ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু পদত্যাগ করেছেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট ঘনীভূত

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু মাত্র এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন, যা দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ৬ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগ ফ্রান্সের জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ গত এক বছরেরও কম সময়ে এটি তৃতীয় প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ। এই ঘটনা দেশটির আর্থিক স্বাস্থ্য এবং রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার ক্ষমতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

লেকর্নু গত ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে তাঁর পূর্বসূরি ফ্রাঁসোয়া বায়রুর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। বায়রু জাতীয় পরিষদে একটি আস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার পর পদত্যাগ করেছিলেন, কারণ তিনি প্রস্তাবিত বাজেট কর্তনের বিরুদ্ধে জনসমর্থন ধরে রাখতে পারেননি। লেকর্নু দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন, যা শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ব্রুনো লে মায়ারকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

লেকর্নুর পদত্যাগের ফলে ফ্রান্সের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব আর্থিক বাজারেও পড়েছে। লেকর্নু পদত্যাগের পর ফ্রান্সের সিএসি ৪০ (CAC 40) শেয়ার সূচক প্রায় ২% হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে, ফ্রান্সের ১০-বছরের সরকারি বন্ডের ইল্ড ৩.৫৭% এ পৌঁছেছে, যা ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চের কাছাকাছি। এটি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ফ্রান্সের আর্থিক স্বাস্থ্য নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রতিফলন।

ফ্রান্সের বাজেট ঘাটতি ২০২৪ সালে €১৬৮.৬ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে, যা দেশটির মোট অর্থনীতির প্রায় ৫.৮%। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ফ্রান্সের সার্বভৌম ঋণ ৩.৪ ট্রিলিয়ন ইউরোর বেশি ছিল। লেকর্নু তাঁর পদত্যাগের কারণ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার অভাব এবং "কিছু অহংকারী মনোভাব"-কে দায়ী করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি একটি কার্যকর পথ তৈরির চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু দেশের মেরুকৃত রাজনৈতিক দলগুলো আপস করতে নারাজ ছিল।

তাঁর এই পদত্যাগ ফ্রান্সের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার ক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এখন দ্রুত একজন নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যিনি এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। এই দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন ফ্রান্সের শাসনব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

উৎসসমূহ

  • The New York Times

  • French Prime Minister resigns after less than a month in office

  • French prime minister Sébastien Lecornu resigns after record-short stint in office

  • French prime minister resigns hours after naming new government

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।