কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট হ্যাভেন সিটি কাউন্সিল ২০২৬ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তারা একটি স্বাধীন শাব্দিক (acoustic) গবেষণার জন্য ১৬,০০০ মার্কিন ডলার বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘস্থায়ী এবং রহস্যময় এক নিম্ন-ফ্রিকোয়েন্সি গুঞ্জনের উৎস সুনির্দিষ্টভাবে খুঁজে বের করা। স্থানীয় বাসিন্দারা গত কয়েক বছর ধরে এই শব্দের কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং মানসিক প্রশান্তি ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ করে আসছিলেন। এই পদক্ষেপটি মূলত একটি গণপিটিশনের প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে, যেখানে ১৪০ জনেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এটি স্পষ্ট করে যে, এই সমস্যাটি জনস্বাস্থ্যের ওপর, বিশেষ করে ঘুম এবং সামগ্রিক সুস্থতার ক্ষেত্রে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এনবিসি-র (NBC) জাতীয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান 'টুডে' (Today)-তে এই বিষয়টি প্রচারিত হওয়ার পর এটি ব্যাপক জাতীয় মনোযোগ আকর্ষণ করে। ওয়েস্ট হ্যাভেন ছাড়াও পার্শ্ববর্তী অরেঞ্জ এবং মিলফোর্ড এলাকার বাসিন্দারাও এই একটানা বা মাঝে মাঝে হওয়া নিম্ন-ফ্রিকোয়েন্সি শব্দ এবং কম্পনের কথা জানিয়েছেন। অনেক বাসিন্দা চার বছরেরও বেশি সময় ধরে এই যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির শিকার। এই শব্দের প্রভাবকে অত্যন্ত কষ্টদায়ক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা অনিদ্রা, উদ্বেগ এবং এমনকি বুকে কম্পনের মতো শারীরিক অনুভূতির সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ১ থেকে ১০০ হার্টজ (Hz) সীমার মধ্যে থাকা ইনফ্রাসাউন্ডের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। পিটিশন দাতা কিম্বার্লি নুনিয়েস এবং অন্যান্য কর্মীরা জীবনযাত্রার মান পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারি হস্তক্ষেপের দাবিতে দীর্ঘকাল ধরে সোচ্চার রয়েছেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনরত মেয়র ডোরিন্ডা বোরার এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হলে অকাট্য প্রমাণের প্রয়োজন, যা এই প্রস্তাবিত গবেষণার মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব। পার্সোনেল কমিশনার জন কারানো এই পেশাদার বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, তার ব্যক্তিগত ডেসিবেল মিটার পরীক্ষায় শব্দের মাত্রা নির্ধারিত সীমার ওপরে পাওয়া যায়নি, তাই সার্টিফাইড বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, শিল্পাঞ্চল থেকে এই শব্দের উৎপত্তি হতে পারে এবং অনেক বাসিন্দা হেফারেন ড্রাইভের 'গ্ল্যানবিয়া নিউট্রিশনালস' (Glanbia Nutritionals) নামক প্রতিষ্ঠানটিকে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
গ্ল্যানবিয়া নিউট্রিশনালস, যা মূলত পুষ্টি উপাদানের একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, তারা জানিয়েছে যে তারা শহরের কর্তৃপক্ষের সাথে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। শহরের রিজার্ভ ফান্ড থেকে অর্থায়িত এই শাব্দিক অভিযানে ১০টি বিশেষ মাইক্রোফোন ব্যবহার করা হবে, যা টানা সাত দিন ধরে তথ্য সংগ্রহ করবে। বিশেষজ্ঞরা এই পরীক্ষার জন্য অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষা করছেন, যেখানে বাতাসের গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ১০ মাইলের কম এবং কোনো বৃষ্টিপাত থাকবে না, যাতে প্রাকৃতিক শব্দ কোনো বিঘ্ন না ঘটায়। মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে নিম্ন-ফ্রিকোয়েন্সি শব্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনের অভাব থাকায় সিটি কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই গবেষণাটি কেবল একটি যান্ত্রিক পরীক্ষা নয়, বরং এটি ওয়েস্ট হ্যাভেনের জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনের একটি বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা। বাসিন্দারা আশা করছেন যে, এই ১৬,০০০ ডলারের বিনিয়োগ তাদের হারানো শান্তি ফিরিয়ে দেবে। যদি এই গবেষণায় নির্দিষ্ট কোনো উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয়, তবে তা ভবিষ্যতে শব্দ দূষণ সংক্রান্ত স্থানীয় নীতিমালায় পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে। শহরের প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সমন্বিত উদ্যোগটি অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও একটি উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে, যেখানে আধুনিক শিল্পায়নের ফলে সৃষ্ট শব্দ দূষণ জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। এই সমীক্ষার ফলাফল আগামী দিনে শহরের শিল্প ও আবাসিক এলাকার সহাবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


