Colombia এর ওপর এক পাইলট 12 500 ফুট উচ্চতায় ইউএফওগুলোর অবিশ্বাস্য ফুটেজ ধারণ করেছে, এবং তাদের সত্যতা আধिकारिकভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে.
২০২৬ সালের শুরুর দিকে, কলম্বিয়ার পাহাড়ি অঞ্চল আন্তিওকিয়ায় ধারণকৃত একটি রহস্যময় আকাশযান বা আনআইডেন্টিফাইড অ্যারিয়াল ফেনোমেনন (UAP) সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ নিয়ে জনমনে এবং বিজ্ঞানী মহলে নতুন করে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার ঝড় উঠেছে। এই ঘটনাটি মূলত ২০২২ সালের মে মাসে প্রথম নথিবদ্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি আবার পাদপ্রদীপের আলোয় চলে এসেছে। পেন্টাগনের অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজোলিউশন অফিস (AARO) এবং নাসার (NASA) মতো সংস্থাগুলো যখন এই ধরনের রহস্যময় ঘটনাগুলো নিয়ে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান জোরদার করছে, ঠিক তখনই কলম্বিয়ার এই পুরনো ভিডিওটি নতুন করে বিশ্লেষণের দাবি রাখছে।
ঘটনার দিন অর্থাৎ ১২ মে, ২০২২ তারিখে অভিজ্ঞ পাইলট হোর্হে এ. আরতেগা তার সেসনা টি৩০৩ ক্রুসেডার (Cessna T303 Crusader) বিমানে করে সান্তা ফে দে আন্তিওকিয়ার আকাশসীমায় প্রায় ১২,৫০০ ফুট উচ্চতায় উড্ডয়ন করছিলেন। সেই সময় তিনি হঠাৎ একটি অদ্ভুত বস্তু দেখতে পান যা কোনো সাধারণ বিমান, ড্রোন বা আবহাওয়া বেলুনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। আরতেগা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দাবি করেন যে, বস্তুটি যখন হঠাৎ করে তার গতিপথ পরিবর্তন করে সরাসরি তার বিমানের দিকে ধেয়ে আসতে শুরু করে, তখন তিনি নিজের এবং বিমানের নিরাপত্তার কথা ভেবে দ্রুত আত্মরক্ষামূলক কৌশল বা ম্যানুভার অবলম্বন করতে বাধ্য হন।
পাইলটের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই রহস্যময় বস্তুটি ছিল ধাতব এবং অত্যন্ত উজ্জ্বল, যাতে কোনো দৃশ্যমান ডানা বা প্রথাগত প্রপালশন বা ইঞ্জিন ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়নি। আরতেগা আরও উল্লেখ করেছেন যে, বস্তুটির গতিবিধি এবং শারীরিক আচরণ কোনোভাবেই একটি সাধারণ বেলুনের মতো ছিল না। কারণ তার সেসনা বিমানের শক্তিশালী বাতাসের প্রবাহ বা 'এয়ার ওয়েক' সেই বস্তুটির ওপর বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারেনি। সেই বিপজ্জনক মুহূর্তে আরতেগার বিমানের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৪০ নট, যা ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি। এই উচ্চগতিতে বস্তুটির এমন স্থিরতা এবং হঠাৎ আক্রমণাত্মক ভঙ্গি বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলেছে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যার মধ্যে অন্যতম হলেন প্রখ্যাত মেক্সিকান সাংবাদিক এবং ইউএফও গবেষক হাইমে মাউসান। তিনি এই ভিডিও ফুটেজটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেছেন যে, এতে কোনো ধরনের ডিজিটাল কারসাজি বা কৃত্রিম এডিটিংয়ের চিহ্ন নেই। মাউসান এই ফুটেজটিকে মানব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইউএপি প্রমাণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে এই ঘটনার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং অনেক স্বাধীন গবেষক এখন এই ভিডিওর প্রতিটি ফ্রেম বিশ্লেষণ করছেন।
যদিও এই ঘটনাটি ঘটেছিল কয়েক বছর আগে, তবুও ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত কলম্বিয়ার সরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা এভিয়েশন অথরিটি হোর্হে এ. আরতেগার এই অভিজ্ঞতার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পেশ করেনি। ফলে এই রহস্যময় বস্তুটির প্রকৃত পরিচয় এখনো একটি অমীমাংসিত প্রশ্ন হিসেবেই রয়ে গেছে। তবে আরতেগার ধারণ করা এই ভিডিওটি বর্তমানে পরিচিত প্রযুক্তির সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া অজানা আকাশযানগুলো নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও সরকারি পর্যায়ে একটি বৃহত্তর ও গভীরতর সংলাপের পথ প্রশস্ত করছে। এটি প্রমাণ করে যে, আকাশের অনেক রহস্য এখনো আমাদের জানার বাইরে রয়ে গেছে।