ভ্যাম্পায়ার স্কুইড রক্তপিপাসু নয়; এটি ডিটারিটিভর, অর্থাৎ এটি মৃত জৈব পদার্থ খায়। এটি জীবিত শিকার খায় না—এটি একমাত্র জীবিত সেফালোপড।
নরকের রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ার এবং বিবর্তনের সুরলিপি
সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One
গভীর সমুদ্রের এমন কিছু প্রাণী আছে, যেখানে অন্ধকারই তাদের স্বাভাবিক পরিবেশ। এমনই এক জীব হলো Vampyroteuthis infernalis, যার অর্থ ‘নরকের রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ার’। এই প্রাণীটি এখন ডিএনএ-র মাধ্যমে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এর জিনোম সিকোয়েন্স করে এমন এক বিবর্তনীয় সন্ধিক্ষণের চাবিকাঠি খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে একদা অক্টোপাস এবং স্কুইড-এর পথ আলাদা হয়ে গিয়েছিল।
এই গবেষণার মাধ্যমে যে তথ্যগুলো উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমত, ভ্যাম্পায়ারোথেটিসের জিনোমটি বিশাল—১১ বিলিয়ন বেস পেয়ারের বেশি। এর অর্থ হলো, এটি মানুষের জিনোমের তুলনায় প্রায় চার গুণ বড় এবং এখন পর্যন্ত সিকোয়েন্স করা সেফালোপডদের মধ্যে এটিই বৃহত্তম।
আবিষ্কারের মূল দিকগুলি
- ভ্যাম্পায়ারোথেটিসের জিনোমটি বিশাল—১১ বিলিয়ন বেস পেয়ারের বেশি, যা মানুষের জিনোমের চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি এবং এটিই এখন পর্যন্ত সিকোয়েন্স করা সেফালোপডদের মধ্যে বৃহত্তম।
- তবে আকারের চেয়েও বিস্ময়কর হলো এর গঠন বা আর্কিটেকচার: এর ক্রোমোজোমগুলো এমন এক অত্যন্ত প্রাচীন, ‘স্কুইড-সদৃশ’ বিন্যাস ধরে রেখেছে যে এই প্রজাতিকে ‘জিনোমিক জীবন্ত জীবাশ্ম’ বলা হচ্ছে।
- অন্যান্য সেফালোপডদের (যেমন পেল্যাজিক অক্টোপাস Argonauta hians) সঙ্গে তুলনা করলে পরিবর্তনের দিকটি স্পষ্ট হয়: অক্টোপাস লাইনে সময়ের সাথে সাথে অপরিবর্তনীয় ক্রোমোজোম ফিউশন এবং পুনর্গঠন ঘটেছে, যেখানে ভ্যাম্পায়ারোথেটিস প্রাচীন বৈশিষ্ট্যগুলো ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এই গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে এনেছে: আধুনিক সেফালোপডদের যে বিপুল বৈচিত্র্য, তা কেবল ‘নতুন জিনের আবির্ভাবের’ ফল নয়। বরং এর মূল কারণ হলো ক্রোমোজোমের মানচিত্র কীভাবে পুনর্বিন্যস্ত হয়েছে—এই ‘সুরলিপির পুনর্বিন্যাস’ কীভাবে নতুন শারীরিক রূপ এবং আচরণের পথ খুলে দিয়েছে, সেটাই আসল রহস্য।
এই ‘মহাজাগতিক আর্কাইভ’ আসলে কী?
ভ্যাম্পায়ারোথেটিস বাস করে অক্সিজেনের সর্বনিম্ন স্তরে, যেখানে অনেক শিকারী প্রাণীর শ্বাস নেওয়াই অসম্ভব। এটি কোনো ‘রক্তচোষা’ প্রাণী নয়; বরং এটি হলো এক নরম, শান্ত সংগ্রাহক, যা সমুদ্রের গোধূলি স্তরে ভেসে বেড়ানো ‘সামুদ্রিক তুষার’ (ডেট্রাইটাস) সংগ্রহ করে জীবন ধারণ করে। এই প্রাণীটি গ্রহের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে: গভীর সমুদ্রের ডেট্রিটাস-ভোজীরা জৈবিক পাম্পের মাধ্যমে কার্বনকে গভীর সমুদ্রে স্থানান্তরে সাহায্য করে।
এই আবিষ্কার সমুদ্রের গভীরে যেন এক প্রাচীন স্মৃতির অনুরণন সৃষ্টি করেছে। বিবর্তন সবসময় নতুন সুরের মাধ্যমে পৃথিবীকে পরিবর্তন করে না; কখনও কখনও এটি পুরনো সুরগুলোকেই নতুনভাবে সাজিয়ে, ক্রোমোজোমগুলোকে সুরলিপির মতো পুনর্বিন্যাস করে বিস্ময়কর পরিবর্তন নিয়ে আসে। এই ভ্যাম্পায়ারোথেটিস যেন সেই প্রাচীন সুরের নীরব ধারক।
এই প্রাণীর জিনোম বিশ্লেষণ প্রমাণ করে যে, বিবর্তনের গতিপথ বোঝার জন্য কেবল নতুন উপাদান খোঁজা যথেষ্ট নয়; বরং উপাদানগুলো কীভাবে সজ্জিত হয়েছে, তার বিন্যাস এবং স্থাপত্য বোঝা অত্যন্ত জরুরি। ভ্যাম্পায়ারোথেটিস তার প্রাচীন জিনোমের মাধ্যমে সেই স্থাপত্যের নকশা আমাদের সামনে তুলে ধরেছে, যা অক্টোপাস এবং স্কুইডের বিচ্ছেদের ইতিহাসকে আলোকিত করে।
উৎসসমূহ
livescience.com
Live Science
ZME Science
EurekAlert! Science News
Sci.News
Schmidt Ocean Institute
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
