ট্রাম্পের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: ভিনগ্রহের প্রাণী ও ইউএপি সংক্রান্ত গোপন নথি উন্মোচন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
লেখক: gaya ❤️ one
২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে এক যুগান্তকারী ঘটনা ঘটে। যে বিষয়টিকে কয়েক দশক ধরে কেবল 'ষড়যন্ত্র তত্ত্ব' হিসেবে গণ্য করা হতো, তা এখন সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের আদেশে একটি দাপ্তরিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভিনগ্রহের প্রাণী এবং ইউএপি (UAP) সংক্রান্ত সরকারি নথিগুলো চিহ্নিত ও জনসমক্ষে আনার নির্দেশ দিয়েছেন।
ফক্স নিউজের সাংবাদিক পিটার ডুসির সাথে এক আলাপচারিতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দেন। তিনি জানান যে, তার প্রশাসন এখন থেকে ভিনগ্রহের জীবন এবং অজ্ঞাত আকাশযান সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপনীয় ফাইলগুলো ডিক্লাসিফাই বা গোপনীয়তামুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। এই পদক্ষেপটি মার্কিন গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্টের পূর্ণ উদ্ধৃতিটি ছিল অত্যন্ত জোরালো এবং তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, "জনসাধারণের ব্যাপক আগ্রহের কথা বিবেচনা করে, আমি প্রতিরক্ষা সচিব এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিভাগগুলোকে ভিনগ্রহের জীবন, অজ্ঞাত বায়ুমণ্ডলীয় ঘটনা (UAP) এবং অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু (UFO) সংক্রান্ত সরকারি নথিগুলো শনাক্ত ও প্রকাশের নির্দেশ দিচ্ছি। ঈশ্বর আমেরিকার মঙ্গল করুন!"
হোয়াইট হাউসের প্রেস সার্ভিস থেকে এই বিবৃতিটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয় এবং ট্রাম্পের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এটি শেয়ার করা হয়। এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী, গবেষক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনার একটি দীর্ঘ এবং রহস্যময় প্রেক্ষাপট রয়েছে। ১৯৪৭ সালের রোজওয়েল ঘটনা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মার্কিন সরকার ভিনগ্রহের প্রযুক্তির অস্তিত্ব ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে এসেছে। তবে ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত লুইস এলিজোন্ডোর নেতৃত্বে পরিচালিত এএটিআইপি (AATIP) প্রোগ্রাম এবং ২০১৭ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত 'টিক-ট্যাক' ও 'গিম্বল' ভিডিওগুলো এই রহস্যকে ধীরে ধীরে অন্ধকারের আড়াল থেকে বের করে আনে।
২০২২ সাল থেকে মার্কিন কংগ্রেসে এই বিষয়ে ধারাবাহিক গণশুনানি শুরু হয়, যা ছিল একটি বড় মোড়। সবচেয়ে আলোচিত শুনানিটি হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৬ জুলাই প্রতিনিধি পরিষদের জাতীয় নিরাপত্তা উপকমিটিতে। সেখানে নৌবাহিনীর প্রাক্তন পাইলট কমান্ডার ডেভিড ফ্র্যাভর, রায়ান গ্রেভস এবং প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ডেভিড গ্রুশ শপথ নিয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
ডেভিড গ্রুশ, যার কাছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছিল, তিনি শপথ নিয়ে জানান যে ৪০ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েক দশক ধরে চলা একটি গোপন প্রোগ্রাম রয়েছে যার কাজ হলো বিধ্বস্ত হওয়া ইউএপি উদ্ধার করা এবং সেগুলোর প্রযুক্তি রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা।
গ্রুশের সূত্রমতে, যারা এখনও এই গোপন প্রোগ্রামগুলোতে কাজ করছেন, তাদের দাবি অনুযায়ী মার্কিন সরকারের কাছে 'অ-মানবিক জৈবিক নমুনা' বা ভিনগ্রহের প্রাণীর দেহাবশেষ রয়েছে। যদিও গ্রুশ নিজে এই নিদর্শনগুলো ব্যক্তিগতভাবে দেখেননি, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই তথ্যগুলো সরাসরি জ্ঞানসম্পন্ন (Direct Knowledge) ব্যক্তিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
শুনানির একটি মূল দিক ছিল যে, কয়েক ডজন বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মকর্তা ভিনগ্রহের প্রযুক্তি এবং গোপন প্রোগ্রামের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন। তবে কঠোর গোপনীয়তা চুক্তি (NDA), স্পেশাল অ্যাক্সেস প্রোগ্রাম (SAP) এবং আইনি শাস্তির ভয়ে তারা জনসমক্ষে মুখ খুলতে পারছিলেন না। গ্রুশ নিজে একজন হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে অভিযোগ দায়ের করার পর নানা ধরনের প্রশাসনিক চাপের সম্মুখীন হন।
নিউ ইয়র্কের সেনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড ২০২৩ সাল থেকে এই বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছেন। তিনি অ্যারো (AARO) প্রতিষ্ঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর সেনেট আর্মড সার্ভিসেস সাবকমিটিতে বার্ষিক প্রতিবেদন নিয়ে শুনানি পরিচালনা করেন। ২০২৫ সালেও হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষায় একাধিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পাইলটরা নিরাপত্তার হুমকির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সুতরাং, এটি স্পষ্ট যে অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ইতিমধ্যে শপথ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আদেশ ছাড়া তারা বিস্তারিত তথ্য বা প্রমাণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারছিলেন না। ট্রাম্পের এই নতুন নির্দেশ সেই আইনি ও প্রশাসনিক বাধাগুলো দূর করার পথে সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির এই ঘোষণাটি কেবল একটি তাৎক্ষণিক তথ্য প্রকাশ নয়, বরং এটি নির্বাহী বিভাগের একটি রাজনৈতিক আদেশ। পরবর্তী ধাপে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন বেসরকারি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে, যারা কয়েক দশক ধরে এই তথ্যগুলো গোপন করে রাখার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
একজন বর্তমান প্রেসিডেন্টের মুখে 'ভিনগ্রহের জীবন' এবং 'এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল' শব্দগুলো শোনা একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এখন দেখার বিষয় হলো, মার্কিন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে কত সময় লাগে। পুরো বিশ্ব এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সেই গোপন ফাইলগুলোতে কী লুকিয়ে আছে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।
20 দৃশ্য
উৎসসমূহ
X
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
