২০২৬ সালের বাফটা পুরস্কারে ইতিহাস গড়ল মণিপুরি চলচ্চিত্র ‘বুং’: ভারতের প্রথম সাফল্য

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

২০২৬ সালের ব্রিটিশ একাডেমি অফ ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টস (বাফটা) পুরস্কারের মঞ্চে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ভারতীয় চলচ্চিত্র জগত। মণিপুরি ভাষার মেইতেইলোন চলচ্চিত্র ‘বুং’ (Boong) এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে ‘সেরা শিশু ও পারিবারিক চলচ্চিত্র’ বিভাগে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করেছে। এটিই প্রথম কোনো ভারতীয় চলচ্চিত্র যা এই বিশেষ বিভাগে বাফটা ট্রফি জয়ের গৌরব অর্জন করল, যা আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের আঞ্চলিক চলচ্চিত্রের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। মূলত শিশু, কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে আন্তঃপ্রজন্মীয় আগ্রহ তৈরি করতে পারে এমন চলচ্চিত্রগুলোকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্যে ২০২৫ সালে বাফটা এই বিশেষ বিভাগটি চালু করেছিল।

চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী, যার জন্য এটি ছিল প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র। এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট, চকবোর্ড এন্টারটেইনমেন্ট এবং সুইটেবল পিকচার্সের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবিটির মাধ্যমে লক্ষ্মীপ্রিয়া আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। এর আগে তিনি ‘লাক বাই চান্স’, ‘তালাশ’ এবং ‘পিকে’-র মতো বড় বাজেটের বলিউড প্রজেক্টে প্রথম সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে তিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। পুরস্কার গ্রহণের সময় এক আবেগঘন বক্তব্যে তিনি তার জন্মভূমি মণিপুরের চলমান অস্থিরতার কথা উল্লেখ করেন এবং সেখানে দ্রুত শান্তি পুনরুদ্ধারের আশা ব্যক্ত করেন। তিনি এই চলচ্চিত্রটিকে তার জন্মভূমির প্রতি এক বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা ভারতের মূলধারার আলোচনায় প্রায়ই অবহেলিত থেকে যায়।

‘বুং’ মূলত একটি কিশোরের বেড়ে ওঠার গল্প বা ‘কামিং-অফ-এজ’ ড্রামা। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে এক স্কুলপড়ুয়া ছেলে, যে তার মা মন্দাকিনী (বালা হিজাম অভিনীত)-র সাথে বসবাস করে। তার বাবা জয়কুমার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের জীবন এক ভিন্ন মোড় নেয়। মাকে ‘সেরা উপহার’ দেওয়ার সংকল্প নিয়ে ছেলেটি তার বন্ধু রাজু (অ্যাং সানামাতুম অভিনীত)-কে সাথে নিয়ে এক দুঃসাহসিক অভিযানে বের হয়। নিখোঁজ বাবার সন্ধানে তারা ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের মোরেহ শহরের উদ্দেশ্যে এক ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা শুরু করে। ছবিতে ব্রোএন্ড্রো ওরফে ‘বুং’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন গুগুন কিপগেন। মণিপুরের সামাজিক অস্থিরতা, জাতিগত উত্তেজনা এবং সীমান্ত অঞ্চলের জটিল জীবনযাত্রার প্রেক্ষাপটে এই ছবির কাহিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

বাফটার এই প্রতিযোগিতায় ‘বুং’ বিশ্বখ্যাত সব আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রকে পেছনে ফেলে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। এই তালিকায় ছিল ‘জুট্রোপলিস ২’ (Zootropolis 2), ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’ (Lilo & Stitch) এবং ফরাসি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীমূলক চলচ্চিত্র ‘আর্কো’ (Arco)। ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (TIFF) ৪৯তম আসরে ‘ডিসকভারি’ বিভাগে এই ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এটি ছিল টরন্টো উৎসবে প্রদর্শিত মণিপুরের প্রথম কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র। এরপর মুম্বাই চলচ্চিত্র উৎসব (MAMI) এবং ভারতের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও (IFFI) ছবিটি প্রদর্শিত হয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। অবশেষে ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর এটি ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। এই গৌরবময় অর্জন বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও সৃজনশীলতাকে আবারও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরল।

7 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • The Hindu

  • MoneyControl

  • Zee News

  • The Indian Express

  • The Insider

  • Daily Jang

  • Wikipedia

  • The Times of India

  • NORTHEAST NOW

  • Forbes

  • Onmanorama

  • India TV News

  • Newsonair

  • GKToday

  • India Today

  • Forbes

  • Wikipedia

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।