বিড়ালের চোখের বিশেষ শারীরস্থান: নিশাচরতার নেপথ্যের বিজ্ঞান
সম্পাদনা করেছেন: Katerina S.
বিড়াল হলো মূলত গোধূলিচর প্রাণী; অর্থাৎ ভোর এবং সন্ধ্যার আবছা আলোয় তাদের কার্যকলাপ তুঙ্গে থাকে। এই বিশেষ প্রবণতা তাদের দৃষ্টিশক্তির বিবর্তনীয় অভিযোজনের ফল, যা ন্যূনতম আলোতেও পরিবেশকে স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। মানুষের চোখের সংবেদনশীলতার সর্বনিম্ন সীমার চেয়ে প্রায় সাত গুণ কম আলোতেও তারা পারিপার্শ্বিক জগৎ দেখতে সক্ষম। এই অসাধারণ কার্যকারিতার মূলে রয়েছে বিড়ালের চোখের বিশেষ শারীরবৃত্তীয় গঠন।
বিড়ালের নিশাচর দৃষ্টিশক্তির মূল চালিকাশক্তি হলো একটি বিশেষ অঙ্গ, যা ‘ট্যাপেটাম লুসিডাম’ (Tapetum Lucidum) নামে পরিচিত। এটি রেটিনার ঠিক পেছনে অবস্থিত একটি প্রতিফলক স্তর। গুয়ানিন ক্রিস্টাল দ্বারা গঠিত এই স্তরটি অভ্যন্তরীণ আয়নার মতো কাজ করে। যে সমস্ত ফোটন আলোকরশ্মি সংবেদনশীল কোষ ভেদ করে চলে যায়, ট্যাপেটাম সেগুলোকে পুনরায় রেটিনার দিকে ফিরিয়ে দেয়। এর ফলে ফটোরিসেপ্টরগুলো আলোকরশ্মি ধরার দ্বিতীয় সুযোগ পায়। এই ট্যাপেটামের কারণেই অন্ধকারে আলো পড়লে বিড়ালের চোখ জ্বলে ওঠে; মানুষের ক্ষেত্রে এই আলো প্রতিফলিত হয় রক্তনালী থেকে, যার ফলে 'লাল চোখ' দেখা যায়। উল্লেখ্য, মানুষের চোখের ভেতরের অংশের তুলনায় বিড়ালের ট্যাপেটামের প্রতিফলন ক্ষমতা প্রায় ১৩০ গুণ বেশি হতে পারে।
ট্যাপেটাম ছাড়াও বিড়ালের দৃষ্টিতে আরও কিছু বিশেষ সুবিধা রয়েছে। তাদের চোখের মণিগুলো উল্লম্ব ফাটলের মতো আকৃতির হয়। এই আকৃতির কারণে তারা গোধূলি বা সন্ধ্যার আবছা আলোয় সর্বোচ্চ পরিমাণ আলো সংগ্রহ করার জন্য মণি প্রসারিত করতে পারে এবং দিনের উজ্জ্বল আলোয় রেটিনাকে রক্ষা করার জন্য দ্রুত সংকুচিত করতে পারে। এছাড়াও, বিড়ালের রেটিনাতে রড কোষের (যা গতি শনাক্তকরণ ও সাদাকালো দৃষ্টির জন্য দায়ী) সংখ্যা কোন কোষের (যা রঙের অনুভূতির জন্য দায়ী) তুলনায় অনেক বেশি থাকে।
দিনের বেলায় এই অভিযোজনগুলোর কারণে কিছু সীমাবদ্ধতাও দেখা যায়। বিড়ালের দৃষ্টি উজ্জ্বল রং শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মানুষের মতো ততটা পারদর্শী নয়। যদিও তাদের জগৎ সম্পূর্ণ সাদাকালো নয়, তবুও তারা মূলত ধূসর, সবুজ এবং নীল রঙের বিভিন্ন শেড দেখতে পায়। দূরত্বের ক্ষেত্রে মানুষের চেয়ে তাদের দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ হতে পারে, কিন্তু অর্ধ মিটারের কম দূরত্বে ছোট বস্তু বা খুঁটিনাটি বিষয় তারা মানুষের চেয়ে কম স্পষ্ট দেখতে পায়। অন্ধকারে শিকার এবং চলাচলের জন্য বিড়াল কেবল চোখের ওপর নির্ভর করে না; তারা অত্যন্ত উন্নত শ্রবণশক্তি এবং ভাইব্রিসা বা গোঁফের ওপরও নির্ভর করে, যা দূরত্ব পরিমাপ এবং বাতাসের অতি ক্ষুদ্র কম্পন শনাক্ত করার ক্ষেত্রে নির্ভুল যন্ত্র হিসেবে কাজ করে।
তবে, এই সমস্ত জৈবিক উন্নতির পরেও একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা আবশ্যক—বিড়াল সম্পূর্ণ অন্ধকারে, অর্থাৎ যেখানে আলোর কোনো উৎস নেই, সেখানে দেখতে পায় না। তাদের ফটোরিসেপ্টরগুলোকে সক্রিয় করার জন্য ন্যূনতম হলেও আলোর উপস্থিতি প্রয়োজন।
21 দৃশ্য
উৎসসমূহ
TAG24
Purina US
Coohom
KittyNook
Pumpkin Pet Insurance
GIGAZINE
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
