পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাফল্য: লেটুস পাতা থেকে তৈরি হচ্ছে ডায়াবেটিসের মুখে খাওয়ার ওষুধ

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা নিরাময়ে ব্যবহৃত জিএলপি-১ (GLP-1) রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট তৈরির একটি সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। জেনেটিক্যালি মডিফাইড বা জিনগতভাবে পরিবর্তিত লেটুস পাতার ক্লোরোপ্লাস্ট ব্যবহার করে এই ওষুধ সংশ্লেষণ করা হয়েছে। ওজেম্পিক (Ozempic) এবং ওয়েগোভির (Wegovy) মতো বর্তমান ইনজেকশনযোগ্য ওষুধগুলোর উচ্চমূল্য এবং সুঁই ফোটানোর ঝক্কি—এই দুটি প্রধান সমস্যা দূর করাই এই গবেষণার মূল লক্ষ্য।

পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ডেন্টাল মেডিসিনের ডক্টর হেনরি ড্যানিয়েলের নেতৃত্বে এই গবেষক দলটি লেটুস গাছকে এক্সেনাটাইড এবং লিক্সিসেনাটাইডের মতো কার্যকরী পেপটাইড তৈরির কাজে লাগিয়েছেন। এই পদ্ধতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এই পেপটাইডগুলো উদ্ভিদের কোষ প্রাচীরের ভেতরে সুরক্ষিত থাকে। ফলে পাকস্থলীর অ্যাসিড এবং এনজাইমের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়ে এগুলো সরাসরি অন্ত্রে পৌঁছাতে পারে। এই প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থাটি পেপটাইড জাতীয় ওষুধের ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে, যা এতদিন একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

ক্লোরোপ্লাস্টের প্রাকৃতিক জৈব-সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই সক্রিয় উপাদানগুলো উৎপাদন করা সম্ভব। এটি প্রচলিত রাসায়নিক সংশ্লেষণ পদ্ধতির তুলনায় উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে। ডক্টর ড্যানিয়েল, যিনি ডব্লিউ.ডি. মিলার প্রফেসর এবং ক্লোরোপ্লাস্ট জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন অগ্রগামী গবেষক, মনে করেন যে এই পদ্ধতিটি চিকিৎসার সুযোগ সবার জন্য সমান করে তুলবে। তিনি রূপকভাবে এই ওষুধকে "লেটুস পাতা" হিসেবে অভিহিত করেছেন। কৃত্রিম অ্যানালগের পরিবর্তে প্রাকৃতিক জিএলপি-১ পেপটাইড ব্যবহার করার ফলে রোগীদের মধ্যে প্রচলিত ওষুধের মতো গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অনেকটা কমে আসতে পারে।

বর্তমানে ওজেম্পিক এবং ওয়েগোভির মতো ইনজেকশনযোগ্য ওষুধের মাসিক খরচ বিমা ছাড়া ১০০০ থেকে ১৩০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর সাধারণ মানুষের কাছে এই চিকিৎসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাছাড়া, এই ওষুধগুলো পরিবহণ ও সংরক্ষণের জন্য কোল্ড চেইন বা বিশেষ শীতল ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়, যা খরচ আরও বাড়িয়ে দেয়। এর বিপরীতে, লেটুস কোষের ক্লোরোপ্লাস্টগুলো প্রাকৃতিকভাবেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো সম্পন্ন করে, যা কৃত্রিম পদ্ধতিতে করতে গেলে অনেক জটিল রাসায়নিক ধাপের প্রয়োজন হতো। ফলে এটি উৎপাদন চক্র এবং সামগ্রিক ব্যয় উভয়ই হ্রাস করতে সক্ষম।

ফিলাডেলফিয়ার এই গবেষক দলটি বর্তমানে ক্লিনিকাল ট্রায়াল বা মানবদেহে পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই ট্রান্সজেনিক লেটুসের উৎপাদন বাড়ানোর কাজ করছেন। ডক্টর ড্যানিয়েল আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্স (AAAS) এবং ইতালির ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সেসের একজন সম্মানিত সদস্য। উদ্ভিদ কোষে বায়ো-এনক্যাপসুলেশন পদ্ধতির মাধ্যমে মুখে খাওয়ার ভ্যাকসিন এবং ডায়াবেটিসের ওষুধ তৈরিতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজি জার্নাল-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানুষের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া লেটুসের কোষ প্রাচীর ভেঙে ফেলতে সক্ষম, যা থেরাপিউটিক পেপটাইডগুলোকে শোষণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। ডক্টর ড্যানিয়েলের ল্যাবরেটরি ইতিপূর্বেই বিপুল পরিমাণ ওরাল ইনসুলিন তৈরিতে সাফল্য দেখিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে গবেষকরা আত্মবিশ্বাসী যে, এই নতুন পদ্ধতিটি ডায়াবেটিস চিকিৎসায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে এবং বিশ্বজুড়ে রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য সমাধান প্রদান করবে।

5 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Scienmag: Latest Science and Health News

  • vertexaisearch.cloud.google.com

  • vertexaisearch.cloud.google.com

  • vertexaisearch.cloud.google.com

  • vertexaisearch.cloud.google.com

  • vertexaisearch.cloud.google.com

এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।