Flare X 1.95 থেকে 18 января 2026 года, 18:09 UTC সক্রিয় এলাকা 4341-এ।
২০২৬ সালের প্রথম বিশাল সৌর শিখা: পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী সৌর ঝড়
লেখক: Uliana S.
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ইউটিসি (UTC) সময় ১৮:০৯ মিনিটে সূর্য আমাদের গ্রহের দিকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী রশ্মি নিক্ষেপ করেছে। সৌর পৃষ্ঠের দৃশ্যমান চাকতির ঠিক কেন্দ্রে অবস্থিত 'অ্যাক্টিভ রিজন ৪৩৪১' নামক একটি অত্যন্ত সক্রিয় অঞ্চল থেকে এই বছরের প্রথম 'এক্স-ক্লাস' (X-class) বা সর্বোচ্চ শ্রেণির সৌর শিখাটি উৎপন্ন হয়েছে। এই মহাজাগতিক বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল এক্স ১.৯৫ (X1.95) মাত্রার, যা গত বছরের ১৪ নভেম্বরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ঘটা সবচেয়ে শক্তিশালী এবং তাৎপর্যপূর্ণ সৌর ঘটনা হিসেবে বিজ্ঞানীদের খাতায় নথিবদ্ধ হয়েছে।
সূর্য থেকে নির্গত করোনাল মাস ইজেকশন-এ পুরো হ্যালো, পটভূমিতে বুধ, শুক্র ও মঙ্গল উজ্জ্বলভাবে জ্বলছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোনো আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন বিস্ফোরণ নয়, বরং একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ। এই নির্দিষ্ট সক্রিয় অঞ্চলটি জানুয়ারির শুরুতেই তার প্রচণ্ড অস্থিরতা প্রদর্শন করেছিল এবং সূর্যের উল্টো দিকে থাকা অবস্থায় দুটি শক্তিশালী শিখা তৈরি করেছিল। তবে সূর্যের ঘূর্ণনের ফলে এখন এটি সরাসরি পৃথিবীর অভিমুখে অবস্থান করছে এবং তার পূর্ণ বিধ্বংসী ক্ষমতা প্রদর্শন করছে। সোলার ডায়নামিক্স অবজারভেটরি (SDO) এর মতো অত্যাধুনিক মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো জানিয়েছে যে, এই ঘটনায় প্রায় ৪৫০,০০০ কিলোমিটার বিস্তৃত একটি বিশাল চৌম্বকীয় কাঠামো জড়িত ছিল, যা আমাদের পৃথিবীর ব্যাসের তুলনায় প্রায় ৩৫ গুণ বেশি বড়। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে মহাকাশে দুটি বিশাল প্রোটুবারেন্স বা উত্তপ্ত গ্যাসীয় শিখা নির্গত হতে দেখা গেছে যা বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে।
X1.9 CME এর জন্য প্রাথমিক মডেল
করোনাগ্রাফ (GOES/CCOR-1) থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যের গভীর বিশ্লেষণ শেষে বিজ্ঞানীরা একটি উদ্বেগজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তারা জানিয়েছেন যে, একটি বিশাল করোনাল মাস ইজেকশন (CME) বা প্লাজমার মেঘ সরাসরি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। এই প্লাজমা মেঘের প্রাথমিক গতিবেগ রেকর্ড ২০০০ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড হিসেবে পরিমাপ করা হয়েছে, যা এর মধ্যে নিহিত প্রচণ্ড শক্তির প্রমাণ দেয়। যদিও আন্তঃগ্রহ মহাকাশের মধ্য দিয়ে ভ্রমণের সময় এই মেঘের গতি কিছুটা হ্রাস পাবে, তবুও বর্তমান গাণিতিক মডেল অনুযায়ী এটি ২০ জানুয়ারির মধ্যেই পৃথিবীর চৌম্বক মণ্ডলে আঘাত হানবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
Flash X 1.95 18 января 2026 года পর্যন্ত
এই মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে পৃথিবীতে জি৩ (G3 - শক্তিশালী) বা এমনকি জি৪ (G4 - অত্যন্ত শক্তিশালী) মাত্রার একটি ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়ের প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ধরনের শক্তিশালী ঝড় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, জিপিএস নেভিগেশন সিস্টেমের নির্ভুলতা এবং উচ্চ অক্ষাংশের বিমান চলাচলের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য এই ঝড়ের একটি অত্যন্ত মনোরম এবং দৃশ্যমান দিকও রয়েছে, যা হলো মেরুজ্যোতি বা অরোরা বোরিয়ালিস। ২০ জানুয়ারি রাতে এই আলোকছটা অস্বাভাবিকভাবে নিম্ন অক্ষাংশেও দেখা যেতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, দৃশ্যমানতার সীমা ৫০ ডিগ্রি সমান্তরাল পর্যন্ত নেমে আসতে পারে, যার ফলে লন্ডন, প্যারিস, প্রাগ, ভ্যাঙ্কুভার এবং এমনকি কিয়েভের মতো শহর থেকেও এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব হতে পারে।
পরিশেষে বলা যায় যে, ২০২৬ সালের প্রথম এই বিশাল মহাকাশ ঝড়ের মুখোমুখি হতে পৃথিবী এখন পুরোপুরি প্রস্তুত হচ্ছে। এই ঘটনাটি আমাদের গ্রহের সাথে তার জীবনদায়ী নক্ষত্র সূর্যের যে এক অবিচ্ছেদ্য, জটিল এবং গতিশীল সম্পর্ক রয়েছে, তা আবারও অত্যন্ত জোরালোভাবে আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। মহাকাশ বিজ্ঞানের এই অগ্রগতি এবং বিজ্ঞানীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ আমাদের এই ধরনের শক্তিশালী মহাজাগতিক পরিস্থিতির পূর্বাভাস পেতে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে। এটি প্রকৃতির এক অমোঘ শক্তির বহিঃপ্রকাশ যা আমাদের মহাবিশ্বের বিশালতা সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
উৎসসমূহ
Лаборатория солнечной астрономии ИКИ и СОЭФ
