গত ৪৮ ঘণ্টায় হিমালয় অঞ্চলে হঠাৎ ও ভারী তুষারপাত বিস্তৃত বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।
তীব্র তুষারপাতে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ: প্রধান ভ্রমণপথ ও পরিষেবাগুলিতে প্রভাব
সম্পাদনা করেছেন: Tetiana Martynovska 17
জানুয়ারি মাসের শেষভাগে, বিশেষ করে ২৬ তারিখের আশেপাশে, হিমালয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অস্বাভাবিকভাবে ভারী তুষারপাত পরিলক্ষিত হয়েছে, যা হিমাচল প্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। এই প্রবল তুষারপাতের ফলে রাজ্যের প্রধান পরিবহন করিডোরগুলিতে বহু কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে মানালি অভিমুখী জাতীয় সড়ক অন্যতম। বরফের পুরু আস্তরণ এবং বিপজ্জনক বরফের স্তর জমে থাকার কারণে এই সড়কগুলিতে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।
Manali, Himachal Pradesh
<>
Shimla-এ মৌসুমের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ তুষারপাত
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি এবং চণ্ডীগড় থেকে আগত হাজার হাজার পর্যটক শৈলশহরগুলিতে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। পর্যটকদের ভোগান্তির মাত্রা এতটাই গুরুতর ছিল যে, বহু ভ্রমণকারীকে তাদের যানবাহন রাস্তায় ফেলে রেখে তীব্র ঠান্ডার মধ্যে হেঁটে আশ্রয়ের সন্ধানে বা বিকল্প পথে যাত্রা করতে হয়েছে। কোঠি থেকে মানালির মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতেও মাইলের পর মাইল গাড়ির সারি লেগেছিল, যার ফলে অনেক পর্যটককে হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় সারারাত গাড়ির ভেতরেই কাটাতে হয়েছে। মানালির প্রায় ১০০ শতাংশ হোটেল কক্ষ পূর্ণ হয়ে যাওয়ায়, অনেক পর্যটক কুলু বা কুফরির দিকে যাত্রা করতে বাধ্য হন, কিন্তু সেখানেও যানজটের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়।
<>
রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হিমাচল জুড়ে প্রায় ৬৮৫ থেকে ৭০০টিরও বেশি সড়কপথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, যার মধ্যে জাতীয় সড়ক ৩ (লে-মানালি হাইওয়ে) এবং ৫০৫ নম্বর সড়কও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই বিপর্যয় কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থাকেই নয়, রাজ্যের মৌলিক পরিষেবাগুলিকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়েছে, যার ফলে প্রায় ৫,৭৭৫টি ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার অকেজো হয়ে গেছে এবং ১২৬টি জল সরবরাহ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিমলা জেলার কিছু অংশে টানা ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল, এবং গ্রামীণ এলাকায় পরিষেবা স্বাভাবিক হতে পাঁচ থেকে ছয় দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লাহুল ও স্পিতি উপজাতীয় জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে প্রায় ২৯২টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে, যা এই অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
<>
এই প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রেক্ষিতে, হিমাচল প্রদেশ সরকার এবং আবহাওয়া দপ্তর সক্রিয় হয়েছে। একটি সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে ২৬ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আরও ভারী তুষারপাত ও বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় রাজ্যব্যাপী উচ্চ সতর্কতা বা 'রেড অ্যালার্ট' জারি করা হয়েছে। পূর্তমন্ত্রী বিক্রমাদিত্য সিং জানিয়েছেন যে, উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় ২.৫ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত বরফ জমেছে, এবং জেসিবি ও পোকলিন মেশিন ব্যবহার করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছে। যদিও রাস্তা মেরামতের কাজ চলছে, তবে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে, যেমন শিমলা শহর এড়িয়ে 'নিউ আইএসবিটি তুতিকান্ডি' বাইপাস ব্যবহার করা। এই সময়ে, শিমলা হোটেল মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিন্দর শেঠ উল্লেখ করেছেন যে, ২৩ থেকে ২৬ জানুয়ারির টানা ছুটির কারণে হোটেল বুকিং প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা দুর্যোগের মধ্যেও পর্যটন শিল্পের একটি দিক তুলে ধরে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রায় তিন মাসের খরা কাটিয়ে এই প্রথমবার মরসুমের শুরুতে এত তীব্র তুষারপাত হওয়ায় পর্যটকদের আকর্ষণ বেড়েছিল, কিন্তু তা দ্রুত বিপর্যয়ে পরিণত হয়। আবহাওয়ার এই আকস্মিক পরিবর্তন পশ্চিম হিমালয় অঞ্চলে সক্রিয় একাধিক পশ্চিমী ঝঞ্ঝার ফল। যদিও উদ্ধার অভিযান চলছে এবং আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, তবে এই ঘটনা পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্রগুলির দুর্বল পরিকাঠামো এবং জরুরি অবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে অযথা ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে সর্বদা অবগত থাকা এই ধরনের পরিস্থিতিতে অপরিহার্য।
উৎসসমূহ
ndtv.in
The Free Press Journal
Mint
NDTV
The Times of India
UNI News
