নেটফ্লিক্সের ‘দ্য গ্রেট ফ্লাড’: সাই-ফাই ও সারভাইভাল ড্রামার মিশ্রণে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে বিশ্বব্যাপী স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র ‘দ্য গ্রেট ফ্লাড’ (The Great Flood) দর্শকদের মধ্যে এবং পেশাদার সমালোচকদের মহলে এক উল্লেখযোগ্য মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে। পরিচালক কিম বিয়ং-উ, যিনি ২০১৩ সালের ‘টারর ইন লাইভ’ এবং ২০১৮ সালের ‘এম.সি. / বাঙ্কার’ এর মতো কাজের জন্য পরিচিত, এই বিজ্ঞান-ভিত্তিক মহাকাব্যিক চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন। এই ছবিতে একজন এআই গবেষক এবং তার পুত্র সিউলের এক ভয়াবহ বন্যায় কীভাবে বেঁচে থাকার লড়াই করে, তা দেখানো হয়েছে। ১৯৮০ সালে জন্ম নেওয়া পরিচালক কিম বিয়ং-উ তাঁর পূর্ববর্তী কাজগুলিতেও নিজস্ব বার্তা প্রদানের ওপর জোর দিতেন, যা অনেক সময় আখ্যানকে কিছুটা জটিল করে তুলত বলে সমালোচকরা মনে করেন।

এই উচ্চাভিলাষী চলচ্চিত্রটি যেখানে জমকালো বিপর্যয়ের দৃশ্য এবং তাত্ত্বিক অনুসন্ধানের এক অদ্ভুত মিশ্রণ ঘটিয়েছে, সেখানে এর প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট বিভাজন দেখা যায়। চলচ্চিত্র সমালোচকদের সমষ্টিস্থল রটেন টম্যাটোজে ছবিটি ৬০ শতাংশ ইতিবাচক পর্যালোচনা পেয়েছে। তবে সাধারণ দর্শকদের মতামত এর থেকে অনেকটাই ভিন্ন। ৫০টিরও বেশি ভোটের ভিত্তিতে পপকর্নোমিটারের স্কোর মাত্র ৩৯ শতাংশে নেমে এসেছে। অনেক দর্শকই অভিযোগ করেছেন যে, ছবির টানটান সারভাইভাল ড্রামা থেকে হঠাৎ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সিমুলেশন তত্ত্বের মতো জটিল আলোচনার দিকে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা ছিল অত্যন্ত আকস্মিক এবং গল্পের আবেগিক কেন্দ্র থেকে দর্শককে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। এর বিপরীতে, এআই গবেষক আন্না চরিত্রে কিম দা-মি এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তা হি-জো চরিত্রে পার্ক হে-সুর শক্তিশালী অভিনয় এবং ছবির শুরুর দিকের অ্যাকশন দৃশ্যগুলো প্রশংসা কুড়িয়েছে।

চলচ্চিত্রের মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে বিজ্ঞানী আন্নাকে কেন্দ্র করে, যিনি তাঁর ছেলেকে নিয়ে সিউলের একটি ডুবে যাওয়া বহুতল ভবনে আটকে পড়েন। এই বিপর্যয় ঘটে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ার কারণে, যা একটি উল্কাপাতের ফলে সৃষ্ট হয়েছিল এবং বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। ঘটনার মোড় ঘোরানো তখনই আসে যখন জানা যায় যে, জাতিসংঘের গোপন গবেষণাগারে আন্নার এআই ‘ইমোশন ইঞ্জিন’ নিয়ে করা কাজই মানবজাতির টিকে থাকার চাবিকাঠি। এমনকি, তাঁর পুত্রও হয়তো মায়ের স্নেহ অনুকরণ করার জন্য তাঁর পরীক্ষামূলক প্রতিরূপ হতে পারে। ছবিটি দুটি স্তরে কাজ করে—একটি হলো বাস্তবিক ধ্বংসযজ্ঞ, অন্যটি হলো দার্শনিক বিপদ। পরিচালকের উদ্দেশ্য ছিল এটিকে কেবল দুর্যোগভিত্তিক চলচ্চিত্র না বানিয়ে একটি চিন্তামূলক পরীক্ষা হিসেবে উপস্থাপন করা।

সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও, ‘দ্য গ্রেট ফ্লাড’ দ্রুত নেটফ্লিক্সের বিশ্বব্যাপী টপ-১০ তালিকায় স্থান করে নিয়েছে, যা এই প্রকল্পের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। এই সাফল্য দক্ষিণ কোরীয় প্রযোজনার বিশ্বব্যাপী প্রভাবকে তুলে ধরে, যেখানে উচ্চ-ধারণাভিত্তিক (high-concept) কন্টেন্টের প্রতি দর্শকদের কৌতূহল প্রায়শই সমালোচকদের কঠোর মূল্যায়নের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। সামগ্রিকভাবে, এই ছবিটি প্রমাণ করে যে বর্তমান ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলির যুগে, সমালোচকদের সর্বসম্মত প্রশংসা পাওয়ার চেয়েও জঁরা-ভিত্তিক আকর্ষণ এবং সঠিক বিপণন কৌশল দর্শকসংখ্যা অর্জনে অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

112 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • International Business Times UK

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।