আচার্য্য বালকৃষ্ণর নেতৃত্বে এক বিশাল প্রকল্প, যা বিশ্ব ভেষজ বিশ্বকোষ (World Herbal Encyclopedia - WHE) নামে পরিচিত, সফলভাবে তার কাজ সম্পন্ন করেছে। এই মহৎ উদ্যোগের ফলস্বরূপ ১১১টি খণ্ডের একটি বিশাল সংগ্রহ প্রকাশিত হয়েছে, যার মোট পৃষ্ঠাসংখ্যা প্রায় ১,২০,৪১৮। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বজুড়ে থেরাপিউটিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ঔষধি উদ্ভিদসমূহের একটি কেন্দ্রীভূত তথ্যভান্ডার তৈরি করা। এটি বিশ্বব্যাপী উদ্ভিদবিদ্যা এবং ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে অন্যতম বৃহৎ প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এই বিস্তৃত প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৫০,০০০ প্রজাতির ঔষধি উদ্ভিদকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা ৭,৫০০টিরও বেশি গণের অন্তর্ভুক্ত। এই তালিকায় স্বাদু জলের এবং সামুদ্রিক উদ্ভিদ, ছত্রাক, লাইকেন, মস, ফার্ন, ব্যক্তবীজী এবং গুপ্তবীজী—সবই স্থান পেয়েছে। তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ৬,০০,০০০-এরও বেশি উৎস বিশ্লেষণ করে, যার মধ্যে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি থেকে শুরু করে আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন পর্যন্ত সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত। এই বিশ্বকোষটি অভূতপূর্ব মাত্রায় ভাষাগত এবং নৃতাত্ত্বিক উদ্ভিদবিদ্যার ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে একটি সাংস্কৃতিক আর্কাইভের ভূমিকা পালন করছে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞে উদ্ভিদের জন্য ১.২ মিলিয়ন লোকাল নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা ২,০০০-এরও বেশি ভাষায় প্রচলিত। এছাড়াও, ২৫০,০০০-এরও বেশি উদ্ভিদের প্রতিশব্দ এতে স্থান পেয়েছে। এর পাশাপাশি, সাতটি খণ্ডে প্রায় এক হাজার নিরাময় পদ্ধতি এবং আদিবাসী গোষ্ঠীর ২,০০০-এরও বেশি প্রথা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, যা মৌখিক জ্ঞানের সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যের সহজলভ্যতা বাড়াতে এতে ৩৫,০০০-এর বেশি উদ্ভিদবিদ্যার রৈখিক অঙ্কন এবং ৩০,০০০ চিত্রকর্মের সংযোজন করা হয়েছে, যা বিশেষজ্ঞ এবং উৎসাহী উভয়ের জন্যই এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
এই বিপুল জ্ঞানের ভান্ডারকে সকলের কাছে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বিশ্ব ভেষজ বিশ্বকোষ পোর্টাল চালু করা হয়। পতঞ্জলি রিসার্চ ফাউন্ডেশন দ্বারা সমর্থিত এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি গবেষক, চিকিৎসক এবং ঐতিহ্যবাহী ঔষধ বিশেষজ্ঞদের জন্য বৈজ্ঞানিক ও লোকাল নাম উভয় প্যারামিটারের ভিত্তিতে নির্ভুল অনুসন্ধান করার সুযোগ করে দিয়েছে। পোর্টালটিতে উদ্ভিদের রাসায়নিক উপাদান, ফার্মাকোলজিকাল প্রোফাইল এবং ক্লিনিকাল ট্রায়াল সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও রয়েছে, যা আর্কাইভাল তথ্যকে আধুনিক ফার্মাকোলজির উপযোগী করে তুলছে।
আয়ুর্বেদ, সংস্কৃত এবং বেদের পণ্ডিত আচার্য্য বালকৃষ্ণ এই কাজটিকে প্রাচীন অনুশীলন এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে দেখছেন। যদিও সংস্কৃত এবং ল্যাটিন দ্বিপদ নাম ব্যবহারের কারণে আন্তর্জাতিক শ্রেণীবিন্যাসগত মানদণ্ডের সঙ্গে এর সংমিশ্রণে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, তবুও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদদের জন্য বিশ্বব্যাপী ভেষজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ করাই এই সংস্করণের প্রধান মূল্য। এই কাজটি নিঃসন্দেহে জ্ঞান সংরক্ষণের এক মাইলফলক।

