সূর্যের ‘পরম শূন্য’ অবস্থা: রেকর্ড ঝড়ের পর নক্ষত্রটি কি হঠাৎ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন?

লেখক: Uliana S.

Солнце без пятен 22 февраля 2026 года

মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও আমাদের সৌরজগতের প্রাণকেন্দ্র সূর্য একবিংশ শতাব্দীর নতুন রেকর্ড গড়েছিল। মহাকাশে প্লাজমার বিশাল স্রোত নিক্ষেপ করা থেকে শুরু করে পৃথিবীতে শক্তিশালী তেজস্ক্রিয় ঝড়ের তাণ্ডব—সবই দেখা গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন; মনে হচ্ছে যেন সূর্যকে কেউ হঠাৎ ‘বন্ধ’ করে দিয়েছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম সৌর সক্রিয়তার মাত্রা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে, যা বিজ্ঞানীদের এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ২১:০৪ ইউটিসি (UTC) সময়ে সৌর শিখার সক্রিয়তা সূচক ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো শূন্যে নেমে আসে। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনাটি ঘটে ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ০৭:০৮ ইউটিসি নাগাদ। সূর্যের যে অংশটি পৃথিবীর দিকে মুখ করে আছে, সেখানে একটিও সৌর কলঙ্ক বা সানস্পট দেখা যায়নি। সূর্যের উপরিভাগ এখন সম্পূর্ণ পরিষ্কার, যা ২০২১ সালের ১১ ডিসেম্বরের পর অর্থাৎ দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবার দেখা গেল।

এই চৌম্বকীয় স্তব্ধতার রহস্য বুঝতে হলে সৌর কলঙ্ক সম্পর্কে জানতে হবে। সৌর কলঙ্ক হলো সূর্যের শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের দৃশ্যমান বহিঃপ্রকাশ। এই অঞ্চলগুলোতেই চৌম্বকীয় শক্তি ঘনীভূত থাকে, যা সৌর শিখা এবং প্লাজমা নিঃসরণের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে কলঙ্কের অনুপস্থিতি নির্দেশ করছে যে, সূর্যের ম্যাগনেটোস্ফিয়ার চরম নিঃশেষিত বা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে যেখানে একটি সক্রিয় অঞ্চলে অস্বাভাবিক মাত্রায় শিখা দেখা গিয়েছিল, এখন মনে হচ্ছে নক্ষত্রটি তার সমস্ত শক্তি ব্যয় করে আক্ষরিক অর্থেই ‘ক্লান্ত’ হয়ে পড়েছে।

বর্তমান সৌর চক্রের পর্যায়টি এই পরিস্থিতিকে আরও কৌতূহলোদ্দীপক করে তুলেছে। আমরা এখন ২৫তম সৌর চক্রের সর্বোচ্চ শিখর অতিক্রম করার মাত্র দেড় বছর পরের অবস্থানে রয়েছি। সাধারণত এই সময়ে সৌর সক্রিয়তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে রেকর্ড উচ্চতা থেকে একেবারে শূন্যে নেমে আসার এই নাটকীয় পতন হেলিওফিজিসিস্ট বা সৌর বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বড় চমক হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ইতিহাসের পাতায় তাকালে এই ঘটনাটি বিখ্যাত ‘মাউন্ডার মিনিমাম’ (১৬৪৫–১৭১৫ সাল) এর কথা মনে করিয়ে দেয়। সেই সময়ে কয়েক দশক ধরে সূর্যের উপরিভাগ থেকে কলঙ্ক উধাও হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে পৃথিবীতে ‘ক্ষুদ্র তুষার যুগ’ বা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিজ্ঞানীদের এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, এই শান্ত অবস্থা সম্ভবত সাময়িক এবং দীর্ঘস্থায়ী কোনো বিপর্যয়ের সংকেত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্য এখন একটি স্তিমিত হওয়ার পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তবে এর অভ্যন্তরীণ ডায়নামো বা শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া বছরের পর বছর বন্ধ থাকার মতো অবস্থায় পৌঁছায়নি। তারা মন্তব্য করেছেন যে, আমরা সম্ভবত একটি গভীর কিন্তু স্বল্পমেয়াদী স্থবিরতা প্রত্যক্ষ করছি। খুব শীঘ্রই সূর্যের অভ্যন্তরের চৌম্বক ক্ষেত্রগুলো পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠবে এবং আবার নতুন করে সৌর কলঙ্ক তৈরি হতে শুরু করবে।

পৃথিবীর জন্য এর প্রভাব কী হতে পারে? মহাকাশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের জন্য এটি এখন ‘ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা’। সৌর শিখার অনুপস্থিতির অর্থ হলো আমাদের গ্রহের ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র এখন অত্যন্ত স্থিতিশীল। গত কয়েক মাসে উত্তর গোলার্ধের ৫০ ডিগ্রি অক্ষাংশ পর্যন্ত (ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যভাগ) যে মেরুজ্যোতি বা অরোরা দেখা গিয়েছিল, তা এখন সাময়িকভাবে অদৃশ্য হয়ে যাবে। এই আলোকছটা এখন কেবল তার চিরচেনা মেরু অঞ্চলগুলোতে (৬৫ ডিগ্রি অক্ষাংশের উপরে) সীমাবদ্ধ থাকবে।

তা সত্ত্বেও, সৌর বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন যে এই ‘শূন্য’ সক্রিয়তার সময়কাল আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। যেভাবে দ্রুত গতিতে এই সক্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে, বিদ্যমান কোনো মডেল দিয়েই এর পুনরুদ্ধারের গতি সম্পর্কে সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সূর্য আমাদের বারবার চমকে দিচ্ছে এবং মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও আমরা এখনও আমাদের সৌরজগতের একমাত্র নক্ষত্রটির খামখেয়ালিপনার ওপর কতটা নির্ভরশীল।

13 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • ЛАБОРАТОРИЯ СОЛНЕЧНОЙ АСТРОНОМИИ ИКИ и ИСЗ Ф

  • ЛАБОРАТОРИЯ СОЛНЕЧНОЙ АСТРОНОМИИ ИКИ и ИСЗ Ф

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।