মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দৃষ্টিশক্তির তুলনামূলক বিশ্লেষণ

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

পোষা প্রাণী হিসেবে কুকুর ও বিড়ালের জগৎকে বোঝা গৃহপালিত পশুপ্রেমী এবং পশুচিকিৎসা পেশাদারদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভেটেরিনারি চক্ষুবিদ্যার চলমান গবেষণাগুলি মানুষের দৃষ্টিশক্তির তুলনায় এই দেশীয় প্রাণীদের রঙ উপলব্ধি, ছবির তীক্ষ্ণতা এবং আলোর সাথে খাপ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে যে মৌলিক পার্থক্যগুলি রয়েছে, তা ক্রমাগত উন্মোচন করে চলেছে। এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানগুলি আমাদের প্রাণীদের সংবেদনশীল জগৎ সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

কুকুরদের দৃষ্টিশক্তি মূলত দ্বিবর্ণী, যার অর্থ তারা প্রধানত নীল ও হলুদ রঙের বিভিন্ন শেড দেখতে পায়। লাল এবং সবুজ রঙের পার্থক্য তারা মূলত উজ্জ্বলতা এবং বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে নির্ণয় করে, যা মানুষের ত্রিবর্ণী দৃষ্টির তুলনায় ভিন্ন। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার গবেষক ক্যারিন প্লামার উল্লেখ করেছেন যে বিড়াল মানুষের তুলনায় অনেক কম আলোতে কোনো বস্তু দেখতে পায়, যা তাদের চোখের রড ফটোরিসিপটরের উচ্চ ঘনত্বের কারণে সম্ভব হয়। এই রঙের সীমাবদ্ধতা খেলনা নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে, যেখানে সবুজ পরিবেশে নীল বা হলুদ বস্তুগুলি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে।

বিড়ালরা তাদের রেটিনায় রড কোষের উচ্চ ঘনত্বের কারণে স্বল্প-আলো পরিস্থিতিতে চমৎকার দক্ষতা প্রদর্শন করে। তাদের চোখে থাকা একটি প্রতিফলক স্তর, যা 'ট্যাপেটাম লুসিডাম' নামে পরিচিত, তা আলোর শোষণকে সর্বাধিক করে তোলে, যা তাদের সূক্ষ্ম নড়াচড়া এবং ছায়ার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তোলে। এই অভিযোজন তাদের নিশাচর শিকারী হিসেবে দক্ষতার প্রমাণ দেয়, যদিও বিড়ালকে পুরোপুরি নিশাচর প্রাণী বলা অমূলক; তারা মূলত গোধূলি বেলায় সক্রিয় থাকে। তুলনামূলক বিশ্লেষণে, মানুষ উন্নত রঙ এবং বিশদ উপলব্ধিতে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখে, কারণ মানুষেরা ত্রিবর্ণী বা ট্রাইক্রোম্যাট। তবে, গতি সনাক্তকরণ এবং ম্লান পরিবেশে চলাচলের ক্ষেত্রে কুকুর ও বিড়াল উভয়ই মানুষের দৃষ্টিকে ছাড়িয়ে যায়। বিড়ালের চোখের পিউপিল উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হওয়ার ক্ষমতা রাখে, যা উপলব্ধ আলোকে আরও কার্যকরভাবে গ্রহণ করতে সহায়তা করে, যা মানুষের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।

প্রাণী এবং মানুষের দৃষ্টিশক্তির এই মৌলিক পার্থক্য তাদের দৈনন্দিন আচরণ এবং পরিবেশের সাথে মিথস্ক্রিয়াকে সরাসরি প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ, কুকুর ও বিড়ালের গতি এবং বৈসাদৃশ্যের প্রতি উচ্চ সংবেদনশীলতা মালিকদের তাদের কৌতূহল বা সতর্কতার সংকেতগুলি সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে। পশুচিকিৎসা আচরণ বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে প্রাণীর এই সংবেদনশীল ক্ষমতাগুলির ভিত্তিতে বাড়ির পরিবেশকে মানিয়ে নিলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের সাম্প্রতিক গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে মানুষ প্রায়শই কুকুরের সংকেতগুলি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে, কারণ তারা পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে নিজস্ব ধারণা তৈরি করে, যা কুকুরের প্রকৃত আবেগ বুঝতে বাধা দেয়। এই গবেষণা অ্যানথ্রোজুস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি দেখায় যে পোষা প্রাণীর প্রকৃত অনুভূতি বোঝার জন্য তাদের অঙ্গভঙ্গির উপর আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে, হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রায় ৭২ শতাংশ কুকুরের মধ্যে অপরিচিত মানুষ বা শব্দকে ভয় পাওয়ার মতো উদ্বেগজনিত আচরণ বিদ্যমান, যা তাদের সংবেদনশীলতার ভিন্নতার একটি পরোক্ষ প্রমাণ। পোষা প্রাণীর মানসিক সুস্থতাও তাদের শারীরিক যত্নের মতোই গুরুত্বপূর্ণ, যা আধুনিক আচরণবিজ্ঞান দ্বারা সমর্থিত। ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে বিড়ালরা তাদের মালিকদের সাথে শিশুর মতো গভীর আসক্তি তৈরি করে। এই সংবেদনশীলতার কারণে, যখন কুকুরদের বিচ্ছিন্নতা-জনিত উদ্বেগ দেখা দেয়, যেমনটি ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আমেরিকান ভেটেরিনারি মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, তখন তাদের আচরণে পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনগুলি—যেমন কুকুরের নিস্তেজ হয়ে যাওয়া বা বিড়ালের অতিরিক্ত লোম চাটা—তাদের দৃষ্টি ও অন্যান্য সংবেদনশীলতার উপর পরিবেশের প্রভাবের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। এই তথ্যগুলি প্রমাণ করে যে প্রাণীর দৃষ্টিশক্তির পার্থক্য কেবল শারীরিক নয়, এটি তাদের মানসিক স্থিতিশীলতা এবং মালিকের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলে।

9 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • O Antagonista

  • O Antagonista

  • Catraca Livre

  • Catraca Livre

  • Revista Oeste

  • G1 - Globo

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।