শিশু নির্যাতনের কেলেঙ্কারিতে বুদাপেস্টে ব্যাপক বিক্ষোভ, অরবানের পদত্যাগের দাবি

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

২০২৫ সালের ১৩ই ডিসেম্বর, হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে অভূতপূর্ব জনসমাবেশ দেখা যায়, যেখানে লক্ষাধিক নাগরিক রাস্তায় নেমে আসেন। এই বিশাল বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল সেপ্টেম্বর ২০১৫ থেকে প্রকাশ্যে আসা সরকারি প্রতিষ্ঠানে শিশুদের উপর পদ্ধতিগত নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় যখন একটি ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় এক কর্মী মাটিতে পড়ে থাকা এক শিশুকে লাথি মারছে। এই ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।

বিরোধী দলের নেতা এবং 'তিসা' পার্টির প্রধান, পিটার মাগিয়ার, এই বিশাল মিছিলের ডাক দেন। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানান। মাগিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনেন। এই রাজনৈতিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারি কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০-এর মধ্যে, পাঁচটি অপ্রাপ্তবয়স্কদের পরিচর্যা কেন্দ্র সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে, সেলো স্ট্রিটের একটি কেন্দ্র থেকে চারজন কর্মীকে আটক করা হয়। এছাড়াও, প্রাক্তন পরিচালকসহ আরও তিনজনকে আটক করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে একটি গোপন পতিতাবৃত্তি চক্র পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ আরও বাড়ে যখন সরকার নির্যাতিত কিশোর-কিশোরীদের অপরাধী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করে। এর প্রতিক্রিয়ায়, বিরোধী দল ২০২১ সালের একটি সরকারি প্রতিবেদন জনসমক্ষে আনে। সেই প্রতিবেদনে নথিভুক্ত করা হয়েছিল যে সরকারি তত্ত্বাবধানে থাকা শিশুদের মধ্যে প্রায় ৩০০০ ক্ষেত্রে নির্যাতনের সন্দেহজনক ঘটনা ঘটেছে, যা নথিভুক্ত মোট শিশুর পাঁচ ভাগের এক ভাগের বেশি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে ৩২০ জনেরও বেশি শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধান গার্জি গুইয়াস দাবি করেন যে এই প্রতিবেদনটি ২০২২ সালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল, কিন্তু বিরোধীরা এটিকে সমস্যার ভয়াবহতা জেনেও ইচ্ছাকৃতভাবে ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।

বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনার পেছনে পূর্ববর্তী ঘটনাও প্রভাব ফেলেছে, যা সরকারের প্রতি অবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। বর্তমান ঘটনার মাত্র দুই বছরেরও কম সময় আগে, গত বছর, অরবানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি কাতালিন নোভাক পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর কারণ ছিল একটি শিশু নিবাসের পেডোফিলিয়া মামলায় দণ্ডিত এক সহযোগীকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত। এই ঘটনাগুলো দেশের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

এই সমস্ত ঘটনা ঘটছে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিতব্য সংসদীয় নির্বাচনের ঠিক আগে। পিটার মাগিয়ার এবং তার 'তিসা' পার্টি সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে শক্তিশালী সমর্থন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি বর্তমান সংকটকে প্রধানমন্ত্রী অরবানের জন্য এক গুরুতর নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থাপন করছে, যিনি ২০১০ সাল থেকে ক্ষমতায় রয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা পেস্টের কেন্দ্র থেকে শুরু করে দানিয়ুব নদী পার হয়ে বুদা পাহাড় পর্যন্ত পদযাত্রা করে এবং সরকারের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে।

65 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Deutsche Welle

  • Al Jazeera

  • Reuters

  • Euractiv

  • Glas Slavonije

  • RTL Today

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।