আমদানি-শুল্ক বিরতির মাঝে অর্থনৈতিক আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন সফর করলেন চীনের বাণিজ্য প্রতিনিধি লি চেনগাং

সম্পাদনা করেছেন: S Света

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে, চীনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিনিধি এবং উপ-বাণিজ্য মন্ত্রী লি চেনগাং ওয়াশিংটন ডিসি সফর করেছেন। এই সফরটি কানাডা সফরের পর অনুষ্ঠিত হয় এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যমান চুক্তি পর্যালোচনা করা, মতপার্থক্য নিরসন করা এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। এই আলোচনাটি একটি চলমান আমদানি-শুল্ক বিরতির সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে নির্দেশ করে।

লি চেনগাং এই সফরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ, বাণিজ্য বিভাগ এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল পূর্ববর্তী চুক্তিগুলির বাস্তবায়ন পর্যালোচনা এবং সমানাধিকারের ভিত্তিতে আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে মতপার্থক্য পরিচালনা ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের উপায় অন্বেষণ করা। মার্কিন সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে এই সফরটি কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার অংশ ছিল না, বরং এটি ছিল অনানুষ্ঠানিক আলোচনা এবং সম্পর্ক উন্নয়নের একটি প্রয়াস।

এই বাণিজ্য বিরতিটি প্রথম মে, ২০২৫-এ সম্মত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে জুন ও জুলাই মাসে এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে এটি নভেম্বর ৯, ২০২৫ পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে। এই সময়সীমা বাণিজ্য বিরোধের মধ্যে একটি সাময়িক স্থিতিশীলতা বা উত্তেজনা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য পরামর্শ ব্যবস্থার সুবিধাগুলি কাজে লাগাতে, সমানাধিকারের আলোচনা ও যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্যাগুলি সমাধানে এবং চীন-মার্কিন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্কের স্থিতিশীল, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই উন্নয়ন যৌথভাবে বজায় রাখতে আগ্রহী।

এই সফরটি দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা বাণিজ্য উত্তেজনার মাঝেও স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করার ইঙ্গিত দেয়। এই বৈঠকের প্রেক্ষাপটে, ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক বর্তমানে একটি 'অনিশ্চিত' পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই একে অপরের উপর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। তবে, এই ধরনের উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনাগুলি উত্তেজনা প্রশমন এবং একটি স্থিতিশীল বাণিজ্য পরিবেশ তৈরির জন্য অপরিহার্য।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম নয় মাসে চীন-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৪৪৫.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৫% কম। এই পরিসংখ্যানগুলি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। এই সফরটি সেই বৃহত্তর প্রচেষ্টারই একটি অংশ, যেখানে মতপার্থক্য সত্ত্বেও সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

উৎসসমূহ

  • Reuters

  • China's trade envoy meets US officials to discuss economic ties

  • Chinese commerce ministry confirms Washington visit by trade envoy

  • Chinese official's U.S. visit not a prelude to future talks, source says

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।