After The Legend of Zelda movies theatrical and home entertainment release periods, it will be streamed exclusive on Netflix. nintendolife.com/news/2026/01/t…
নেটফ্লিক্স পেল 'দ্য লিজেন্ড অফ জেল্ডা' চলচ্চিত্রের বৈশ্বিক স্ট্রিমিং স্বত্ব: প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর দেখা যাবে প্ল্যাটফর্মটিতে
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্স সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্টের (SPE) বহুল প্রতীক্ষিত লাইভ-অ্যাকশন চলচ্চিত্র 'দ্য লিজেন্ড অফ জেল্ডা'-র একচেটিয়া বৈশ্বিক স্ট্রিমিং স্বত্ব নিশ্চিত করেছে। প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনী এবং হোম মিডিয়া ডিস্ট্রিবিউশন শেষ হওয়ার পর এই জনপ্রিয় গেমের চলচ্চিত্র রূপান্তরটি সরাসরি নেটফ্লিক্সের পর্দায় আসবে। এই কৌশলগত পদক্ষেপটি বিশ্বজুড়ে গেমিং এবং সিনেমা প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
এই সিদ্ধান্তটি নেটফ্লিক্স এবং সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্টের মধ্যে বিদ্যমান 'Pay-1' লাইসেন্সিং চুক্তির একটি বর্ধিত অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগে এই চুক্তিটি শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তবে নতুন এই সমঝোতার মাধ্যমে তা এখন বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই বিশাল চুক্তির আর্থিক মূল্য ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি হতে পারে, যদিও কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এই অংকটি নিশ্চিত করেনি। এই অধিকার হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ ধাপে ধাপে শুরু হবে এবং ২০২৯ সালের শুরুর দিকে নেটফ্লিক্সের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দর্শকরা এর পূর্ণ অ্যাক্সেস পাবেন। এছাড়াও, এই চুক্তির আওতায় সনি পিকচার্সের বিশাল ভাণ্ডার থেকে বেশ কিছু পুরনো চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন শো-ও নেটফ্লিক্সে যুক্ত করার সুযোগ থাকছে।
'দ্য লিজেন্ড অফ জেল্ডা' চলচ্চিত্রটি ২০২৭ সালের ৭ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'দ্য সুপার মারিও ব্রোস মুভি' বিশ্বব্যাপী ১.৩৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে যে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় নিন্টেন্ডো তাদের এই নতুন সিনেমাটিক প্রজেক্টটি হাতে নিয়েছে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন ওয়েস বল, যিনি 'মেজ রানার' ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং 'কিংডম অফ দ্য প্ল্যানেট অফ দ্য এপস'-এর জন্য সুপরিচিত। চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন ডেরেক কনোলি, যিনি এর আগে 'জুরাসিক ওয়ার্ল্ড'-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবিতে কাজ করেছেন। এই প্রজেক্টের নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন জেল্ডা মহাবিশ্বের কিংবদন্তি স্রষ্টা শিগেরু মিয়ামোটো এবং মার্ভেল স্টুডিওর অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব আভি আরাদ।
চলচ্চিত্রটির মূল চিত্রগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডে এবং এটি ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন দুই উদীয়মান ব্রিটিশ অভিনয়শিল্পী: বো ব্র্যাগাসনকে দেখা যাবে প্রিন্সেস জেল্ডা হিসেবে এবং বেঞ্জামিন ইভান এইনসওয়ার্থ অভিনয় করবেন লিঙ্কের ভূমিকায়। ১৯৮৬ সালে জেল্ডা মহাবিশ্বের সূচনা করা মিয়ামোটো নিজেই এই কাস্টিংয়ের ঘোষণা দিয়েছেন এবং বড় পর্দায় এই তরুণ শিল্পীদের দেখার জন্য নিজের গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্রের কাহিনী আবর্তিত হবে লিঙ্ক নামক এক তরুণ যোদ্ধাকে কেন্দ্র করে, যাকে ডার্ক লর্ড গ্যাননের হাত থেকে হাইরুল রাজ্য রক্ষা করতে হবে এবং পবিত্র ট্রাইফোর্স পুনরুদ্ধার করতে হবে।
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর এই চলচ্চিত্রের স্ট্রিমিং স্বত্ব অর্জন নেটফ্লিক্সের প্রিমিয়াম কন্টেন্ট পোর্টফোলিওকে আরও শক্তিশালী করবে। এর পাশাপাশি সনি পিকচার্সের অন্যান্য বড় প্রজেক্ট যেমন 'স্পাইডার-ম্যান: বিয়ন্ড দ্য স্পাইডার-ভার্স' অ্যানিমেশন ট্রিলজির সমাপ্তি পর্বটিও নেটফ্লিক্সে আসার পথ সুগম হলো। এই কৌশলগত পদক্ষেপটি বিশ্বব্যাপী স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরে। একই সাথে এটি ভিডিও গেমের গণ্ডি পেরিয়ে বিনোদনের অন্যান্য মাধ্যমে নিন্টেন্ডোর উপস্থিতিকে আরও জোরালো করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
সনি এবং নেটফ্লিক্সের এই অংশীদারিত্ব শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিনোদন জগতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে সহায়ক হবে। দর্শকদের জন্য এটি একটি বিশাল সুযোগ, কারণ তারা প্রেক্ষাগৃহের অভিজ্ঞতার পর ঘরে বসেই উচ্চমানের সিনেমা উপভোগ করতে পারবেন। নিন্টেন্ডোর আইকনিক গেমের এই রূপান্তরটি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
উৎসসমূহ
IGN Italia
Gameswelt
GameSpot
GameSpot
IGN
Variety
StreamTV Insider
GameSpot
Radio Times
Screen Daily
Polygon
Forbes
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
Watch the brand new trailer for The Mandalorian and Grogu and experience it only in theaters May 22, 2026.


