চাইনিজ ও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীরা 'চ্যাং-ই-৫' এবং 'চ্যাং-ই-৬'-এর চাঁদের নমুনায় নাইট্রোজেনযুক্ত জৈব পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন

সম্পাদনা করেছেন: undefined undefined

চাঁদের মাটিতে জৈব পদার্থের গঠন ও বিবর্তনের একটি রূপরেখাচিত্র।

চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অফ জিওলজি অ্যান্ড জিওফিজিক্সের (IGGCAS) বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে একদল আন্তর্জাতিক গবেষক 'চ্যাং-ই-৫' এবং 'চ্যাং-ই-৬' অভিযানের মাধ্যমে সংগৃহীত চন্দ্রপৃষ্ঠের ধূলিকণা বা রেগোলিথ বিশ্লেষণের ফলাফল প্রকাশ করেছেন। ২০২৬ সালের ৮ বা ৯ এপ্রিল 'সায়েন্স অ্যাডভান্সেস' (Science Advances) সাময়িকীতে এই তথ্যগুলো প্রকাশিত হয়। এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো চাঁদের ধুলোয় থাকা বিভিন্ন ধরনের নাইট্রোজেনযুক্ত জৈব যৌগকে পদ্ধতিগতভাবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং সৌরজগতের পরিবেশে তাদের বিবর্তনের পথ বর্ণনা করা হয়েছে।<\/p>

Chang'e-6 (A-B) এবং Chang'e-5 (C-D) এর চন্দ্র নমুনাগুলোতে খুঁজে পাওয়া বিভিন্ন ধরনের জৈব পদার্থ।

চাঁদের ভূতাত্ত্বিকভাবে নিষ্ক্রিয় পরিবেশের কারণে সেখানে এমন কিছু রাসায়নিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে, যা পৃথিবীর সক্রিয় প্রক্রিয়ার ফলে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই গবেষণাটি নিশ্চিত করে যে, গ্রহাণু এবং ধূমকেতুর মাধ্যমে সৌরজগতের অভ্যন্তরীণ অংশে জৈব পদার্থ আসার ইতিহাস চাঁদ তার বুকে ধরে রেখেছে। এই জৈব যৌগগুলো মূলত উপ-মাইক্রোন থেকে মাইক্রোন আকারের কণা হিসেবে, অথবা কার্বন, নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন সমৃদ্ধ প্রলেপ এবং আবদ্ধ কাঠামো হিসেবে অবস্থান করছে। বেশ কিছু নমুনায় অ্যামাইড ফাংশনাল গ্রুপ পাওয়া গেছে, যা জটিল রাসায়নিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।<\/p>

ন্যানোসিমস (NanoSIMS) পদ্ধতি ব্যবহার করে করা আইসোটোপ প্রোফাইলিং ছিল এই গবেষণার একটি অন্যতম প্রধান দিক। দেখা গেছে যে, চাঁদের জৈব পদার্থে হাইড্রোজেন, কার্বন এবং নাইট্রোজেনের আইসোটোপিক অনুপাত কার্বোনেসিয়াস কনড্রাইট এবং অন্যান্য গ্রহাণুর নমুনার তুলনায় গড়ে অনেক বেশি 'হালকা'। এই অমিলটি এমন একটি পরিস্থিতির সাথে মিলে যায় যেখানে মূল পদার্থটি প্রচণ্ড তাপমাত্রার সংঘর্ষের ফলে বাষ্পীভূত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ঘনীভূত হয়েছিল।<\/p>

বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো জৈব পদার্থের মধ্যে সৌর বায়ুর কণা প্রবেশের সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছেন। এটি নমুনার পার্থিব দূষণ হওয়ার সম্ভাবনাকে বাতিল করার জন্য একটি শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করে এবং চন্দ্রপৃষ্ঠে দীর্ঘকাল ধরে বিকিরণের সংস্পর্শে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে। আদি সৌরজগতে গ্রহাণু এবং ধূমকেতু পৃথিবীর মতো গ্রহগুলোতে কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, ফসফরাস এবং সালফারের মতো প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো বহন করে এনেছিল, যা রাসায়নিক পূর্বসূরি হিসেবে কাজ করতে পারত।<\/p>

২০২৪ সালের ৩ মে উৎক্ষেপিত 'চ্যাং-ই-৬' অভিযান চাঁদের উল্টোপিঠ থেকে ১৯৩৫.৩ গ্রাম নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনেছে, যা পূর্ববর্তী 'চ্যাং-ই-৫' অভিযানের তুলনায় গবেষণার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে। এই গবেষণার তথ্যগুলো পরিকল্পিত 'তিয়ানওয়েন-২' সহ ভবিষ্যতের আন্তঃগ্রহীয় নমুনা সংগ্রহ অভিযানের জন্য একটি বিশ্লেষণাত্মক ভিত্তি তৈরি করছে এবং আদি সৌরজগতে ক্ষুদ্র বস্তুর রূপান্তর সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করছে।<\/p>

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • afpbb.com

  • CGTN

  • Global Times

  • Lifeboat News: The Blog

  • Excite News

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।