সিরীয় ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস ও দামেস্কের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা: সিরীয় সেনাবাহিনীতে এসডিএফ-এর অন্তর্ভুক্তি ও দেশজুড়ে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি, শুক্রবার সিরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে। সিরীয় ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এবং দামেস্কের কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে একটি ব্যাপকভিত্তিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের তীব্র সংঘর্ষের পর এই সমঝোতা কেবল সম্মুখ সমরেই ইতি টানবে না, বরং কুর্দি সশস্ত্র বাহিনীকে পর্যায়ক্রমে সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীর কাঠামোর সাথে একীভূত করার পথ প্রশস্ত করবে। এই চুক্তির বাস্তবায়ন সিরিয়ার বহু বছরের সংকটে একটি আমূল পরিবর্তন আনবে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দামেস্কের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবে।
এই চুক্তির একটি প্রধান শর্ত হলো কুর্দি ইউনিটগুলোকে সিরীয় সেনাবাহিনীর বিশেষ ব্রিগেডে রূপান্তরিত করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসডিএফ-এর তিনটি ব্রিগেড নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিভিশন এবং আলেপ্পো প্রদেশে একটি পৃথক ব্রিগেড গঠন করা হবে। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা নিরাপত্তা বাহিনী এখন থেকে আল-হাসাকা এবং কামিশলির মতো শহরগুলোতে মোতায়েন হওয়ার সুযোগ পাবে, যেখানে আগে তাদের প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল। এর পাশাপাশি, কুর্দি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনিক কাঠামো এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে একীভূত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
চুক্তিটি কুর্দি জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করে। এর মধ্যে তাদের শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসডিএফ-এর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী 'আসায়িশ'-কে স্বায়ত্তশাসিত পুলিশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং হাসাকা ও আইন আল-আরব অঞ্চলে তাদের সিরীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাআ, যিনি গত ১৮ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন, কুর্দি ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা এবং নওরোজ উৎসবকে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিরিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি টম বারাক এই সমঝোতাকে জাতীয় পুনর্মিলন ও স্থিতিশীলতার পথে একটি "গভীর এবং ঐতিহাসিক মোড়" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনাটি সতর্ক আশাবাদের সৃষ্টি করেছে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল এসডিএফ-কে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সার্বভৌম সিরীয় সেনাবাহিনীর সাথে শান্তিপূর্ণ ও পর্যায়ক্রমিক একীভূতকরণের এই রাজনৈতিক পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তবে কিছু বিশ্লেষক দামেস্কের পক্ষ থেকে চুক্তির প্রতিটি শর্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালনের সদিচ্ছা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
এই বিশাল রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলের সাফল্য মূলত পূর্বাঞ্চলের তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করবে। দামেস্কের জন্য সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া একটি মৌলিক বিষয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সেনা প্রত্যাহার এবং বিকেন্দ্রীকরণ সংক্রান্ত শর্তাবলী সঠিকভাবে পালন করা অপরিহার্য। অন্যদিকে, মানবিক সংস্থাগুলো আশা করছে যে এই উত্তেজনা প্রশমনের ফলে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক জনগণের কাছে নিরবচ্ছিন্নভাবে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
সামগ্রিকভাবে, এই চুক্তিটি সিরিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে কুর্দি নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় সরকারের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যদিও বাস্তবায়নের পথে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও এই সমঝোতা সিরিয়ার সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছে।
9 দৃশ্য
উৎসসমূহ
POPULÄRE PRESSE
Anadolu Agency
Anadolu Agency
woxx
taz.de
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
