২০২৫ সালের ১৭ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতের নয়াদিল্লিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর দ্বিতীয় বৈশ্বিক ঐতিহ্যবাহী ঔষধ সম্মেলন আয়োজিত হয়েছিল। ভারতের AYUSH মন্ত্রকের সহযোগিতায় ভারত মণ্ডপম প্রাঙ্গণে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ‘ভারসাম্য পুনরুদ্ধার: স্বাস্থ্য ও কল্যাণের বিজ্ঞান ও অনুশীলন’, যা সরাসরি WHO-এর ঐতিহ্যবাহী ঔষধ সংক্রান্ত বৈশ্বিক কৌশল (২০২৫-২০৩৪) বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করে।
এই সম্মেলনের একটি প্রধান আকর্ষণ ছিল WHO-এর বৈশ্বিক ঐতিহ্যবাহী ঔষধ কেন্দ্র (GTMC) কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ঐতিহ্যবাহী ঔষধের বৈশ্বিক গ্রন্থাগার (TMGL) উন্মোচন। এই ডিজিটাল ভান্ডারটিকে ঐতিহ্যবাহী, পরিপূরক এবং সমন্বিত ঔষধ সংক্রান্ত বিশ্বের বৃহত্তম তথ্যভান্ডার হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বর্তমানে এতে ১.৬ মিলিয়নেরও বেশি বৈজ্ঞানিক নথি সংরক্ষিত রয়েছে। ২০২৩ সালে ‘গোষ্ঠী-২০’ (G20) এবং ব্রিকস (BRICS) বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবগুলির প্রত্যুত্তর হিসেবে TMGL তৈরি করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো এই ক্ষেত্রে জ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিশাল শূন্যতা পূরণ করা।
সম্মেলনে উপস্থাপিত পরিসংখ্যানগুলি এই ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে তুলে ধরে: WHO-এর প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্য রাষ্ট্র জানিয়েছে যে তাদের জনসংখ্যার ৪০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ নিয়মিতভাবে ঐতিহ্যবাহী ঔষধ (TM) ব্যবহার করে থাকেন। তবে, GTMC-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডঃ শ্যামা কুরুভিলা উল্লেখ করেন যে, বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য গবেষণার জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলের মাত্র এক শতাংশও ঐতিহ্যবাহী ঔষধের জন্য ব্যয় করা হয় না। ব্যবহারের এই ব্যাপকতা এবং বৈজ্ঞানিক সমর্থনের এই অভাব TMGL-এর সূচনাকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
এই সম্মেলন এবং গ্রন্থাগারের উদ্বোধন WHO-এর ২০২৫ থেকে ২০৩৪ সালের বৈশ্বিক কৌশল দ্রুত বাস্তবায়নে অনুঘটকের কাজ করবে। এই কৌশলটি প্রমাণভিত্তিকতা, নিরাপত্তা, একীকরণ এবং আন্তঃক্ষেত্রীয় মূল্যের ওপর বিশেষ জোর দেয়। WHO-এর মহাপরিচালক ডঃ টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাস এবং WHO-এর প্রধান বিজ্ঞানী ডঃ সিলভি ব্রায়ান এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ১০০টিরও বেশি দেশের মন্ত্রী ও বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। ভারতের ব্যাপক আর্থিক সহায়তায় জামনগরে প্রতিষ্ঠিত GTMC এই বৈশ্বিক প্রচেষ্টার প্রযুক্তিগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাথে তথ্যের সম্মানজনক আদান-প্রদান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মেধা সম্পত্তির অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি। পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এই সম্মেলনটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে কাজ করছে, যা প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন মানুষকে প্রভাবিত করে। WHO মহাপরিচালকের মতে, আধুনিক বিজ্ঞানের সক্ষমতার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ঔষধের সমন্বয় সাধনই হলো আর্থিক বাধা ছাড়াই সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি।




