ইরানের ওপর মার্কিন হামলা স্থগিত: পরস্পরবিরোধী খবরের মধ্যে বিশ্ববাজারে স্বস্তি
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানীয় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে পরিকল্পিত সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা নিরসনে তেহরানের সাথে "অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং ইতিবাচক আলোচনার" পরিপ্রেক্ষিতে এই পাঁচ দিনের বিরতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই স্থগিতাদেশটি শর্তসাপেক্ষ এবং এটি চলতি সপ্তাহজুড়ে নির্ধারিত আলোচনার সফল অগ্রগতির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল।
এই ঘোষণার ফলে বিশ্ববাজারে বিরাজমান উদ্বেগ তাৎক্ষণিকভাবে প্রশমিত হয়েছে, যা আগে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক শেয়ার বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। ইরানের জ্বালানি সম্পদের ওপর হামলা স্থগিতের খবরের পরপরই ব্রেন্ট ক্রুডসহ অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্যে বড় পতন দেখা গেছে, যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতি ব্যারেল ১০০ মার্কিন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। ইউরোপীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও প্রায় ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই দরপতন ইঙ্গিত দেয় যে, সামরিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা ছিল, তা আপাতত কমেছে। উল্লেখ্য যে, উত্তেজনার চরম মুহূর্তে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১১১.৯৭ ডলারে পৌঁছেছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিবাচক আলোচনার দাবি করলেও, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো মার্কিন প্রশাসনের সাথে সরাসরি কোনো যোগাযোগ বা আলোচনার কথা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে। ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলার হুমকির মুখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পিছু হটেছেন। ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে "মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ" হিসেবে অভিহিত করেছে। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যগুলো কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রকৃত অবস্থা নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সামরিক পদক্ষেপ স্থগিতের খবরে ইউরোপীয় প্রধান শেয়ার বাজারগুলো তাদের প্রাথমিক লোকসান কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে এবং ইউরো স্টক্স ৫০ (Euro Stoxx 50) সূচকে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। মার্কিন শেয়ার বাজারগুলোও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় খোলার অপেক্ষায় ছিল কারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা ফিরে এসেছে। বিশেষ করে বিমান পরিবহনের মতো ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলোতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এই উত্থান মূলত বিনিয়োগকারীদের সেই আশাবাদের প্রতিফলন, যেখানে তারা মনে করছেন যে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের হুমকি আপাতত কমেছে। এমন সংঘাত হলে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ বাধাগ্রস্ত হতে পারত, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হয়।
এর আগে ২১শে মার্চ ট্রাম্প একটি আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন, যেখানে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন-ইরান দ্বন্দ্ব যখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে, তখন বাজারগুলো এই দীর্ঘস্থায়ী পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে শুরু করেছিল, যার ফলে সোনা ও তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ইতিপূর্বে ২৮শে ফেব্রুয়ারির হামলার পর ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ার বাজারে ধস নেমেছিল; তখন স্টক্স ৬০০ (Stoxx 600) সূচক ১.৯৪ শতাংশ কমে ৬২১.৫৭ পয়েন্টে এবং নিক্কেই ২২৫ (Nikkei 225) সূচক ১.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল।
বর্তমান এই পাঁচ দিনের বিরতি বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি সাময়িক স্বস্তি দিলেও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক থাকছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কৌশলগত পদক্ষেপ এবং ইরানের অনমনীয় অবস্থান বিশ্ববাজারকে আগামী দিনগুলোতেও সংবেদনশীল রাখবে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের প্রধান মনোযোগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
6 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Diario Primera Linea
Boursorama
TheQuint
Khyber News -Official Website
EL PAÍS
Cinco Días
Infobae
Agencia SANA
The Guardian
Al Jazeera
Federal Reserve
Cboe Global Markets
Financial Times
Al Jazeera
The Times of Israel
Reuters
The Washington Post
commonspace.eu
Al Jazeera
The Hindu
Gotrade
Wikipedia
The Washington Post
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



