সংসদের সদস্য আনা পলিনা লুনা বলেছেন যে কিছু ইউএফও ভিডিওতে মানুষের দ্বারা নির্মিত নয় এমন প্রযুক্তি দৃশ্যমান।
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখটি মহাকাশ গবেষণা এবং অজ্ঞাত অস্বাভাবিক ঘটনা (UAP) নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (X) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান যে, ভিনগ্রহের জীবন, ইউএপি এবং অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু (UFO) সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের গোপন সরকারি ফাইলগুলো শনাক্ত ও জনসমক্ষে প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ট্রাম্প তার বার্তায় স্পষ্ট করেন যে, এই বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে বিপুল কৌতূহল ও আগ্রহ রয়েছে, তার প্রতি সম্মান জানিয়েই এই সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এটি এমন এক সিদ্ধান্ত যা বিজ্ঞানের প্রচলিত ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
X-এ অন্না লুনার একটি রহস্যময় পোস্ট ক্যাপশন ছাড়া। ছবিতে আাইনস্টাইন-রোজেন ব্রিজ, যা ওয়ার্মহোল হিসেবে পরিচিত, স্পেস-টাইমের একটি তাত্ত্বিক বক্রতা।
প্রেসিডেন্টের এই যুগান্তকারী ঘোষণার পর ফ্লোরিডার ১৩তম ডিস্ট্রিক্টের কংগ্রেসওম্যান আনা পলিনা লুনা দ্রুত তার প্রতিক্রিয়া জানান। ইউএপি সংক্রান্ত বিশেষ টাস্ক ফোর্সের প্রধান হিসেবে তিনি ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। লুনা, যিনি নিজে মার্কিন বিমান বাহিনীর একজন অভিজ্ঞ সদস্য এবং সরকারের ওভারসাইট ও ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সাথে যুক্ত, দীর্ঘদিন ধরেই এই বিষয়ে সরকারি স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তিনি তার অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলেন যে, সরকারের কাছে থাকা ভিডিও, ছবি এবং বিস্তারিত রিপোর্টগুলো সাধারণ মানুষের সামনে বিশ্লেষণ করার জন্য তিনি অত্যন্ত উন্মুখ হয়ে আছেন।
অ্যালেক্স জোনসের একটি সম্প্রচার, যেখানে তিনি FOX News-এ একটি সাক্ষাৎকার নিয়ে আলোচনা করেন এবং তিনি যে ঠিক ছিলেন তা নিশ্চিত করেন, এবং এলিয়েনরা আন্তঃআয়ামী টানেলগুলোর মাধ্যমে পৃথিবীকে পরিদর্শন করেন।
একই দিনে ফক্স নিউজ চ্যানেলে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে লুনা এই রহস্যময় বিষয়গুলোর গভীরতর কিছু দিক তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন যে, বর্তমানে যেসব ইউএপি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে এমন কিছু উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে যা কোনোভাবেই মানুষের তৈরি হতে পারে না। তিনি আরও একটি উদ্বেগের কথা জানান—এই প্রযুক্তিগুলো অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পক্ষেও এগুলোর ওপর নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না। লুনা ইঙ্গিত দেন যে, এই ঘটনাগুলো কেবল অন্য গ্রহের প্রাণীদের কাজ নয়, বরং এগুলো আন্তঃমাত্রিক (interdimensional) হতে পারে। এই জটিল বিষয়টি বোঝার জন্য তিনি প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ 'বুক অফ ইনোক' (Book of Enoch) পড়ার পরামর্শ দেন।
সাক্ষাৎকারটি শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর লুনা তার ব্যক্তিগত এক্স অ্যাকাউন্টে একটি রহস্যময় ছবি শেয়ার করেন, যা নিয়ে ইন্টারনেটে তোলপাড় শুরু হয়। ছবিটি ছিল 'আইনস্টাইন-রোজেন ব্রিজ'-এর একটি চিত্রায়ন, যা মূলত মহাবিশ্বের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার একটি তাত্ত্বিক সুড়ঙ্গ বা ওয়ার্মহোল। ১৯৩৫ সালে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন এবং নাথান রোজেন এই গাণিতিক মডেলটি প্রস্তাব করেছিলেন। এই মডেল অনুযায়ী, আলোর গতির সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে মহাকাশের বিশাল দূরত্ব নিমেষেই পাড়ি দেওয়া সম্ভব। লুনার এই পোস্টটি কোনো ক্যাপশন ছাড়াই শেয়ার করা হয়েছিল, যা অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগিয়েছে যে তিনি কি তবে আন্তঃমাত্রিক ভ্রমণের বাস্তব প্রমাণের দিকে ইঙ্গিত করছেন?
লুনার এই বক্তব্য এবং পোস্টের পর পরিচিত সাংবাদিক অ্যালেক্স জোন্স একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তার নিজস্ব বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি লুনার দেওয়া বাইবেলের রেফারেন্স এবং আন্তঃমাত্রিক ভ্রমণের ধারণাকে সমর্থন করে বলেন যে, এটি আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিতে পারে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতি বিজ্ঞান, রাজনীতি এবং সামাজিক আলোচনার এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। সরকারি ফাইলগুলো ডিক্লাসিফাই করা হলে হয়তো আমরা এমন কিছু প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারব যা আমাদের শক্তি উৎপাদন এবং পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক ধারণাগুলোকে আমূল পরিবর্তন করে দেবে। তবে বেসরকারি খাতের গোপন চুক্তি এবং মহাবিশ্বের রহস্যময় নিয়মগুলোর মধ্যে যে যোগসূত্র রয়েছে, তা উন্মোচনের জন্য আরও নিবিড় গবেষণার প্রয়োজন।