
বিড়াল
শেয়ার করুন
লেখক: Svetlana Velhush

বিড়াল
বিড়ালের জগতে 'চিনচিলা' কোনো নির্দিষ্ট জাত নয়, বরং মেলানিন বিন্যাসের এক গাণিতিক সূক্ষ্মতা। কল্পনা করুন এমন একটি লোম যা পাহাড়ের স্ফটিকের মতো আগাগোড়া স্বচ্ছ ও নির্মল, শুধু একদম ডগায় সামান্য কালো রঙের ছোঁয়া লেগে আছে। ঠিক এই ১:৮ অনুপাতই ধবধবে সাদা বিড়ালের গায়ে যেন এক রুপোলি ওড়না জড়িয়ে দেওয়ার মতো আবহ তৈরি করে।

চিনচিলার পশমের রং:
যখন এমন কোনো বিড়াল চলাফেরা করে, তখন তা আক্ষরিক অর্থেই ঝিলমিল করে ওঠে। লোমের ডগা যদি কালো হয়, তবে আমরা একে 'সিলভার' বা রুপোলি বলি। যদি অন্য জিনের প্রভাবে সাদা পটভূমি এপ্রিকট বা খুবানি রঙের মতো হয়ে যায় এবং ডগা কালো বা বাদামি থাকে, তবে তাকে বলা হয় 'গোল্ডেন চিনচিলা'। প্রজননের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম ব্যয়বহুল ও জটিল একটি রং, যার জন্য ইনহিবিটর জিনের নিখুঁত ভারসাম্য প্রয়োজন।

বিড়াল
বিড়ালের কেন এমন রাজকীয় সাজের প্রয়োজন? বন্য পরিবেশে এই ধরণের বিশেষ আলোক-প্রভাব হালকা আলোতে বা পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করত। গৃহপালিত পরিবেশে এটি এখন নিছক নান্দনিক সৌন্দর্য হিসেবেই টিকে আছে। মজার ব্যাপার হলো, এই রঙের ক্ষেত্রে প্রকৃতি কিছু উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে: চিনচিলাদের চোখ, নাক এবং ঠোঁটের চারপাশে কালো রঙের গাঢ় 'আউটলাইন' থাকা বাধ্যতামূলক, যা তাদের পেশাদার মেকআপ করা মডেলের মতো আকর্ষণীয় করে তোলে।
এটি একটি চমৎকার উদাহরণ যে কীভাবে প্রজননবিদরা গাঠনিক রং (যা নিয়ে আমরা আগে আলোচনা করেছি) ব্যবহার না করেই কেবল একটি লোমের ভেতরের রসায়নকে সীমিত করে আলোর এমন অবিশ্বাস্য খেলা তৈরি করতে পারেন।
একজন সাধারণ বিড়াল মালিক কি 'চিনচিলা' এবং 'শেডেড' বিড়ালের পার্থক্য বুঝতে পারেন? কেবল পায়ের থাবার দিকে তাকালেই উত্তর পাওয়া যাবে: খাঁটি চিনচিলাদের আঙুলের মাঝখানের অংশ এবং গোড়ালি সাদা থাকে, যেখানে শেডেড বিড়ালের ক্ষেত্রে সেখানে কালচে আস্তরণ দেখা যায়।
CFA (The Cat Fanciers' Association)
TICA (The International Cat Association):