গর্ভাবস্থায় মানসিক বন্ধন: প্রসব-পরবর্তী আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও পিতামাতার সক্ষমতায় প্রভাব

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে গর্ভাবস্থায় মৌখিক সংযোগ স্থাপন করা গেলে তা প্রসব-পরবর্তী সময়ে পিতামাতার সহজলভ্যতা, সংবেদনশীলতা এবং সহানুভূতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। এই প্রাথমিক মাতৃ-ভ্রূণ বন্ধন শিশুর সামগ্রিক বিকাশের জন্য, বিশেষত তার আবেগ নিয়ন্ত্রণের ভিত্তি স্থাপনে, মৌলিক ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় মায়ের অতিরিক্ত মানসিক চাপ শিশুর প্রথম বছরে অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে, এমনকি এটি অকাল প্রসব এবং কম ওজনের শিশু জন্মেরও কারণ হতে পারে। উপরন্তু, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা পরবর্তীতে শিশুর শিক্ষণগত ও আচরণগত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

মায়ের শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল বৃদ্ধি পেলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা ভ্রূণের বিকাশকে ব্যাহত করে। সচেতন প্রসবপূর্ব সংযোগ মায়ের মানসিক চাপ ও উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে, যা তাকে নিয়ন্ত্রণ এবং স্থিতিশীলতার অনুভূতি প্রদান করে। মায়ের এই শান্ত অবস্থা সরাসরি ভ্রূণের আবেগ নিয়ন্ত্রণের ওপর প্রভাব ফেলে, কারণ শিশুর জৈবিক ব্যবস্থা মায়ের মানসিক অবস্থার প্রতি সাড়া দেয়। প্রসবপূর্ব যত্ন, যেমন নিয়মিত চেকআপ, মায়ের মানসিক সমর্থনও প্রদান করে, যা গর্ভাবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করে। প্রসবপূর্ব যত্নের মাধ্যমে ডাক্তাররা প্রাথমিক পর্যায়ে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ও প্রিক্ল্যাম্পসিয়ার মতো গুরুতর অবস্থা শনাক্ত করতে পারেন, যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষা করে। মায়ের প্রশান্তি নিশ্চিত করা শিশুর সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।

যেসব পিতামাতা নিয়মিতভাবে অনাগত শিশুর সাথে যুক্ত হন, তারা তাদের অভিভাবকত্বের সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান। দৃঢ় প্রসবপূর্ব সংযুক্তি প্রসব-পরবর্তী মিথস্ক্রিয়াকে সহজ করে, যা স্তন্যপান করানো এবং শিশুর চাহিদার প্রতি সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজির আহমেদ তুষার-এর মতে, শিশুর প্রতি যত্নশীল হওয়ার পাশাপাশি তার সাথে অবাচনিক আবেগীয় যোগাযোগের মাধ্যমে এই বিশেষ বন্ধন তৈরি হয়। প্রসবপূর্ব বন্ধন শিশুর সামাজিক যোগাযোগে পারদর্শী করে তুলতে পারে এবং অন্যের প্রতি সহমর্মী হতে সাহায্য করে। যে সকল শিশুর পিতামাতা গর্ভাবস্থায় উপস্থিত সংযোগ স্থাপন করেন, জন্ম-পরবর্তী সময়ে তাদের শান্ত থাকা এবং কম খিটখিটে হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

কার্যকর প্রসবপূর্ব সংযুক্তির কৌশলগুলির মধ্যে রয়েছে স্পর্শ করা, সঙ্গীত শোনা এবং শিথিলকরণ অনুশীলন। গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভের শিশুরা সঙ্গীতে সাড়া দিতে পারে এবং এটি মা ও শিশুর উভয়ের ওপর শান্তিদায়ক প্রভাব ফেলে। প্রসবকালীন যোগব্যায়ামও একটি চমৎকার উপায়, যা স্ট্রেস কমিয়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বাড়ায়। এছাড়াও, সঙ্গীর সমর্থন গর্ভাবস্থায় এবং তার পরেও মা ও শিশুর সর্বোত্তম বন্ধন এবং শিশুর ইতিবাচক সামাজিক-আবেগিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সংস্কৃতিতে শিশুর জন্মকে বিপদজনক মনে করা হলেও, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা, যেমন উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর প্রসবকালীন যত্ন, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। প্রসবপূর্ব যত্নের মাধ্যমে মা ও শিশুর মধ্যে বন্ধন দৃঢ় হয় এবং এটি মা ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে সহায়ক।

14 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • bibaleze.si

  • MDPI

  • MDPI

  • MDPI

  • Bibaleze.si

  • The Independent

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।