আমেরিকান পদার্থবিদ ডঃ মাইকেল গুইলেনের মহাজাগতিক দিগন্ত ও ঈশ্বরের অবস্থান সংক্রান্ত তত্ত্ব

সম্পাদনা করেছেন: Vera Mo

আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী ডঃ মাইকেল গুইলেন তাঁর একটি সুপ্রতিষ্ঠিত তত্ত্ব বজায় রেখেছেন, যা মহাবিশ্বের আনুমানিক সীমানায় ঈশ্বরের অবস্থান নির্দেশ করে। এই ধারণাটি ২০২৬ সালের শুরুতে জনসমক্ষে আসে এবং বৈজ্ঞানিক ও ধর্মতাত্ত্বিক মহলে উল্লেখযোগ্য আলোচনার জন্ম দেয়।

ডঃ গুইলেন প্রস্তাব করেন যে ঈশ্বর পৃথিবী থেকে প্রায় ৪৩৯ বিলিয়ন ট্রিলিয়ন কিলোমিটার (বা ২৭৩ বিলিয়ন ট্রিলিয়ন মাইল) দূরে অবস্থিত, যা তিনি 'কসমিক হরাইজন' বা মহাজাগতিক দিগন্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই তত্ত্বে বাইবেলের নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদগুলিকে জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের ধারণার সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে। কসমিক হরাইজনের ব্যাখ্যা অনুসারে, এই তাত্ত্বিক দূরত্বে দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলির গতি আলোর গতির সমান হয়, যা পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের বহিঃসীমা নির্দেশ করে। এই ধারণাটি এডউইন হাবলের সম্প্রসারণ গবেষণার ওপর ভিত্তি করে সংজ্ঞায়িত।

এই তত্ত্বের ভিত্তি হলো এডউইন হাবলের ১৯২৯ সালের আবিষ্কার, যা হাবলের সূত্র নামে পরিচিত, যেখানে তিনি দেখিয়েছিলেন যে গ্যালাক্সিগুলি মিল্কিওয়ে থেকে তাদের দূরত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ গতিতে দূরে সরে যাচ্ছে। ডঃ গুইলেনের মতে, আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুসারে এই মহাজাগতিক দিগন্তের দূরত্বে সময় থেমে যায় বলে মনে হয়, যা বাইবেলে বর্ণিত ঈশ্বরের 'শাশ্বত' অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই দূরত্বটি এত বিশাল যে, নিউক্লিয়ার-চালিত রকেট ব্যবহার করেও মানুষের পক্ষে এই দিগন্তে পৌঁছানো তাত্ত্বিকভাবে অসম্ভব, কারণ কেবল আলো বা আলো-সদৃশ ঘটনা আলোর গতিতে ভ্রমণ করতে পারে।

ডঃ গুইলেনের শিক্ষাগত পটভূমি তাঁর দাবিগুলিকে একটি বৈজ্ঞানিক কাঠামো প্রদান করে, যদিও তা সর্বজনীনভাবে গৃহীত নয়। তিনি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞান, গণিত এবং জ্যোতির্বিদ্যায় ত্রিমুখী পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের পুরস্কার বিজয়ী প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং ১৯৮৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৪ বছর এবিসি নিউজের এমি পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞান সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর এই প্রচেষ্টা বর্তমান বৈজ্ঞানিক সৃষ্টিতত্ত্ব এবং মহাবিশ্বের সীমা নিয়ে ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যার মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে তুলে ধরে।

ডঃ গুইলেন আরও অনুমান করেন যে কসমিক হরাইজনের ওপারে একটি সম্পূর্ণ মহাবিশ্ব বিদ্যমান, যেখানে 'আলো-সদৃশ সত্তা' বিরাজ করে এবং তিনি এই সময়হীন ক্ষেত্রটিকে বাইবেলে উল্লিখিত স্বর্গের তিনটি স্তরের সঙ্গে সংযুক্ত করেন। জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানীরা এই ধারণার বৈজ্ঞানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, কারণ কসমিক হরাইজন একটি পর্যবেক্ষক-আপেক্ষিক ধারণা, কোনো ভৌত বাধা নয়। তাঁদের মতে, এই দিগন্ত অতিক্রম করলে কেবল আরও দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলি উন্মোচিত হবে, সময় থেমে যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নয়। উল্লেখ্য, মহাবিশ্বের প্রসারণের ত্বরণশীল হারের কারণে বর্তমানে পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের প্রকৃত ব্যাসার্ধ প্রায় ৪৬.৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষ।

ডঃ গুইলেনের এই প্রচেষ্টা বিজ্ঞান ও বিশ্বাসের সংযোগস্থল নিয়ে চলমান আলোচনাকে উসকে দিয়েছে, যা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'বিলিয়ভিং ইজ সিনিয়িং'-এ প্রতিফলিত, যেখানে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে বিজ্ঞান তাঁর নাস্তিকতাকে ভেঙে বিশ্বাসের প্রয়োজনীয়তা উন্মোচন করেছে। এই অবস্থান সত্ত্বেও, তিনি দৃঢ়ভাবে তাঁর তত্ত্ব বজায় রেখেছেন, যা বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে, যারা এটিকে ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যার দিকে বেশি ঝুঁকে থাকা বলে মনে করেন।

8 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Libertatea

  • IFLScience

  • IBTimes

  • Times of India

  • Daily Express

  • Daily Star

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।