Fossombronia bengalensis (#Marchantiophyta, #Fossombroniaceae)—a #newspecies from West Bengal, #India #taxonomy doi.org/10.11646/phyto…
পশ্চিমবঙ্গের অরণ্যে নতুন প্রজাতির লিভারওয়ার্ট 'ফসওমব্রোনিয়া বেঙ্গলেনসিস' আবিষ্কৃত
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শাল বনের ছায়াঘেরা ও আর্দ্র পরিবেশে উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা লিভারওয়ার্টের একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং আগে কখনও বর্ণনা না করা প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন। এই ক্ষুদ্রাকৃতির অ-সংবাহী উদ্ভিদটির নাম দেওয়া হয়েছে ফসওমব্রোনিয়া বেঙ্গলেনসিস (Fossombronia bengalensis)। মাত্র কয়েক মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের এই উদ্ভিদটি ভারতের ব্রায়োফ্লোরা বা শৈবাল-জাতীয় উদ্ভিদরাজিতে এক মূল্যবান সংযোজন এবং এটি এই অঞ্চলের ক্রান্তীয় বাস্তুসংস্থানের পরিবেশগত সমৃদ্ধিকে আবারও প্রমাণ করে। ২০২৫ সালে 'ফাইটো ট্যাক্সা' (Phytotaxa) সাময়িকীতে এই আবিষ্কারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল এবং অস্ট্রেলীয় ব্রায়োলজিস্ট ডি. ক্রিস্টিন কারগিল এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।
ফসওমব্রোনিয়া বেঙ্গলেনসিসের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম অঙ্গসংস্থানিক এবং আণুবীক্ষণিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে, যা এর অনন্য শ্রেণিবিন্যাসগত বৈশিষ্ট্যগুলোকে সামনে এনেছে। এই নতুন প্রজাতিটি তার নিকটাত্মীয় প্রজাতি যেমন ফসওমব্রোনিয়া স্টিফানি (Fossombronia stephanii), এফ. ইন্ডিকা (F. indica) এবং এফ. কাশ্যপি (F. kashyapii) থেকে বেশ আলাদা। বিশেষ করে এর ঢেউখেলানো পাতা এবং রেণুর (spore) উপরিভাগের বিশেষ গঠন একে অনন্য করে তুলেছে। এর রেণুগুলো জালিকাকার নকশা এবং ক্ষুদ্র প্যাপিলাযুক্ত, যার ব্যাস ২৫ থেকে ৪০ মাইক্রোমিটারের মধ্যে। উদ্ভিদটি আকারে তার সমগোত্রীয়দের তুলনায় ছোট, যার দৈর্ঘ্য মাত্র ৩.৫ থেকে ৬.৮ মিলিমিটার। এটি একটি ডায়োইশাস (dioicous) উদ্ভিদ, অর্থাৎ এর পুরুষ ও স্ত্রী জনন অঙ্গ আলাদা উদ্ভিদে থাকে, যেখানে পুরুষ উদ্ভিদগুলো স্ত্রী উদ্ভিদের তুলনায় লক্ষণীয়ভাবে দীর্ঘ হয়। এই নতুন প্রজাতির হলোটাইপ নমুনাটি হাওড়ার বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সেন্ট্রাল ন্যাশনাল হার্বেরিয়ামে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
গবেষক সেখ রাশিদুল ইসলাম এবং অমল কুমার মন্ডল এই প্রজাতিটির নামকরণ করেছেন 'বেঙ্গলেনসিস' (bengalensis), যা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নামানুসারে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রজাতিটি শুধুমাত্র এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ বা এনডেমিক। লিভারওয়ার্ট জাতীয় উদ্ভিদগুলো মূলত স্থিতিশীল এবং তুলনামূলকভাবে অক্ষত প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ জৈব-নির্দেশক (bioindicator) হিসেবে কাজ করে। দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গের শাল বনের এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, মানুষের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও এই ক্রান্তীয় অরণ্যগুলো এখনও তাদের পরিবেশগত গুরুত্ব বজায় রেখেছে।
ভারতে শাল বন (Shorea robusta) প্রায় ১০ মিলিয়ন হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৮১৮ সালে জিউসেপ্পে রাড্ডি প্রথম 'ফসওমব্রোনিয়া' (Fossombronia) গণটি বর্ণনা করেছিলেন এবং বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এর প্রায় ৯৬টি প্রজাতি রয়েছে। এই নতুন আবিষ্কারের আগে ভারতে এই গণের মাত্র নয়টি প্রজাতি নথিভুক্ত ছিল, যার বেশিরভাগই পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এবং হিমালয়ের মতো জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। এই সাম্প্রতিক আবিষ্কারটি ক্রিপ্টোগ্যামিক ফ্লোরা বা অপুষ্পক উদ্ভিদরাজির পদ্ধতিগত গবেষণার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তুলেছে, যা জীববৈচিত্র্যের পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র তৈরি এবং স্পর্শকাতর অণু-পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়ক হবে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের এই বনাঞ্চলটি তার অনন্য ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উদ্ভিদবিদদের কাছে বরাবরই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ফসওমব্রোনিয়া বেঙ্গলেনসিসের মতো ক্ষুদ্র উদ্ভিদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, আমাদের চারপাশের পরিচিত বনাঞ্চলেও এখনও অনেক অজানা রহস্য লুকিয়ে আছে। এই ধরনের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কেবল নতুন প্রজাতির তালিকা বৃদ্ধি করে না, বরং স্থানীয় বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণের জন্য নীতিনির্ধারকদের উৎসাহিত করে। গবেষকদের মতে, এই ক্ষুদ্র উদ্ভিদটি মাটির আর্দ্রতা রক্ষা এবং অরণ্যের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণীদের আশ্রয়স্থল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই আবিষ্কারটি পশ্চিমবঙ্গের প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডারে একটি নতুন পালক যুক্ত করল।
উৎসসমূহ
United News of India
United News of India
United News of India
The Statesman
ResearchGate
Phytotaxa



