২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই যুক্তরাজ্যজুড়ে জারি হয়েছে গুরুতর আবহাওয়ার সতর্কতা। বিশেষত দক্ষিণ ওয়েলসের জন্য মেট অফিস একটি অ্যাম্বার সতর্কতা জারি করেছে, যা সোমবার, ডিসেম্বর ১ তারিখের মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সতর্কীকরণ অঞ্চলের উঁচু এলাকাগুলোতে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১২০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই পরিমাণ বৃষ্টিপাত ওই অঞ্চলের স্বাভাবিক মাসিক গড় বৃষ্টির সমান।
Met Office's dire warning as one month's rainfall to batter the country today mirror.co.uk/news/uk-news/u…
এই তীব্র বৃষ্টিপাতের প্রধান কারণ হলো আটলান্টিক মহাসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পে পরিপূর্ণ একটি আবহাওয়া ব্যবস্থা, যা ব্যানাউ ব্রাইচেইনিওগ (ব্রেকন বিকনস)-এর মতো অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতির সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করছে। এই মিথস্ক্রিয়ার ফলে স্থানীয়ভাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অরোগ্রাফিক এনহ্যান্সমেন্ট নামে পরিচিত। দক্ষিণ ওয়েলসের ভূমি ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত জল শোষণ করে স্যাঁতসেঁতে হয়ে থাকায় এই প্রবল বর্ষণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মেট অফিসের সিনিয়র অপারেশনাল আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মার্কো পেটাগনা উল্লেখ করেছেন যে মাটির এই স্যাঁতসেঁতে অবস্থার কারণে নতুন বৃষ্টির জল শোষিত হওয়ার সুযোগ কম, ফলে তা সরাসরি ভূপৃষ্ঠ দিয়ে গড়িয়ে নদীগুলোর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি করবে।
পরিস্থিতির মোকাবিলায়, ন্যাচারাল রিসোর্সেস ওয়েলস (NRW) দেশের বন্যা ঝুঁকির মাত্রা 'মাঝারি' স্তরে উন্নীত করেছে। একই সাথে, তারা দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয়ভাবে ৩৪টি বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। এনআরডব্লিউ-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, 'মাঝারি' বন্যা ঝুঁকির অর্থ হলো নদী বা ভূপৃষ্ঠের জল থেকে বছরে ১ বারের মধ্যে ১০০ (১%) থেকে শুরু করে ৩৩ বারের মধ্যে ১ (৩.৩%) বার বন্যার সম্ভাবনা থাকে। অ্যাম্বার সতর্কতা, যা দ্রুত প্রবাহিত বা গভীর বন্যার জলের কারণে জীবনহানির ঝুঁকি নির্দেশ করে, তা ১ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত দক্ষিণ ওয়েলসের অধিকাংশ অঞ্চলে বলবৎ থাকবে। এই সতর্কতার আওতাভুক্ত কাউন্টিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্লেইনাউ গওয়েন্ট, ব্রিজেন্ড, কার্ডিফ এবং রন্ডা সিনন টাফ।
তাৎক্ষণিক বন্যার আশঙ্কার পাশাপাশি, এত বিপুল পরিমাণ জলপ্রবাহ প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট উভয় প্রকার ঢালেই ভূমিধসের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করছে। ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভে অনুযায়ী, ওয়েলসে এমন তীব্র বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ভূমিধসের ঘটনা ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত। এছাড়াও, সমাজের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে পরিবহন ব্যবস্থা, বিশেষত বাস ও ট্রেন পরিষেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে আসা শক্তিশালী দক্ষিণ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমমুখী বাতাস উপকূলীয় এবং উঁচু এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে আনতে পারে, যার ফলস্বরূপ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং জলমগ্ন রাস্তার কারণে জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য, এনআরডব্লিউ জনসাধারণকে তাদের বিনামূল্যে বন্যা সতর্কীকরণ পরিষেবায় নথিভুক্ত হওয়ার অথবা ফ্লাডলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। একইসঙ্গে, জনগণকে মূল্যবান জিনিসপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে নিতে এবং পা হেঁটে বা গাড়িতে করে বন্যার জল অতিক্রম করা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। এই ঘটনাটি আবহাওয়ার শীতকালের এক উল্লেখযোগ্য সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে ওয়েলস নভেম্বরের গড় বৃষ্টিপাত ১৬২ মিমি ছাড়িয়ে প্রায় ২৪০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছিল। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অংশেও পরিবেশ সংস্থা একাধিক সতর্কতা জারি করেছে, এবং যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অংশে, যেমন দক্ষিণ-পশ্চিম স্কটল্যান্ডে, হলুদ সতর্কতা কার্যকর রয়েছে।



