তারল্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ভুটান সরকারের ১১.৮৫ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের বিটকয়েন স্থানান্তর

সম্পাদনা করেছেন: Yuliya Shumai

তারল্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ভুটান সরকারের ১১.৮৫ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের বিটকয়েন স্থানান্তর-1

২০২৬ সালের ৯ মার্চ, সোমবার, ভুটানের রাজকীয় সরকার তাদের ডিজিটাল সম্পদ পোর্টফোলিওতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এই দিনে তারা ১৭৫টি বিটকয়েন (BTC) স্থানান্তর করেছে, যার বাজারমূল্য লেনদেনের সময় ছিল প্রায় ১১.৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই কৌশলগত পদক্ষেপটি মূলত দেশটির রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ শাখা, ড্রুক হোল্ডিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস (DHI) দ্বারা পরিচালিত একটি সুপরিকল্পিত তারল্য ব্যবস্থাপনা কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সাম্প্রতিক লেনদেনটি ফেব্রুয়ারি মাসে পরিচালিত অনুরূপ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা মাত্র, যখন ভুটান সরকার প্রায় ৬.৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিটকয়েন সরিয়েছিল। ৯ মার্চের এই নির্দিষ্ট লেনদেনের সময় প্রতিটি বিটকয়েনের মূল্য ছিল প্রায় ৬৮,৫০০ ডলার। এই হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ভুটান সরকার কর্তৃক স্থানান্তরিত বিটকয়েনের মোট আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪২.৫ মিলিয়ন ডলারে।

ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আরখাম ইন্টেলিজেন্স (Arkham Intelligence) পর্যবেক্ষণ করেছে যে, ভুটান সরকার তাদের বিটকয়েন রিজার্ভ থেকে পদ্ধতিগতভাবে এবং ছোট ছোট কিস্তিতে সম্পদ বিক্রি করছে। সাধারণত এই লেনদেনগুলো ৫ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। আরখাম ইন্টেলিজেন্সের মতে, এই প্যাটার্নটি কোনো আতঙ্কিত বিক্রির লক্ষণ নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং পদ্ধতিগত তারল্য ব্যবস্থাপনা। উল্লেখ্য যে, ফেব্রুয়ারি মাসেও তারা ১৪ মিলিয়ন ডলার (১৮৪ BTC), ৮.৩ মিলিয়ন ডলার (১০১ BTC) এবং ৬.৭ মিলিয়ন ডলারের পৃথক তিনটি লেনদেন সম্পন্ন করেছিল।

বিটকয়েন সঞ্চয় এবং তা থেকে রাজস্ব আয়ের এই অনন্য কৌশলটি ভুটানের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। হিমালয়ের এই দেশটি তাদের প্রচুর পরিমাণে থাকা উদ্বৃত্ত এবং কার্বন-মুক্ত জলবিদ্যুৎ ব্যবহার করে ডিজিটাল সম্পদ মাইনিং করে থাকে। অব্যবহৃত বিদ্যুৎকে একটি লাভজনক ডিজিটাল রপ্তানি পণ্যে রূপান্তর করার এই দূরদর্শী উদ্যোগটি DHI-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। এই মাইনিং কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে তারা বিটডিয়ার টেকনোলজিস গ্রুপ (Bitdeer Technologies Group)-এর সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্ব করেছে, যা ভুটানকে বিশ্বজুড়ে টেকসই ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিংয়ের একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে ভুটানের বিটকয়েন রিজার্ভ যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তখন তাদের কাছে ১১,০০০-এর বেশি বিটকয়েন ছিল। সেই সময় প্রতি বিটকয়েনের মূল্য প্রায় ১১৯,০০০ ডলারে পৌঁছানোয় তাদের মোট সম্পদের মূল্য দাঁড়িয়েছিল ১.৪ বিলিয়ন ডলার, যা দেশটির মোট জিডিপির ৪০ শতাংশেরও বেশি। তবে পরবর্তী সময়ে বাজারের স্বাভাবিক সংশোধনের ফলে এই সম্পদের মূল্যায়নে কিছুটা পরিবর্তন আসে। ২০২৬ সালের ৯ মার্চের সর্বশেষ লেনদেনের পর, সরকারি ওয়ালেটে বর্তমানে প্রায় ৫,৪২৪.৭০০টি বিটকয়েন অবশিষ্ট রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৭২ মিলিয়ন ডলার। এই সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কিউসিপি ক্যাপিটাল (QCP Capital) মার্কেট মেকার হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয়ভাবে বিটকয়েন ধারণকারী দেশগুলোর মধ্যে ভুটান বর্তমানে বিশ্বে সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে। এই তালিকায় তাদের উপরে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন, এল সালভাদর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। ভুটানের এই কার্যক্রমগুলো ডিজিটাল ট্রেজারি সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি শান্ত কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর উদাহরণ হিসেবে কাজ করছে। যদিও ২০২৬ সালের মার্চ মাসে বাজারের প্রযুক্তিগত নির্দেশকগুলো দরপতনের ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছিল, তবুও ভুটান সরকার এই অর্জিত অর্থ জনসেবা এবং বিভিন্ন জাতীয় উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যয় করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

2 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • The Block

  • KuCoin

  • News

  • Crypto Economy

  • Arkham

  • HOKANEWS.COM

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।