শিশুদের মানসিক দৃঢ়তা গঠনে অভিভাবকদের স্বাধীনভাবে সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
২০২৬ সালে মনোবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা শিশুদের মানসিক শক্তি বিকাশের জন্য অভিভাবকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন: তা হলো শিশুদের নিজস্ব সমস্যা নিজেরাই সমাধান করার সুযোগ দেওয়া এবং অভিভাবকদের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা। এই দৃষ্টিভঙ্গি শিশুদের মধ্যে আত্মনির্ভরশীলতা এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলার ক্ষমতা তৈরি করতে সহায়ক।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. ড্যানিয়েল আমেন দৃঢ়ভাবে মত দেন যে, অভিভাবকীয় অতি-সহায়তা, যেমন সন্তানের হয়ে স্কুলের কাজ সম্পূর্ণ করে দেওয়া, আসলে শিশুর আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক দৃঢ়তাকে দুর্বল করে দেয়। তিনি পরামর্শ দেন যে, যখন শিশুরা একঘেয়েমিতে ভোগে, তখন অভিভাবকের উচিত সহানুভূতিশীল প্রশ্ন করা, যেমন – "আমি ভাবছি তুমি এ ব্যাপারে কী করতে চলেছ?"। এই ধরনের প্রশ্ন শিশুকে নিজস্ব উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করে, যা দীর্ঘমেয়াদী মানসিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
ড. তোভা ক্লাইনও এই ধারণার সঙ্গে একমত পোষণ করেন, উল্লেখ করে বলেন যে শিশুদের হতাশা বা ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা থেকে রক্ষা করার প্রচেষ্টা স্থিতিস্থাপকতা বা সহনশীলতার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (APA) অনুসারে, স্থিতিস্থাপকতা হলো চ্যালেঞ্জের মুখে নমনীয়তার মাধ্যমে সফলভাবে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, যা শিশুদের ছোটখাটো ব্যর্থতার সম্মুখীন হওয়ার সময় সহানুভূতিশীল সমর্থন পেলে দৃঢ় হয়।
শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের উত্থান-পতনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করার জন্য, অভিভাবকদের উচিত তাদের জন্য সময় দেওয়া এবং মানসিক সংযোগ স্থাপন করা। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, স্থিতিস্থাপকতা বিকাশের জন্য কিছু মূল সুরক্ষামূলক উপাদান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী পারিবারিক সংযোগ বজায় রাখা, শিশুদের সহায়ক কাজে উৎসাহিত করা এবং ডিজিটাল অতিরিক্ততার মাঝেও দৈনন্দিন রুটিন কঠোরভাবে মেনে চলা। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা, বরগুনা ও টাঙ্গাইলের ১০টি স্কুলের ৪০০ জন অভিভাবককে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সাক্ষরতা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি প্রকল্পে এই ধরনের সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।
যখন শিশুদের প্রাকৃতিক পরিণতিগুলির মুখোমুখি হতে দেওয়া হয় এবং তাদের নিজস্ব কাজের দায়িত্ব নিতে উৎসাহিত করা হয়, তখন তারা ভবিষ্যতের কঠিন পরিস্থিতিগুলি আত্মবিশ্বাসের সাথে মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ মোকাবিলা করার দক্ষতা অর্জন করে। শিশুদের ছোট ছোট সিদ্ধান্তের প্রশংসা করা এবং তাদের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দেওয়া তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে, যা তাদের নতুন কাজ শুরু করতে আগ্রহী করে তোলে। তবে, শিশুদের অতিরিক্ত প্রশংসা করা থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এটি তাদের প্রকৃত অবস্থান বুঝতে বাধা দিতে পারে; বরং তাদের পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করা উচিত।
শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য তাদের নিজস্বভাবে সমস্যা সমাধানের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন, যেমন কোনো কঠিন কাজ দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করা এবং কেবল সাহস যোগানো, যাতে তারা 'আমি এটা করতে পারবো' এই অনুভূতি অর্জন করতে পারে। মনোবিজ্ঞানীরা আরও সতর্ক করেন যে, শিশুদের সমালোচনা বা উপহাসের মধ্যে বড় করা হলে তারা ভীতু হতে পারে, যা তাদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার প্রক্রিয়াটি একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, যেখানে তাদের ভুলগুলোকে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত, তিরস্কার করা উচিত নয়। এই পদ্ধতি শিশুদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত করে এবং তাদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করে।
4 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Pedijatar.mk
Times of India
Barnard College
Apple Podcasts
American Psychological Association
FADAA: Services Arm of the Florida Behavioral Health Association
এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



