আংশিক রিপ্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে ত্বকের কোষের জৈবিক বয়স ৩০ বছর কমানো সম্ভব হলো

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

ক্যামব্রিজের একটি গবেষণাগারে বিজ্ঞানীরা এক অভাবনীয় ফলাফল প্রত্যক্ষ করেছেন: ৫৩ বছর বয়সী এক দাতার ত্বকের কোষকে বিশেষ কিছু প্রোটিনের স্বল্পকালীন সংস্পর্শে আনার পর দেখা গেছে, সেগুলো ২৩ বছর বয়সী ব্যক্তির কোষের মতো এপিজেনেটিক বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করছে। ডিএনএ মিথাইলেশন পদ্ধতিতে পরিমাপকৃত এই জৈবিক বয়স প্রায় ৩০ বছর কমে গেলেও কোষগুলো ত্বকের টিস্যুতে তাদের নির্দিষ্ট কার্যকারিতা বজায় রেখেছে। বাব্রাহাম ইনস্টিটিউটে প্রাপ্ত এই পর্যবেক্ষণ কেবল চিরযৌবনের কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে বার্ধক্যের যেসব পরিবর্তনকে আমরা অপরিবর্তনীয় মনে করি, সেগুলো আসলে মৌলিকভাবেই পরিবর্তনযোগ্য।

এই পদ্ধতিটি ২০০৬ সালে আবিষ্কৃত ‘ইয়ামানাকা ফ্যাক্টর’-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা প্রাপ্তবয়স্ক কোষকে স্টেম কোষে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয়। কোষের নিজস্ব পরিচয় যাতে হারিয়ে না যায়, সেজন্য এখানে এই প্রক্রিয়ার প্রভাবকে মাত্র তেরো দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বিশ্লেষণে কেবল বয়সের ছাপ কমার বিষয়টিই ধরা পড়েনি, বরং কোষের বিভাজন এবং ক্ষত সারিয়ে তোলার ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রমাণও পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন বয়সের দাতাদের ক্ষেত্রেও এই প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে, যদিও পুনর্যৌবন প্রাপ্তির মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন ছিল।

এই আবিষ্কারটি গবেষণার সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের সাথে মিলে যায় যেখানে বার্ধক্যকে কেবল ডিএনএ-র ক্ষতি হিসেবে নয়, বরং এপিজেনেটিক ত্রুটির সমষ্টি হিসেবে দেখা হয়। হোরভাথ ঘড়ি এবং এর মতো অন্যান্য সরঞ্জাম জৈবিক বয়স পরিমাণগতভাবে পরিমাপ করতে পারে এবং গবেষণাগারে সেগুলোর পরিবর্তনযোগ্যতা প্রমাণ করে যে বার্ধক্যের কর্মসূচি আসলে এমন সব সংকেতের মধ্যে লিপিবদ্ধ থাকে যা সংশোধন করা সম্ভব। তবে পেট্রি ডিশে পাওয়া ফলাফল আর একটি জীবন্ত শরীরের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, রক্তপ্রবাহ এবং কোষের অভ্যন্তরীণ সংকেতগুলো এই স্থানীয় উন্নতিকে হয় ত্বরান্বিত করতে পারে অথবা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে।

বার্ধক্যজনিত কোষ অপসারণ বা তরুণ প্লাজমা সঞ্চালনের মতো অন্যান্য কৌশলের তুলনায় আংশিক রিপ্রোগ্রামিং পদ্ধতিটি অনেক বেশি বৈপ্লবিক মনে হয় কারণ এটি কোষের কাজের মূল নির্দেশিকা বা ইন্সট্রাকশনেই পরিবর্তন আনে। তবে একই সাথে এখানে বড় ধরনের ঝুঁকিও রয়েছে: এই ফ্যাক্টরগুলোর অত্যধিক সক্রিয়তা অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন ঘটাতে পারে এবং যা থেকে টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেমনটি আগের কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, এই পদ্ধতির সাফল্য নির্ভর করে সঠিক ডোজ এবং প্রয়োগের স্থায়িত্বের ওপর, যা জীবন্ত মানবদেহে নিশ্চিত করা এখনও অসম্ভব।

এই প্রক্রিয়াটিকে একটি পুরনো পাণ্ডুলিপি সংস্কারের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। একজন সংস্কারক যেমন পুরো লেখাটি নতুন করে লেখেন না বা এর মূল বিষয়বস্তু পরিবর্তন করেন না, বরং কেবল সময়ের সাথে জমা হওয়া ধুলোবালি আর কালির প্রলেপ সরিয়ে মূল লেখাটিকে পড়ার যোগ্য করে তোলেন, এখানেও ঠিক তেমনটি ঘটে। কোষটি আগের মতোই ফাইব্রোব্লাস্ট হিসেবে থাকে, কিন্তু গত কয়েক দশকের ‘স্মৃতি’ আংশিকভাবে মুছে যাওয়ার ফলে এটি আরও দক্ষতার সাথে কাজ করতে সক্ষম হয়। এই উপমাটি স্পষ্ট করে দেয় কেন এই পদ্ধতি কোষকে অমর করে তোলে না কিংবা সেগুলোকে ভ্রূণ অবস্থায় ফিরিয়ে নেয় না।

গবেষণাগারের এই সাফল্যের পেছনে বড় অর্থনৈতিক স্বার্থও কাজ করছে: বেশ কিছু বায়োটেকনোলজি কোম্পানি ইতিমধ্যেই নিয়ন্ত্রিত রিপ্রোগ্রামিং ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে। তবে ভবিষ্যতের এই চিকিৎসা পদ্ধতির প্রাপ্যতা এবং সমাজ কীভাবে বার্ধক্যজনিত রোগের চিকিৎসা এবং মানুষের জীবনের স্বাভাবিক প্রকৃতি পরিবর্তনের সীমারেখা নির্ধারণ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট নৈতিক কাঠামো তৈরি হয়নি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কেবল নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় শর্তগুলো নির্ধারণ করতে শুরু করেছে।

সুতরাং, এই গবেষণাটি প্রমাণ করে যে বার্ধক্যকে একটি পরিবর্তনযোগ্য প্রোগ্রাম হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে পেট্রি ডিশ থেকে মানুষের শরীরে এর নিরাপদ প্রয়োগের যাত্রা কেবল প্রযুক্তিগত সমাধানের ওপর নির্ভর করবে না, বরং এর জন্য প্রয়োজন হবে সেই স্বচ্ছ ধারণা যে অতিরিক্ত কিছুটা সময়ের বিনিময়ে আমরা জীবনের কোন সীমানা বিসর্জন দিতে প্রস্তুত।

17 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Scientists have officially reversed the biological age of human skin cells by 30 years

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।