NVIDIA এবং Eli Lilly যৌথভাবে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) উদ্ভাবন গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপটি মূলত NVIDIA-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াং এবং Eli Lilly-এর সিইও ডেভিড এ. রিক্সের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনার ফসল। ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত জে.পি. মরগান হেলথকেয়ার কনফারেন্সে এই ঘোষণাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়। আগামী পাঁচ বছর মেয়াদে এই অংশীদারিত্বের আওতায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করা হবে, যা মূলত মেধা বিকাশ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং কম্পিউটিং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ব্যয় করা হবে।
নতুন এই গবেষণা কেন্দ্রটি ২০২৬ সালের মার্চের শেষ নাগাদ সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়াতে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো 'ইন সিলিকো' (in silico) পদ্ধতিতে জৈবিক ও রাসায়নিক ক্ষেত্রগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে ওষুধ আবিষ্কারের একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করা। ডেভিড রিক্স উল্লেখ করেছেন যে, ক্ষুদ্র অণুর ওষুধ আবিষ্কারের ঐতিহ্যগত প্রক্রিয়াকে একটি প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জে রূপান্তর করা মানুষের জীবনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ল্যাবে Lilly-এর জীববিজ্ঞান ও রসায়ন বিশেষজ্ঞদের সাথে NVIDIA-এর এআই বিশেষজ্ঞরা 'সায়েন্টিস্ট-ইন-দ্য-লুপ' (scientist-in-the-loop) পদ্ধতিতে কাজ করবেন। এখানে স্বায়ত্তশাসিত 'ওয়েট ল্যাব' (wet labs) এবং কম্পিউটেশনাল 'ড্রাই ল্যাব' (dry labs) একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকবে, যা এআই মডেলগুলোর ক্রমাগত শিখনে সহায়তা করবে।
বায়োমেডিক্যাল মডেল প্রশিক্ষণের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে NVIDIA BioNeMo প্ল্যাটফর্ম এবং তাদের আসন্ন ভেরা রুবিন (Vera Rubin) আর্কিটেকচার। এই প্রকল্পটি Eli Lilly-এর বিদ্যমান সুপারকম্পিউটারকে আরও শক্তিশালী করবে, যা NVIDIA DGX SuperPOD এবং DGX B300 সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই সহযোগিতার পরিধি কেবল ওষুধ আবিষ্কারেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ক্লিনিকাল ডেভেলপমেন্ট, উৎপাদন এবং বাণিজ্যিকীকরণের ক্ষেত্রগুলোকেও স্পর্শ করবে। এর মধ্যে ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি এবং রোবোটিক্সের ব্যবহারও অন্তর্ভুক্ত থাকবে যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।
NVIDIA-এর স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কিম্বার্লি পাওয়েল জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই অংশীদারিত্ব Lilly-এর দক্ষতা এবং NVIDIA-এর এআই সক্ষমতাকে একত্রিত করে ওষুধ ডিজাইনের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। বর্তমান সময়ে একটি নতুন ওষুধ তৈরি করতে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ বছর সময় লাগে এবং এতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, যা ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জেনসেন হুয়াং এই প্রসঙ্গে বলেন যে, তাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে এমন সব বৈজ্ঞানিক সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে যা এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অর্জন করা অসম্ভব ছিল।
এই উদ্যোগটি বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ওষুধের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানোর বিষয়টি এখন আরও সহজতর হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সংমিশ্রণ কেবল গবেষণার গতিই বাড়াবে না, বরং জীবন রক্ষাকারী ওষুধগুলো সাধারণ মানুষের কাছে আরও দ্রুত পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। সান ফ্রান্সিসকোর এই ল্যাবটি আগামী দিনে বিশ্বজুড়ে বায়োটেকনোলজি এবং এআই-এর মেলবন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।




