে অনশনরত অবস্থায় সংগঠনের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছিলেন। গ্রেপ্তারের পূর্বে, এই বিক্ষোভের অংশ হিসেবে আরও দুজন সক্রিয় কর্মী অ্যাসপেন ইন্স্যুরেন্সের কার্যালয়ের সম্মুখভাগে হাতুড়ি ব্যবহার করে এবং লাল রঙের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের মাধ্যমে রঙ ছিটিয়ে ভাঙচুর চালান। এই দুজন কর্মীকে ফৌজদারি ক্ষতির সন্দেহে আটক করা হয়েছিল এবং তারা কাছাকাছি স্থানে নিজেদের আঠা দিয়ে আটকে রেখেছিলেন। প্রতিবাদকারীরা অ্যাসপেন ইন্স্যুরেন্সকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল কারণ সংস্থাটি ইসরায়েলি অস্ত্র প্রস্তুতকারক এলবিট সিস্টেমস ইউকে-কে পরিষেবা প্রদান করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফিলিস্তিন অ্যাকশন গোষ্ঠীটি গত ৫ই জুলাই ২০২৩ তারিখে যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ (proscribed) ঘোষণা করা হয়, যার ফলে এই গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা এখন একটি ফৌজদারি অপরাধ। নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে, এই গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন জানানোর অভিযোগে কমপক্ষে ২,৪৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনশন ধর্মঘটটি শুরু হয়েছিল গত ২রা নভেম্বর ২০২৩ তারিখে, এবং ২৩শে ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখ পর্যন্ত আটজন সদস্য অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই অনশনকারীদের মধ্যে প্রথম দুজন সদস্য তাদের ৫২তম দিনে পৌঁছেছিলেন এবং তাদের স্বাস্থ্যকে 'সংকটপূর্ণ পর্যায়'-এ বলে বর্ণনা করা হয়েছিল। স্বাস্থ্যগত কারণে অন্তত তিনজন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন এবং তাদের কয়েকজনকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।
অনশনকারীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিন অ্যাকশনের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এলবিট সিস্টেমসের কার্যক্রম বন্ধ করা অন্যতম। গ্রেটা থুনবার্গ তার বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছেন যে ব্রিটিশ রাষ্ট্রের উচিত হস্তক্ষেপ করে এই অনশনের অবসান ঘটানো, কারণ তিনি মনে করেন রাষ্ট্র গণহত্যার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে, কারাগার মন্ত্রী লর্ড টিমপসন জানিয়েছেন যে কারাগার পরিষেবা এই ধরনের প্রতিবাদ মোকাবিলায় 'খুব অভিজ্ঞ' এবং বিদ্যমান চিকিৎসা নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
অনশনকারীদের আইনজীবীরা, যেমন ইমরান খান অ্যান্ড পার্টনার্স, এই বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার ডেভিড ল্যামির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। আইনজীবী মাইকেল ম্যান্সফিল্ড প্রশ্ন তুলেছেন যে সরকারের 'উদাসীনতা এবং জনতুষ্টিবাদী রাজনীতি'র কারণে মৌলিক মানবাধিকার, যেমন নির্দোষ থাকার অধিকার এবং যথাযথ প্রক্রিয়া, ধ্বংস হচ্ছে। এই ধরনের গণ-অনশন যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে, যার ঐতিহাসিক তুলনা টানা হচ্ছে ১৯৮১ সালের আইরিশ রিপাবলিকান অনশন ধর্মঘটের সাথে, যেখানে দশজন বন্দী অনাহারে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। ১৯৮১ সালের সেই ধর্মঘটটি ববি স্যান্ডসের নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল এবং এটি সিন ফেইনকে মূলধারার রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করেছিল।
সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০০ এর অধীনে নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন প্রদর্শনের সর্বোচ্চ শাস্তি ছয় মাসের কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে। এই ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক প্রতিবাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইনের ক্রমবর্ধমান কঠোর প্রয়োগের বিষয়টি সামনে এনেছে।
11 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Deutsche Welle
Al Jazeera Online
Deutsche Welle
Al Jazeera Online
The Guardian
CTV News
ITV News
The New Arab
Wikipedia
ITV News
The Guardian
The Guardian
Wikipedia
Middle East Eye
Radio Sol Mansi
O Democrata GB
Liga Guineense dos Direitos Humanos
Al Jazeera
The Independent
The Guardian
The Guardian
Anadolu Ajansı
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



