সূর্যের প্রান্তে রহস্যময় বিস্ফোরণ: দিগন্তের আড়াল থেকে আসা শিখায় অবাক জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

লেখক: Uliana S.

M2.4 ফ্লেয়ার (@ S9°E89° 2026-02-16 04:03 / 04:35 \ 04:52 UT)

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে গ্রিনিচ মান সময় (UTC) ভোর ০৪:৩৫ মিনিটে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো সূর্যের পূর্ব প্রান্তে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ বা সৌর শিখা শনাক্ত করেছে। এই ঘটনাটিকে এম২.৪ (M2.4) মাত্রার একটি মাঝারি পাল্লার বিস্ফোরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার বিশেষত্ব এর শক্তিতে নয়, বরং এর আকস্মিকতায়। গত কয়েকদিন ধরে আমাদের নক্ষত্রটি প্রায় সম্পূর্ণ শান্ত অবস্থায় ছিল এবং এক্স-রে বিকিরণের গ্রাফে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি, যা ছিল অনেকটা একটি সরলরেখার মতো। কিন্তু হঠাত করেই সূর্যের একটি আপাতদৃষ্টিতে শূন্য অঞ্চল থেকে এই শক্তিশালী শক্তির নির্গমন বিজ্ঞানীদের রীতিমতো কৌতূহলী করে তুলেছে।

এই সক্রিয় অঞ্চলটি যে এই ফ্লেয়ার এবং করোনাল মাস ইজেকশন তৈরি করেছে, তার এখনও কোনো নাম নেই, তবে শীঘ্রই এটি পৃথিবীর দিকে মুখ করা ডিস্কে পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে।

এই বিস্ফোরণের প্রধান রহস্য হলো এর উৎসটি সূর্যের দিগন্তের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে। পৃথিবী যেমন নিজের অক্ষের ওপর ঘোরে, সূর্যও তেমনি আবর্তিত হয়। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা কেবল সূর্যের প্রান্তভাগ বা লিম্ব দেখতে পাচ্ছেন, যার আড়ালে সম্ভবত একটি নতুন সক্রিয় অঞ্চল তৈরি হচ্ছে। রাশিয়ান একাডেমি অফ সায়েন্সেসের স্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (IKI RAN) সৌর জ্যোতির্বিজ্ঞান ল্যাবরেটরি থেকে জানানো হয়েছে যে, এর আগে সূর্যের এই অংশে কোনো চাঞ্চল্য দেখা যায়নি এবং তারা নিশ্চিত ছিলেন যে সেখানে কোনো সৌর কলঙ্ক বা সানস্পট নেই। এখন গবেষকরা দুটি সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন: হয় একটি ছোট বিচ্ছিন্ন সানস্পট শক্তি সঞ্চয় করে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, অথবা আমরা একটি বিশাল সানস্পট গোষ্ঠীর জন্ম প্রত্যক্ষ করছি যা শীঘ্রই পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে।

যদি দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি সঠিক হয়, তবে আগামী কয়েক ঘণ্টা বা দিনের মধ্যে আরও সৌর শিখা দেখা যেতে পারে এবং বিকিরণের সামগ্রিক মাত্রা বাড়তে শুরু করবে। অন্যদিকে, এটি যদি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়, তবে বিকিরণের মাত্রা আগের মতোই নিম্নমুখী থাকবে এবং এর কোনো দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে না। এই রহস্যের সমাধান পেতে আমাদের সময়ের অপেক্ষা করতে হবে। আগামীকাল নাগাদ সূর্যের পূর্ব প্রান্তটি পৃথিবীর দিকে আরও ঘুরে আসবে, যার ফলে টেলিস্কোপগুলো দিগন্তের আড়ালে ঠিক কী ঘটছে তা স্পষ্টভাবে দেখতে সক্ষম হবে এবং তখন প্রকৃত চিত্রটি ফুটে উঠবে।

এই বিস্ফোরণের সাথে সাথে প্রচুর পরিমাণে সৌর প্লাজমা নির্গত হয়েছে। সন্ধ্যার দিকে করোনাগ্রাফ থেকে পাওয়া প্রাথমিক ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, প্লাজমার এই মেঘটি বেশ বিশাল। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই নির্গমনটি পৃথিবীর দিক থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে, প্লাজমা নির্গমনের গতিপথটি পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের দিকে হওয়ায় আমাদের গ্রহ কোনো বিপদের মুখে নেই। এর ফলে পৃথিবীতে কোনো ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় (magnetic storms) বা বিকিরণজনিত ঝুঁকির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর।

বর্তমানে নতুন করে কোনো সৌর শিখা বা বিস্ফোরণ রেকর্ড করা হয়নি এবং বিকিরণের মাত্রা তার স্বাভাবিক নিম্ন স্তরে ফিরে এসেছে। তা সত্ত্বেও, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্যের এই নির্দিষ্ট অংশের ওপর কড়া নজর রাখছেন। কারণ, যদি সেখানে সত্যিই একটি নতুন সক্রিয় অঞ্চল তৈরি হতে থাকে, তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মহাকাশ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরনের সক্রিয় অঞ্চলগুলো সৌর চক্রের গতিপ্রকৃতি বুঝতে সাহায্য করে।

এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে, সূর্য শান্ত থাকলেও যেকোনো সময় বিস্ময় উপহার দিতে পারে। সূর্যের আড়ালে থাকা অংশগুলো অধ্যয়ন করা আমাদের নক্ষত্রের কার্যকলাপের জটিল প্রক্রিয়াগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে। দিগন্তের ওপারে ঠিক কী রহস্য লুকিয়ে আছে এবং এটি আমাদের আগামীর মহাকাশ গবেষণায় কী প্রভাব ফেলবে, তার উত্তর আমরা খুব শীঘ্রই পেয়ে যাব। এই ধরনের পর্যবেক্ষণ আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

24 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
সূর্যের প্রান্তে রহস্যময় বিস্ফোরণ: দিগন্ত... | Gaya One