জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা (PLO) এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (PA) কর্মকর্তাদের ভিসা বাতিল ও প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার উপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে যে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ তাদের শান্তি বিষয়ক অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের জাতিসংঘে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই ভিসা বাতিলের ঘটনাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জুলাই ২০২৫-এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র PA এবং PLO সদস্যদের উপর অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং ফ্রান্সের মতো পশ্চিমা দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করছে। এই দেশগুলো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য শর্তাবলী নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের নিরস্ত্রীকরণ এবং হামাসকে ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো থেকে বাদ দেওয়া।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আবেদন করার বিষয়টিকে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করেছে। তবে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের রেজোলিউশনের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সদর দফতরে অংশগ্রহণকারী বিদেশী কূটনীতিকদের প্রবেশাধিকার সহজতর করার জন্য চুক্তিবদ্ধ। তবে, নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ এবং পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের অধিকারও তাদের রয়েছে। এই ঘটনাটি ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যার মতো জাতিসংঘের পূর্ববর্তী ব্যর্থতার একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এই ভিসা বাতিলের ফলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনায় কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এটি ফিলিস্তিনি নেতৃত্বকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে এবং এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ঐকমত্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক কৌশলের জটিলতাগুলোকেও তুলে ধরেছে, যেখানে একটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিগুলির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।