কোপেনহেগেনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গাজার চলমান সংঘাতের বিষয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করার জন্য একত্রিত হয়েছিলেন। এই বৈঠকটি ইইউ-এর মধ্যে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধকে তুলে ধরেছে।
আলোচনা এবং প্রস্তাবনা: একটি প্রাথমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েলি স্টার্ট-আপগুলিতে ইইউ তহবিল স্থগিত করার একটি প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। তবে, জার্মানি এবং ইতালি, যাদের ইসরায়েলের সাথে ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে, তারা এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছিল। ইইউ-এর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস ঐকমত্যে পৌঁছানো নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, "আমি খুব আশাবাদী নই, এবং আজ আমরা অবশ্যই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব না।" গাজায় মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ বলে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে জাতিসংঘ দুর্ভিক্ষের কথা জানিয়েছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলভারেস এই দুর্ভিক্ষের অবসান ঘটাতে এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পথে বাধা সৃষ্টিকারী সংস্থাগুলির উপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য ইইউ-এর কাছে একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন। তার প্রস্তাবে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অর্থনৈতিক পতন রোধে তাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অভ্যন্তরীণ বিভেদ: এই প্রস্তাবনা সত্ত্বেও, ইইউ বিভক্ত। ফ্রান্স, স্পেন, আয়ারল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলি ইইউ গবেষণা কর্মসূচিতে ইসরায়েলের প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধ করার পক্ষে। বিপরীতে, জার্মানি এবং ইতালির মতো দেশগুলি এই ধরনের ব্যবস্থার সমর্থন করেনি। গাজা সংঘাতের উপর একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরিতে ইইউ-এর অভ্যন্তরীণ বিভেদ বাধা সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি বিকশিত হওয়ার সাথে সাথে, ইসরায়েলের সাথে তার কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তার প্রতি তার অঙ্গীকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ইইউ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।
অতিরিক্ত তথ্য: জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, গাজায় দুর্ভিক্ষের কারণে অপুষ্টির হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে যে গাজায় সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে, কিছু ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ইসরায়েলের উপর চাপ বাড়ানোর জন্য আরও কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে, যেখানে জার্মানি এবং ইতালি সহ অন্যান্য দেশগুলি এই ধরনের পদক্ষেপে দ্বিধাগ্রস্ত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে, ইসরায়েলের সাথে বাণিজ্য বছরে প্রায় ৪২.৬ বিলিয়ন ইউরো। এই বিভেদ ইইউ-এর কূটনৈতিক প্রভাবকে দুর্বল করে এবং সংঘাতের গতিপথের উপর এর ক্ষমতাকে সীমিত করে।