অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন আনুষ্ঠানিকভাবে মাইক ফ্ল্যানাগানের আসন্ন নতুন প্রযোজনায় প্রধান ভূমিকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এই প্রকল্পটি ‘দ্য এক্সরসিস্ট’ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতি এক সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসছে। পরিচালক ফ্ল্যানাগান নিজেই এই খবর নিশ্চিত করেছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে ২০২৩ সালের চলচ্চিত্র ‘দ্য এক্সরসিস্ট: বিলিভার’-এর প্রত্যাশিত সাফল্য না আসার পর পূর্বঘোষিত ট্রিলজি পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে এবং সৃজনশীল পথে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ফ্ল্যানাগান, যিনি চিত্রনাট্যকার এবং পরিচালক উভয়ের ভূমিকাতেই থাকছেন, দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে তাঁর লক্ষ্য হলো ‘আমার তৈরি করা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর চলচ্চিত্র’ নির্মাণ করা। এই নতুন সিনেমাটি ‘দ্য এক্সরসিস্ট’ মহাবিশ্বের পটভূমিতে সম্পূর্ণ নতুন একটি কাহিনি বলবে এবং পূর্ববর্তী কোনো কিস্তি বা গল্পের সঙ্গে এর কোনো ধারাবাহিক যোগসূত্র থাকবে না। জোহানসনের মতো একজন তারকা শিল্পীর অন্তর্ভুক্তি এই প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ এবং ‘ম্যারেজ স্টোরি’-এর মতো কাজের জন্য পরিচিত এই অভিনেত্রীর জন্য এটি বিশুদ্ধ হরর ঘরানার প্রথম প্রধান ভূমিকা হতে চলেছে, যদিও ২০১৩ সালের ‘আন্ডার দ্য স্কিন’-এর মতো ঘরানার ছবিতে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ব্লুমহাউস-অ্যাটমিক মনস্টারের মতো স্টুডিওর এই পদক্ষেপ তাদের গভীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটায়।
এই চলচ্চিত্রটির নির্মাণ কাজ ফ্ল্যানাগান তাঁর নিজস্ব সংস্থা রেড রুম পিকচার্সের মাধ্যমে পরিচালনা করছেন। তবে, তাঁর ‘ক্যারি’ সিরিজের কাজ শেষ হওয়ার পরই এই ছবির কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে। নতুন সংস্করণটির শুটিং নিউ ইয়র্ক শহরে হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, জোহানসন সম্প্রতি কান চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর পরিচালিত প্রথম ছবি ‘এলেনোর দ্য গ্রেট’-এর প্রদর্শনীর পর অপেক্ষাকৃত অন্ধকার ঘরানার কাজে ফিরছেন। প্রকল্পটি ব্লুমহাউস-অ্যাটমিক মনস্টার, মরগান ক্রিক এন্টারটেইনমেন্ট এবং ফ্ল্যানাগানের রেড রুম পিকচার্সের যৌথ প্রযোজনায় অগ্রসর হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইউনিভার্সাল এবং ব্লুমহাউস ২০২১ সালের জুলাই মাসে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্ব কিনে নেয়। তারা মূলত ১৯৭০ সালের মূল উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে একটি ট্রিলজি তৈরির জন্য প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু ‘বিলিভার’ ছবিটি বিশ্বব্যাপী মাত্র ১৩৬.২ মিলিয়ন ডলার আয় করায় ইউনিভার্সাল পূর্বনির্ধারিত সিক্যুয়েল ‘দ্য এক্সরসিস্ট: ডেসাইভার’-এর পরিকল্পনা বাতিল করে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি পুনরুজ্জীবিত করার কৌশল পুনর্বিবেচনা করে। ফ্ল্যানাগান, যিনি ‘ডক্টর স্লিপ’ এবং ‘দ্য হিলিং অফ দ্য হিল হাউস’-এর মতো সফল কাজ দিয়ে পরিচিত, তিনি কেবল নস্টালজিয়ার ওপর নির্ভর না করে দর্শকদের মধ্যে গভীর ভীতি জাগানোর লক্ষ্যে এক ‘আমূল নতুন’ পদ্ধতির আশ্রয় নিতে চাইছেন।
এই নতুন উদ্যোগটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। ফ্ল্যানাগান এবং জোহানসনের মতো প্রতিভাবান ব্যক্তিত্বদের একত্রিত করা ইঙ্গিত দেয় যে স্টুডিওগুলি এবার ত্রুটিমুক্ত, উচ্চমানের ভয়াবহ চলচ্চিত্র উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক মুক্তির তারিখ এবং অন্যান্য কলাকুশলীদের নাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে চলচ্চিত্র জগতে এটি নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।



