২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি ইতালিতে একটি বিশেষ সাহিত্যিক ও সংগীতধর্মী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই দিনটি সান-রেমো উৎসবের ঐতিহাসিক সূচনার (২৯ জানুয়ারি, ১৯৫১) ঠিক প্রাক্কালে নির্বাচিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ‘Sanremo e la classifica del tempo’ বা ‘সান-রেমো এবং সময়ের তালিকা’ নামক বইটির নতুন সংস্করণ উন্মোচন করা হয়।
এই বইটি মূলত সেইসব গানকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে, যা প্রতিযোগিতার মঞ্চে বিজয়ী হতে না পারলেও সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখক মার্কো রেত্তানি এবং নিকো দনভিতো অত্যন্ত নিপুণভাবে এই সংকলনটি তৈরি করেছেন, যেখানে সংগীতের প্রকৃত সাফল্যের সংজ্ঞা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
লেখকরা এমন ১০০টি গান বেছে নিয়েছেন যেগুলো উৎসবের মূল ট্রফি জেতেনি, কিন্তু ইতালীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এটি প্রমাণ করে যে একটি গানের সার্থকতা কেবল বিচারকদের দেওয়া পয়েন্টে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে।
বইটিতে ‘24 mila baci’ এবং ‘Maledetta primavera’-র মতো আইকনিক গানগুলোর ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে। এই গানগুলো আজ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়, যা উৎসবের র্যাঙ্কিং টেবিলের অসারতাকেই ফুটিয়ে তোলে এবং দেখায় কীভাবে কিছু সুর অমরত্ব লাভ করে।
প্রকাশনাটি একটি অনন্য আর্ট-অবজেক্ট হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে। এতে রয়েছে ৩২৪টি রঙিন পৃষ্ঠা এবং একটি বিশেষ বর্গাকার ফরম্যাট যা পাঠকদের পুরোনো ভিনাইল রেকর্ডের নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনে। এর শৈল্পিক মান বইটিকে সংগ্রাহকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
পাঠকদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে বইটির সাথে একটি ১৬ ট্র্যাকের সিডি এবং কিউআর কোড যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পটিফাইয়ের মতো প্ল্যাটফর্মে সরাসরি আলোচিত গানগুলো শোনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা আধুনিক প্রযুক্তির সাথে ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটায়।
বইটিতে রেনজো আরবোরে, পেপ্পে ভেসিকিও এবং ভিনসেঞ্জো মোল্লিকার মতো কিংবদন্তিদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সাক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া পিব্বো বাউডো-র একটি আবেগঘন চিঠি বইটির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং স্মৃতির বৃত্তকে পূর্ণতা দান করেছে।
প্রকাশক সংস্থা ‘Azzurra Music’ এই বইটি ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই তারিখটি ১৯৫১ সালের প্রথম সান-রেমো উৎসবের স্মৃতির সাথে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় এর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে।
একটি বিশেষ দার্শনিক নোটে বলা হয়েছে যে, অনেক সময় ‘অ-বিজয়ীরাই’ একটি যুগকে সবচেয়ে নিখুঁতভাবে তুলে ধরে। কারণ তারা বিচারকদের তাৎক্ষণিক রায়ে নয়, বরং সময়ের কঠিন পরীক্ষায় টিকে থেকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।
উৎসবের এই স্মৃতির সমান্তরালে ২০২৬ সালের সান-রেমো উৎসব নিয়ে নতুন উত্তেজনা শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অ্যারিস্টন থিয়েটারে এই জাঁকজমকপূর্ণ আসর বসতে চলেছে, যা সংগীত জগতের নজর কেড়েছে।
এবারের আসরে মিলানভিত্তিক রক ব্যান্ড ‘Le Bambole di Pezza’ তাদের নতুন গান ‘Resta con me’ নিয়ে পারফর্ম করবে। ব্যান্ডটি ইতিমধ্যে সংগীত মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং তাদের উপস্থিতি নারী রক সংগীতের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে।
‘Resta con me’ গানটি কেবল প্রেমের গান নয়, বরং এটি মানুষের মধ্যকার সংযোগ এবং একে অপরকে আঁকড়ে ধরার কথা বলে। এই গানটি রচনায় নেসলি এবং ব্যান্ডের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করেছেন, যা এর গীতিধর্মী গভীরতাকে সমৃদ্ধ করেছে।
সমালোচকদের মতে গানটিতে নব্বইয়ের দশকের সংগীতের ছোঁয়া রয়েছে। কেউ কেউ এর ‘গার্ল পাওয়ার’ থিম নিয়ে প্রশ্ন তুললেও অনেকে এর সামাজিক বার্তার প্রশংসা করেছেন, যা কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানায়।
সান-রেমো উৎসব আবারও প্রমাণ করেছে যে এটি একটি জীবন্ত সত্তার মতো কাজ করে। এটি একদিকে যেমন অতীতকে সম্মান জানায়, অন্যদিকে নতুন কণ্ঠস্বরকে স্বাগত জানায়। সংগীত এখানে একটি অবিচ্ছেদ্য সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
- স্মৃতি: যা আর্কাইভ থেকে কালজয়ী গানগুলোকে পুনরায় জনসমক্ষে নিয়ে আসে।
- বর্তমান: যা নতুন কণ্ঠস্বর এবং আধুনিক উপস্থিতির সুযোগ তৈরি করে।
- সংগীতের সেতুবন্ধন: গান যখন প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে গিয়ে মানুষের হৃদয়ে এবং আত্মপরিচয়ে মিশে যায়।



