আগস্ট ২০২৫-এ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউ (UPR) থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা নভেম্বরের ২০২৫-এ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই সিদ্ধান্তটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের ফলস্বরূপ, যা ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ জারি করা হয়েছিল এবং এটি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে পূর্বের প্রত্যাহারের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে যে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে কাউন্সিলের নিন্দা জানাতে ব্যর্থতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইউপিআর হলো একটি প্রক্রিয়া যা ২০০৬ সালে মানবাধিকার কাউন্সিল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হয়। প্রতি সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছরে একবার প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রকে তাদের মানবাধিকার রেকর্ড মূল্যায়নের জন্য এই পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই পর্যন্ত ইউপিআর-এর তিনটি চক্রে অংশগ্রহণ করেছে, এবং তাদের সর্বশেষ পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছিল নভেম্বর ২০২০-তে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড এবং বৈশ্বিক মানবাধিকার প্রচারণায় দেশটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU) এবং পেন আমেরিকার মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। ACLU-এর মতে, এই সিদ্ধান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশগুলোর সারিতে দাঁড় করিয়েছে এবং এটি একনায়ক ও স্বৈরাচারদের আরও উৎসাহিত করবে। পেন আমেরিকা জানিয়েছে যে, এই প্রত্যাহার বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার থেকে একটি মৌলিক পশ্চাদপসরণকে নির্দেশ করে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ন্যায্যতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে তুলে ধরেছে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততার নীতি এবং মানবাধিকারের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের উপরও আলোকপাত করেছে। অতীতে, ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৮ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছিল, যা এই ধরনের পদক্ষেপের একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। এই প্রত্যাহারের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি এবং বৈশ্বিক মঞ্চে তাদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। এটি মানবাধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব এবং বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়নে জাতিসংঘের ভূমিকার উপরও আলোকপাত করেছে। এই ঘটনাটি মানবাধিকারের প্রতি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রাখে।